লাইফ ও সাইন্স

সর্বদা খুশি থাকুন নিজের জীবন নিয়ে

পরিতৃপ্ত জীবনের জন্য কি চাই মানুষের? খুব ভালো চাকরি? বাড়ি-গাড়ি সম্পত্তি? অথবা একেবারে মনের মতো জীবনসঙ্গী? কিচ্ছু নয়। শুধুই প্রয়োজন সুখি হবার ইচ্ছেটুকু। আমাদের জীবনে সুখের সবচাইতে বড় বাধা তৈরি করি আমরা নিজেরাই। কারণ আমরা অলীক কিছু স্বপ্নের পেছনে দৌড়ে দৌড়ে নিজের জীবনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ সময়টাকে পার করে দেই। এখন সময় এসেছে এই পুরনো ধারণা পাল্টে ফেলার। জীবনে সুখি হবার জন্য পুরো পৃথিবীটাকে নয়, শুধু নিজের দৃষ্টিভঙ্গিটাকে একটু পাল্টে ফেলুন। সুখ নিজে থেকেই আপনার কাছে ধরা দেবে।

এমন কিছু জিনিসের তালিকা করুন যেগুলো আপনাকে আনন্দ দেয়

খুব সাধারণ কিছু জিনিসের তালিকা করুন। তালিকা বেশী বড় করবেন না। কি লিখবেন তা একান্ত আপনার ওপরেই নির্ভর করছে। আপনি হয়ত বন্ধুদের সাথে বেড়াতে পছন্দ করেন, অথবা ভালোবাসেন মাঝরাতে ছাদে গিয়ে পরিষ্কার আকাশের তারা গুনতে। খুব সাধারণ ব্যাপার, কিন্তু সেটা করলে এক নিমিষেই আপনার মন ভালো হয়ে যায়- এমন কোনও একটি ব্যাপার তো নিশ্চয়ই আছে। এগুলো দিয়েই একটা তালিকা তৈরি করুন। এরপর কি করবেন? তালিকাটি অনুসরণ করুন। সপ্তাহে অন্তত দুই-তিনবার এই তালিকার কোনও একটি কাজ করুন। এ ব্যাপারটা অভ্যাস হয়ে গেলে দেখবেন আপনার দিনগুলো এমনিতেই ভালো হয়ে যাচ্ছে।

সক্রিয় থাকুন

কি ধরণের ব্যায়াম করতে পছন্দ করেন আপনি? অনেকে নাচতে খুব ভালোবাসেন, কেউ নিয়মিত জিমে যান, কেউ আবার যোগব্যায়াম করতে ভালোবাসেন। সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, মার্শাল আর্ট- এসব ব্যাপারেও অনেকেই উৎসাহী থাকেন। আপনার যেটা করতে ভালো লাগে, সেটাই করুন। যে ভাবেই হোক শরীরকে চালু রাখুন। শরীর সক্রিয় থাকলে মনটাও ভালো থাকবে। খুব দ্রুত মনকে হালকা করার জন্য ব্যায়ামের জুড়ি নেই।

পরিমিত খাদ্যগ্রহণ

বেশী খেলেই যে শরীর বেশী ভালো থাকবে তা কিন্তু নয়! হালকা খাবার খান। আপনার যতটুকু দরকার তার চাইতে বেশী খাবেন না। এতে আপনার হজমের শক্তি বৃদ্ধি পাবে, শরীরে খাদ্য শোষিত হবে ভালোভাবে আর তাছাড়া শক্তি এবং সক্রিয়তাও বৃদ্ধি পাবে।

ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করুন

সারা বছর ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করতে গেলে অনেকের স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু যাদের এমন সমস্যা নেই তারা সকালে ঘুম থেকে উঠেই ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করার অভ্যাস করতে পারেন। নিমিষেই ঘুম চলে গিয়ে কর্মোদ্যম ফিরে আসবে। শরীরের রক্ত চলাচল বাড়ায়, বিষণ্ণতা কমায়, ত্বক এবং চুল ভালো রাখে, সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে এই ঠাণ্ডা পানির গোসল।

