বিনোদন

প্রশংসিত ও বিতর্কিত নন্দনা

চলতি সময়ের আলোচিত অভিনেত্রী নন্দনা সেন শর্মা। শুধু নিজের জন্মস্থান কলকাতাতেই নয়, বলিউড এবং আন্তর্জাতিক প্রায় প্রতিটি ছবির মধ্য দিয়েও আলোচিত তিনি। গতানুগতিক গল্পের ছবিতে অভ্যস্ত নন নন্দনা। শুরু থেকেই বেছে বেছে কাজ করেন। আর সেই রুচিবোধই চলতি সময়ের একমাত্র আলোচিত বাঙালি আন্তর্জাতিক অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত তিনি।

১৯৬৭ সালে কলকাতার পশ্চিমবঙ্গে নন্দনা সেন শর্মার জন্ম। তার বাবা অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. অমর্ত্য সেন। আর মা ভারতের পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত স্বনামধন্য কবি-লেখক নবনীতা দেব সেন। বিখ্যাত এই দুই ব্যক্তিত্বের ঘরে নন্দনা সেনের মতো গুণী মেয়ের জন্ম হওয়াটাই স্বাভাবিক। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় নাম্বার ওয়ান ছিলেন নন্দনা। আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্যের ওপর পড়াশোনা করে প্রতি বছরই সেই ব্যাচের সেরা ছাত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। সে সময় থেকেই থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হন। লি স্ট্রেসবার্গ থিয়েটার ইনস্টিটিউট থেকে তিনি অভিনয়ের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। অভিনয়ে ক্যারিয়ার শুরুর আগে ইউনিসেফের অপারেশন স্মাইল-এর দূত হিসেবে কাজ করেন নারী অধিকার নিয়ে।

১৯৯৭ সালে গৌতম ঘোষের ‘গুড়িয়া’ ছবির মধ্য দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক হয় তার। মধ্যবয়সী পুরুষের যৌনাচারের শিকার একজন নারীর ভূমিকায় এখানে তিনি কাজ করেন। এখানে দুর্দান্ত অভিনয়শৈলীর পর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ইংরেজি ছবি ‘ফরেভার’, ‘সিডিউসিং মারিয়া’, ‘ভোকসু দ্য মিথ’, ‘দ্য ওয়ার ইউথিন’ ছবিতে কাজ করেন। লেসবিয়ান সেক্সকে গুরুত্ব দিয়ে ‘ওয়ার্ল্ড আনসিন’ ছবিতে অভিনয় করে ব্যাপক আলোচিত হন নন্দনা।

২০০৫ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালি পরিচালিত বিখ্যাত ছবি ‘ব্ল্যাক’-এ অভিনয় করেন। এরপর একে একে ‘মেরিগোল্ড’, ‘প্রিন্স’, ‘ঝুট হি সাহি’ ছবিগুলোতে কাজ করেন। ২০১০ সালে কলকাতার ‘অটোগ্রাফ’ ছবিটি তাকে আবারও আলোচনায় নিয়ে আসে। এসব ছবির মাধ্যমে নিজেকে অভিনেত্রী হিসেবে অন্যরকম উচ্চতায় নিয়ে গেছেন নন্দনা।

তার অভিনীত বেশির ভাগ ছবির প্রধান বিষয়ই হলো ‘সেক্স কিংবা যৌনতা’, যার কারণে বেশি আলোচিত ও একই সঙ্গে বিতর্কিত হয়েছেন তিনি। বলিউডে রণদীপ হুদার বিপরীতে চলতি বছর ‘রঙ রসিয়া’ নামক একটি ছবি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ২০১৩ সালে পেঙ্গুইন পাবলিশিংয়ের সিইও জন মেকিনসনকে বিয়ে করেন নন্দনা। স্বামী ও সংসার সামলানোর পাশাপাশি ৪৭ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী ভিন্নমাত্রার সব ছবিতে অভিনয় করে যাচ্ছেন। রূপ, গ্ল্যামার, আবেদন, শারীরিক সৌন্দর্য দেখলে এখনও মনে হয় না চল্লিশ পেরিয়েছেন নন্দনা।

সম্প্রতি ‘রঙ রসিয়া’ ছবির প্রচারণায় নন্দনা বলেছেন, যতদিন পর্যন্ত যৌবন থাকে ততদিন মানুষ প্রকৃতপক্ষে বেঁচে থাকে। সেক্স মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এ ছবিতেও সেক্সটাকেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বাস্তবিক বিষয়গুলোকে পর্দায় রূপ দিতে গিয়ে খোলামেলা কিংবা যৌন দৃশ্য অভিনয় করতে কখনও কুণ্ঠাবোধ করিনি, সামনেও করবো না।

সৌজন্য: দৈনিক মানব জমিন


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...