বরিশাল

মামলামুক্ত সাদিক, অর্থ-অস্ত্রে এগিয়ে সরোয়ার, দরিদ্র প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তী

এম. মিরাজ হোসাইন: বরিশাল সিটি নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে অর্থবিত্তের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার। অন্যদিকে তেমন কোনো ধনসম্পদ নেই আওয়ামী লীগের সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর। আর মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে সব থেকে দরিদ্র বাসদের মনীষা চক্রবর্তী। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তবে মামলায় জর্জরিত বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার।

মনোনয়ন দাখিল করা মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে সব থেকে পুরনো রাজনীতিবিদ বিএনপির এডভোকেট মো. মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি টানা পাঁচ বারের এমপি, ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও মেয়র। হলফনামায় সরোয়ার নিজের সম্পদের বর্ণনাসহ নানা তথ্য দিয়েছেন। এলএলবি পাস সরোয়ারের বিরুদ্ধে বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে ১৩টি মামলা। আয়কর ফাঁকি, দুর্নীতি, হত্যাসহ এসব মামলার বিচার প্রক্রিয়া এখনো চলছে দেশের বিভিন্ন আদালতে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে থাকা আরো ৫টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে এবং সেসব মামলায় তিনি আদালত থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। সরোয়ারের বার্ষিক আয় ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৯৮৮ টাকা। এ ছাড়া নগদ অর্থ রয়েছে ১০ লাখ। শেয়ার ও বন্ড খাতে তার জমা টাকার পরিমাণ ৮৫ লাখ টাকা। রয়েছে দুটি প্রাইভেট কার এবং একটি জিপসহ মোট তিনটি গাড়ি। হলফনামায় দেয়া তথ্যানুযায়ী এসব গাড়ির দাম ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৫০ তোলা সোনা এবং প্রায় ১৪ লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে তার। আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে তিনটি। জমির পরিমাণ ৪ দশমিক ৬৩ একর। এর দাম ১৬ লাখ ৯ হাজার ৪২৬ টাকা।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ পেশায় ব্যবসায়ী। কোনো মামলা নেই তার বিরুদ্ধে। বাড়ি ভাড়া, ব্যবসা এবং বেতন বাবদ বছরে তার মোট আয় ৬ লাখ ১৫ হাজার ৪০০ টাকা। নগদ জমার পরিমাণ ৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্র আছে ২ লাখ টাকার। রি-কন্ডিশন একটি মাইক্রোবাস আছে সাদিক আবদুল্লাহর। সম্পদ বলতে রয়েছে রাজউক-এর পূর্বাঞ্চলে একটি আবাসিক প্লট এবং ঢাকার নিকেতনে একটি ফ্ল্যাট। দায়দেনা কিংবা কোনো প্রকার ঋণ নেই বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের। নেই কোনো আগ্নেয়াস্ত্রও।

সিটি নির্বাচনে সবচেয়ে দরিদ্র প্রার্থী বাসদের মনীষা চক্রবর্তী। এমবিবিএস পাস মনীষা পেশায় চিকিৎসক। দুটি মামলার আসামি মনীষার বার্ষিক কোনো আয় নেই। নগদ জমা আছে দেড় লাখ টাকা। ব্যক্তিগতভাবে ব্যাংকে জমা আছে ২৭ হাজার ৫০০ টাকা। স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে ৫ ভরি, তবে কোনো জমি নেই। নেই ব্যাংক ঋণ কিংবা দায়দেনা। পারিবারিকভাবে থাকা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রের একজন অংশীদার তিনি। এ ছাড়া অর্ধেক ভাগে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯০০ টাকার আরো একটি সঞ্চয়পত্র রয়েছে তার।

চরমোনাই পীরের সংগঠন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব। মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করা মাহবুবের বার্ষিক আয় ২ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা। কোনো মামলা নেই তার নামে। ৮ তোলা স্বর্ণ, ২টা ফ্রিজ এবং ১টি বন্দুকের পাশাপাশি নিজস্ব একটি যানবাহন রয়েছে তার। ৬ শতাংশ অকৃষি জমিসহ টিনসেড একটি ঘর রয়েছে এই মেয়র প্রার্থীর। কোনো দায়দেনা বা ঋণ নেই।

সিপিবির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছেন আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ। আইন পেশায় বছরে তার আয় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। নগদ জমা আছে ১১ লাখ ২০ হাজার। ৭ ভরি স্বর্ণ থাকলেও কোনো দায়-দেনা-ঋণ কিংবা জমিজমা নেই তার।

৪ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫০ টাকা বার্ষিক আয় খেলাফত মজলিশের প্রার্থী এ কে এম মাহবুব আলমের। নগদ অর্থের পরিমাণ ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৭৫০ টাকা। কোনো মামলা নেই তার বিরুদ্ধে। ৮ ভরি সোনা এবং একটি ল্যাপটপ আছে। এক দশমিক ৩৮ একর জমির মালিক তিনি। আছে একটি আধাপাকা টিনশেড ঘর। তবে কোনো দায়দেনা কিংবা ব্যাংক ঋণ নেই। মাহবুব আলমের শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...