গৌরনদী সংবাদ

গৌরনদীর হজ্বযাত্রীদের নিয়ে প্রতারনা শুরু করছে কয়েকটি হজ্ব এজেন্সি ও দালাল চক্র

অধিক লাভের আশায় মক্কা-মদীনায় বাড়ী ভাড়ার নামে বরিশালের গৌরনদী ও পাশ্ববর্তি এলাকার শতাধিক হজ্বযাত্রীদের নিয়ে কয়েকটি হজ্ব এজেন্সি ও দালাল চক্র প্রতারনা শুরু  করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, প্রতারক চক্রটি বরাবরের ন্যায় এ বছরও হজ্ব শুরুর ২৫/৩০দিন আগে হজ্বযাত্রীদের সৌদী নিয়ে গেছেন। তার কাবা শরীফ ও মদীনা শরীফের আশপাশের অন্য এজেন্সির হাজীদের জন্য ভাড়া করা উন্নত মানের হোটেল ও বাড়ীগুলো খালি পরে থাকায় তাদেরকে সেখানে স্থান দেন। কিন্ত এবারের হজ্বের সময়ও তাদের ২০/২৫ কিলোমিটার দুরের বাড়ীতে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। হজ্বের পরে ওইসব হোটেল ও বাড়ী খালি হওয়ায় পূনরায় হাজীদের সেখানে এনে রাখবেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছেন। ফলে বার বার স্থান পরিবর্তন ও ল্যাগেজ নিয়ে  টানা-হেচড়ার কারণে হজ্বযাত্রীরা নানাভাবে হয়রানীর শিকার হওয়ার আশংকা করছেন। এ কারণে বরাবরের ন্যায় ব্যাহত হতে পারে তাদের পবিত্র হজ্বের নানা কার্যক্রম।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতি বছর অসংখ্য হজ্বযাত্রী হজ্বের সময় নানাভাবে হয়রানীর শিকার হলেও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেনা কেউ।

গতবছর হজ্বে গিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার বহু হজ্বযাত্রী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান,পবিত্র মক্কা-মদিনায় নিয়ে সারা দেশের হাজীদের জিম্মি করে বাসা ভাড়ার নামে প্রতারনা করছে বহু হজ্ব এজেন্সি ও তাদের নিযুক্ত দালালরা।  তাদের ভাষায় এ কার্যক্রমের নাম হচ্ছে, ফেতরা – ফেতনার হজ্ব বা প্রতারনার হজ্ব। হজ্বের আগে বাসা ভাড়া নিয়ে এ ধরনের প্রতারনা মূলক কর্মকান্ডের নাম দেয়া হয়েছে আউয়াল ফেতরা ও পরবর্তি সময়ের কর্মকান্ডের নাম আখেরী ফেতরা। ওই প্রক্রিয়ায় কয়েকটি হজ্ব এজেন্সি ও তাদের  নিযুক্ত দালালরা এ বছর গৌরনদী ও আশপাশ এলাকার অসংখ্য হাজীদের হজ্বে  নিয়ে তাদের সাথে ইতিমধ্যে প্রতারনা শুরু  করেছেন।

জানাগেছে, গৌরনদী ও পাশ্ববর্তি এলাকার কয়েকজন হজ্ব দালাল দীর্ঘদিন যাবত সৌদী আরবে নামেমাত্র ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে সম্পূর্ন অবৈধ পন্থায় হজ্বযাত্রীদের জন্য বাসাবাড়ী ঠিক করে দিচ্ছেন। এভাবে প্রতি হজ্ব মৌসুমে তারা  হজ্ব এজেন্সি ও হাজীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার রিয়াল।

ঢাকার রফিকুল ইসলাম নামের একজন হজ্ব ব্যবসায়ী জানান, মক্কা ও মদিনা শরীফের নিকটস্থ থ্রিষ্টার, ফাইভ ষ্টার হোটেল ও উন্নত মানের বাসাগুলো ভিআইপিদের জন্য বহু আগেই ভাড়া হয়েগেছে। ওইসব উন্নত হোটেলগুলো পুরো হজ্ব মৌসূমের জন্য ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার রিয়ালে ভাড়া হলেও এখন থেকে আরো ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত খালি পড়ে থাকবে। তিনি জানান,ভিআইপি হজ্বযাত্রীরা হজ্বের মাত্র কয়েকদিন আগে মক্কায় আসবেন, চলে যাবেন হজ্বের পরপরই। আর যে কারনে খালি পড়ে থাকা ওই সব হোটেল ও বাসাবাড়ীর দিকে টার্গেট থাকে প্রতারক চক্রের। তারা মালিকদের সাথে যোগাযোগ করে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ রিয়ালের বিনিময়ে ১৫/২০ দিনের জন্য হাজীদের ওই সব স্থানে ওঠান। প্রথমে বিলাস বহুল হোটেল ও বাড়ীতে উঠে হাজীরা মহা খুশি হন। হজ্ব শুরুর  কয়েকদিন আগে একই প্রক্রিয়ায় তাদের মদিনায় নিয়ে রাখেন। তবে হজ্বের সময় হেরেম শরীফের ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার দুরের ৪০০ থেকে ৫০০ রিয়াল ভাড়া বাড়ীতে হাজীদের রেখে টানা হেচড়া করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় হজ্ব করতে গিয়ে হাজীরা সঠিকভাবে পবিত্র হজ্বব্রত পালনে ব্যর্থ হন এবং ভোগান্তিতে পড়েন। এ ধরনের ফেতরা-ফেতনার হজ্বে সবমিলে জনপ্রতি বাসাবাড়ী বাবদ খরচ পড়ে মাত্র এক হাজার রিয়াল থেকে ১২ ’শ রিয়াল।

অপরদিকে মক্কা ও মদিনার কাছের স্থায়ী বাসাবাড়ী ভাড়া করতে জনপ্রতি খরচ হয় আড়াই হাজার থেকে ৪ হাজার রিয়াল। এসব বাসাবাড়ীতে থেকেই নিরাপদে হজ্বব্রত পারন করতে পারেন হজ্বযাত্রীরা। তারা একই বাসায় থেকে হজ্বের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করতে পারেন এবং সেখান থেকে ভালভাবে দেশে ফিরতে তাদের কোন রকম সমস্যায় পড়তে হয়না।

এ ব্যাপারে হজ্ব এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ( হাব ) এর বর্তমান সভাপতি আলহাজ্ব ইব্রাহিম বাহারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মক্কা-মদিনায় বাসা ভাড়া করার নামে কেউ কেউ হাজীদের ফেতরার হজ্ব করাচ্ছেন।

এ বিষয়ে কোন হজ্বযাত্রী সমস্যায় পড়লে আমাদের কাছে অভিযোগ করা হলে অভিযুক্ত হজ্ব এজেন্সি ও দালালদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।

জামাল উদ্দিন, গৌরনদী ডটকম


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...