গৌরনদী সংবাদ

মাত্র দুই জন ডাক্তারের অভাবে গৌরনদী হাসপাতালের ২টি অপারেশন থিয়েটার আজও চালু হয়নি

একজন সার্জারী বিশেষজ্ঞ ও একজন এ্যানেসথেশিয়া ডাক্তারের অভাবে গত ২৮ বছরেও বরিশালের গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে ২টি অপারেশন থিয়েটার (ওটি) চালু হয়নি।

সরকার লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫০ শষ্যায় বিশিষ্ট এ হাসপাতালের উপর ও নীচ তলায় ২টি স্বংক্রীয় আধুনিক অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করলেও তা রোগীদের কোন কাজে আসছেনা। দীর্ঘদিন যাবত অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকার কারণে অপারেশন থিয়েটারের মেশিনপত্র ও সার্জিক্যাল সরঞ্জামাদি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অথচ এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোন নজর দিচ্ছেন না।

জানা গেছে, এলাকার জনসাধারনের চিকিৎসা সেবাদানের লক্ষ্যে ১৯৮৭ সালে গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠী এলাকায় বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের পূর্ব পাশে ৩১শয্যা বিশিষ্ট একটি সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এ উপজেলা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠাকালে এর নিচ তলায় আধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ  ১টি অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করা হয়। কিন্তু ১ জন সার্জারী বিশেষজ্ঞ ও একজন এ্যানেসথেসিয়ার (অজ্ঞান করার) ডাক্তারের অভাবে শুরু থেকে গত ২৮ বছর ধরে অপারেশন থিয়েটারটি বন্ধ রয়েছে।

২০০৭ সালে গৌরনদী উপজেলা হাসপাতাল ভবনটির গা ঘেষে আরেকটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয় এবং একই সাথে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ওই সময় নতুন ভবনের উপর তলায় পোষ্ট-অপারেটিভ রুমসহ ৫টি রুম নিয়ে তৈরি করা হয় আরো একটি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার। ওই বছর অপারেশন থিয়েটারটি চালুর জন্য সরকার আরো একটি আধুনিক এ্যানেসথেশিয়া মেশিন ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি গৌরনদী হাসপাতালে পৌঁছে দেয়। কিন্তু অপারেশন থিয়েটার চালুর জন্য অদ্যবধি কোন ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়নি। ফলে ওই অপারেশন থিয়েটারটি চালু করাও সম্ভব হয়নি।

গত ৭ বছর ধরে অপারেশন থিয়েটারের এ মেশিনপত্র এখন পর্যন্ত বাক্সবন্দি অবস্থায় রুমের মধ্যে পড়ে রয়েছে। ফলে এ হাসপাতালে ২টি অপারেশন থিয়েটার থাকা সত্ত্বেও মাত্র ১ জন অভিজ্ঞ সার্জারী ও ১জন এ্যানেসথেশিয়া ডাক্তারের অভাবে তা রোগীদের কোন কাজে আসছেনা। সামান্য অপারেশনের জন্য রোগীদের বাধ্য হয়ে প্রাইভেট  ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে।

সরেজমিন গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ২টি ওটিই বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবত অপারেশন থিয়েটারের মেশিনপত্র অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকার কারণে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

অপরদিকে হাসপাতালের একমাত্র এক্স-রে মেশিনটিও গত ৫ বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। কিন্তু মেরামত করা হচ্ছে না। এছাড়া হাসপাতালে কোন এ্যাম্বুলেন্স না থাকার কারণে রোগীদের পরিবহনে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মোসলেম উদ্দিন খান বলেন, এ হাসপাতালে ওটি চালুর ব্যাপারে চিকিৎসক নিয়োগের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার আবেদন করা হয়েছে। একই সাথে এক্স-রে মেশিনটি মেরামত করা ও একটি এ্যাম্বুলেন্স চেয়ে বহুবার আবেদন করা হলেও এ ব্যাপারে সাড়া মিলছেনা।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

Tags

আরো পোষ্ট...