কথা কম বলার অভ্যাস করুন

অন্যদের সাথে যখনই কোনও ব্যাপারে আলোচনা করবেন অথবা আড্ডা দেবেন, তখন মনোযোগ দিয়ে কথা শুনুন এবং কথা বলার সময়েও একটু বেশী সময় ভাবুন। আমাদের জীবনের বেশিরভাগ সমস্যাই হবার কারণ হলো আমরা বেশী কথা বলি এবং চিন্তা না করে কথা বলি। অন্যদের কথা শোনার সময় তাদের কথার সুরের দিকে লক্ষ্য রাখুন। কথা বললেই যে তার প্রত্যুত্তর দিতে হবে এমনটা নয়। দরকার না হলে উত্তর দেবেন না। আর এটা মনে রাখুন, যে নেতিবাচক কথা বলা বা ঝগড়া করার চাইতে চুপ করে থাকাটাই শ্রেয়। লক্ষ্য করে দেখুন, কথা কম বলার ফলে আপনার কতটা উপকার হচ্ছে। অযথা কথা বলা কমিয়ে দিলে অন্যের কথার প্রতি আপনার মনোযোগ বাড়বে, কমে যাবে অযাচিত ঝগড়া এবং মনোমালিন্য। খুব সহজেই অনেক নেতিবাচক ব্যাপার থেকে মুক্ত হবে আপনার জীবন।

দিনে অন্তত ১০ মিনিট রৌদ্রে থাকুন

চোখে এবং ত্বকে সূর্যালোক এসে পড়লে মনটা ভালো হয়ে যাবে আপনা থেকেই। শুধু তাই নয়, বিষণ্ণতা দূর করতেও এটি কার্যকর। আর রৌদ্রে গেলে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি হয়ে এটা আমরা সবাই জানি। স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এর বিকল্প নেই।

টিভি বন্ধ করে দিন

টিভি দেখে যে সময়টা ব্যয় করছেন, সে সময়টা অনেক বেশী দরকারি কাজে ব্যয় করতে পারবেন আপনি। ভালো কোনও বই পড়ুন। প্রিয়জন, বন্ধু বা পরিবারের কারও সাথে কথা বলুন। অন্যরকম কিছু করুন। আপনার মনের ওপরেই তার প্রভাব পড়বে।

সৃজনশীল হয়ে উঠুন

সবাই শিল্পী হতে পারেন না বটে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনি সৃজনশীল কিছু করতে পারবেন না। রান্না করতে পারেন, ইচ্ছে মতো নাচ-গান করতে পারেন, ডায়েরি লিখতে পারেন, নতুন একটা কৌতুক শিখতে পারেন। কত রকমের কাজ রয়েছে পৃথিবীতে। নিজে থেকে কিছু তৈরি করুন। সময় পেলে ঘরতাকে একটু অন্যভাবে সাজান, বাগান তৈরি করুন। আনন্দে মন ভরে উঠবে।

প্রকৃতি উপভোগ করুন

আমরা প্রকৃতিরই অংশ। আমাদের জীবন থেকে প্রকৃতি যত হারিয়ে যাচ্ছে, ততই আমাদের মাঝে একটু একটু করে কষ্ট জমা হচ্ছে। আমাদের শরীর তো বটেই মনেরও ক্ষতি হচ্ছে প্রকৃতির সান্নিধ্য কমে যাওয়ায়। শুধু তাই নয়, নিজের জীবনটাকেও প্রকৃতির মতো স্বাভাবিক করে আনতে চেষ্টা করুন। খুব জোর দিয়ে কোনোকিছু করতে চাইবেন না। এটা মাথায় রাখুন , যে প্রাকৃতিক নিয়মেই সবকিছু হবে। নিজেকে কল্পনা করুন একটি বন্ফুলের মতো, সব প্রতিকূলতা সহ্য করেই যে টিকে থাকে।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...