জাতীয়

ধর্মভিত্তিক দলগুলো তারেক রহমানের বক্তব্যে ফুঁসে উঠেছে

তারেক রহমানের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলো। ইসলামি রাজনৈতিক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধর্মকে কেন্দ্র করে কোনও রাজনৈতিক দল হতে পারে না-এমন বক্তব্য দিয়ে তিনি ইসলাম ও কোরআনের অবমাননা করেছেন।

পবিত্র কোরআনের উদ্ধৃতি নিয়ে আলেমরা বলছেন, ধর্মকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দল হতে পারে না এমন বক্তব্য সরাসরি কোরআনের বিরুদ্ধাচরণ। বিএনপির জোট-সঙ্গী ও ভোটসঙ্গী কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক ইসলামি দলগুলোর মতে, এতে করে বিএনপির সঙ্গে অন্য ধর্মভিত্তিক দলগুলোর দূরত্ব বাড়বে। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলছেন, আধুনিক বিশ্বে ধর্মভিত্তিক রাজনীতিও এক ধরনের বিভ্রান্তি। তবে তারেক রহমানের বক্তব্যে কোনও প্রভাব পড়বে কি-না, তা তিনি বলেননি।

জোটের আরেক প্রতিষ্ঠাতা শরিক দল খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ মুনতাসির আলী বলেন, তারেক রহমানের ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে গভীর অজ্ঞতা রয়েছে। এতে করে জোটের অভ্যন্তরে জটিলতা তৈরি হবে।
তারেক রহমানকে মনে রাখতে হবে এদেশে ফিরতে হলে এবং জনমানুষের রাজনীতি করা ইসলামের বিরুদ্ধে বলে সম্ভব হবে না। তা হলে দেশের মানুষ তাকে প্রত্যাখ্যান করবে।

সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের অন্যতম শীর্ষ নেতা, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব আল্লামা জাফরুল্লাহ খান বলেন, প্রথমত, প্রধানমন্ত্রী পুত্র জয় ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেকের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। দুজনেরই ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে সমান অজ্ঞতা রয়েছে। ভদ্রলোক (তারেক) ইসলামি রাজনীতিকে অস্বীকার করেছেন। রাজনীতিতে ধর্ম নেই, বা ধর্মকে কেন্দ্র করে রাজনীতি হতে পারে না, এমন কথা বলার মানেই হচ্ছে কোরআনের পরিষ্কার বিরোধিতা করা। তারেক রহমান এই কাজটিই করেছেন।

ইসলামি গবেষক ও লেখক জাফরুল্লাহ খান আরও বলেন, নিঃসন্দেহে তারেক রহমানের বক্তব্য ইসলামের বিরোধিতা করেই দেওয়া হয়েছে। সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব, মসজিদ মিশনের সেক্রেটারি জেনারেল ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী বলেন, তারেক রহমান “ইসলামী রাজনীতি চলতে পারে না” বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা প্রত্যাহার করে তাকে তাওবা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শতকরা ৯৫ ভাগ মুসলমানের এদেশে ধর্মীয় রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অর্থই হলো ইসলামি রাজনীতি তথা জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। পবিত্র কুরআনের ১২৮ স্থানে এবং হাদিস শরীফের অসংখ্য জায়গায় জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ তথা ধর্মীয় রাজনীতি ফরজ করা হয়েছে। অথচ তারেক রহমান কোন সাহসে, কীসের লোভে, কাদের চাপে এহেন জঘন্য ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্য দিতে সাহস করলেন তা মুসলিম উম্মাহকে ভাবিয়ে তুলেছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল বলেন, ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থার নাম। তারেক রহমান যে বক্তব্য দিয়েছেন, কোনও ইসলামি দল তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হতে পারে না। অন্যদিকে তওবা না করলে তারেক রহমানকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা করেছে নাস্তিক মুরতাদ প্রতিরোধ কমিটি।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

Tags

আরো পোষ্ট...