গৌরনদী সংবাদ

ঈদের চতুর্থ দিনেও শাহী ৯৯ পার্কে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

ঈদুল ফিতরের তৃতীয় ও চতুর্থ দিনেও প্রকৃতির খোঁজে শহরের কোলাহল ছেড়ে দর্শণার্থীদের উপচেপড়া ভিড়ে মুখর ছিলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে নির্মিত বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের দেওপাড়া গ্রামে শাহী ৯৯ পার্ক। পৌর শহরের বাইরে একমাত্র এ বিনোদন কেন্দ্রে ঈদের দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্য়ন্ত অদ্যবর্ধি প্রতিদিন সকল বয়সের ভ্রমনপিপাসু কমপক্ষে ৩৫-৪০ হাজার লোকের সমাগম ঘটেছে। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে নারীর টানে বাড়িতে ফেরা জেলা ও পৌর শহরের মানুষদের কাছে শাহী ৯৯ পার্কটি বিনোদনের নতুন খোরাক জুগিয়েছে।

প্রতিদিন এখানে পৌর শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার ভ্রমনপিপাসুরা স্ব-পরিবারে ছুটে আসেন প্রকৃতির ছোয়া পেতে। বাদ পড়েননি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। এ বিনোদন কেন্দ্রে আনন্দ উল্লাস করে ভেসে বেড়াচ্ছেন শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সকল বয়সের দর্শনার্থীরা। এখানে ঈদের ছুটি উপভোগ করতে উচ্ছ্বাসের কোন কমতি ছিলোনা।

জানা গেছে, ২০১২ সালে প্রতিশ্রুতিশীল বৃক্ষপ্রেমি দেশের একমাত্র শাহী ৯৯ জর্দ্দা কোম্পানীর স্বত্তাধীকারি এবং বাংলাদেশ আওয়ামী তাঁতী লীগের ঢাকা মহানগরের (উত্তর) দক্ষিণখান থানার সাবেক সভাপতি শামীম আহমেদ তার নিজস্ব উদ্যোগে তার মায়ের মায়ের জম্মস্থান গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের দেওপাড়া গ্রামে শাহী ৯৯ পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত তিনি তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। দেশ-বিদেশ ঘুরে তিনি অসংখ্য স্ট্যাচু সংগ্রহ করে পার্কে স্থাপন করেছেন। এ পার্কে তিনি সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও লতার। ফলশ্রুতিতে পার্কের মধ্যে ১৪’শ প্রজাতির গাছপালা ও লতা রোপন করা হয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমির ন্যায় সাজানো অপূর্ব সব নৈশর্গিক দৃশ্যে ঘেরা বিনোদনমূলক শাহী ৯৯ পার্কে ঈদ ছাড়াও সবার জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১০ টাকা কুপনের মাধ্যমে উন্মুক্ত এ পার্কে প্রতিদিন দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় থাকে।

দর্শনার্থী তরিকুল ইসলাম, তৌফিক বেপারী জানান, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সকল বয়সের মানুষের চিত্ত বিনোদনের জন্য গৌরনদীসহ পাশ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে আজও কোন পার্ক কিংবা বিনোদন স্পট গড়ে ওঠেনি। অজপাড়া গাঁয়ে হলেও এতদাঞ্চলের সকল বয়সের মানুষের জন্য শাহী ৯৯ পার্ক বিনোদনের নতুন মাত্রা যোগ হওয়ায় আমরা ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পারছি।

দর্শনার্থীরা জানায়, থাই স্প্রীং বট, এ্যালমন, পেশন গাছসহ দেশ-বিদেশের ১৪’শ প্রজাতের গাছপালা ও লতা। সু-বিশাল পুকুরের চারিপার্শ্বে বিভিন্ন প্রজাতের ফুলগাছ ছাড়াও কৃত্রিম পশু-পাখি যেমন-কুমির, জিরাফ, বক, গরু, উট পাখি, কচ্ছপ, খরগোশ, পেঙ্গুইন, ভৌতিক মানুষের কঙ্কাল, সুপারম্যান, ফাইটারম্যান, ফুলসহ বিনোদনের অসংখ্য স্ট্যাচু দিয়ে প্রায় পাঁচ একর জমিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমির ন্যায় সাজানো হয়েছে অপরূপ সাজে।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...