গৌরনদী সংবাদ

গৌরনদীর ৭ ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল, বিতরন শুরু

ঈদ উপলক্ষে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ১১ হাজার ৪শত ২৫টি হতদরিদ্র দুঃস্থ পরিবারের মাঝে বিতরনের জন্য ভিজিএফর চাল গত সোমবার এসেছে। চাল পাওয়া মাত্রই বিতরন শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানরা।  মঙ্গলবার বিতরন শেষ হবে বলে তারা আশাবাদি।  চাল পেয়ে বেজায় খুশী ভিজিএফ সুবিধাভোগীরা।

গৌরনদী উপজেলা ত্রান ও পূর্নবাসন দপ্তর ও খাদ্য নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গৌরনদী উপজেলার বার্থী, খাঞ্জাপুর, চাঁদশী, মাহিলাড়া, বাটাজোর, সরিকল ও নলচিড়া ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ১১ হাজার দুঃস্থ হতদরিদ্র পরিবারের জন্য ত্রান ও পূর্নবাসন মন্ত্রনালয় গত ২২ জুন প্রতি পরিবারে ২০ কেজি করে ২শত ২৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানরা গতকাল সোমবার জানান, খাঞ্জাপুর ইউনিয়নে ২০০৭টি পরিবারে ৪০.১৪০, বার্থী  ইউনিয়নে ১৮৫৫ পরিবারের ৩৭.১০০, চাঁদশী ইউনিয়নে ৯৬৩ পরিবারে ১৯.২০০, মাহিলাড়া ইউনিয়নে ১১৫৫ পরিবারের২৩.১০০, বাটাজোর ইউনিয়নে ১৭৪৫ পরিবারে ৩৪.৯০০, নলচিড়া ইউনিয়নে ১৮৮৫৫ পরিবারে ৩৭.১০০ ও সরিকল ইউনিয়নে ১৮৫৫ পরিবারের জন্য  ৩৭.৯০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ করা হয়। গতকাল সোমবার সকালে সকল ইউনিয়নে চাল পৌছেছে বলে তারা স্বীকার করেন।

গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নুর অলম সেরনিয়াবাদ বলেন, ঈদের আগে ইউনিয়নের দুঃস্তদের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরন সম্ভব হবে কিনা এ নিয়ে খুবই চিন্তায় ছিলাম। অবশেষে গতকাল সোমবার উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর ঘাটে জাহাজ থেকে সরাসরি চাল গ্রহন করে এলাকায় নিয়ে এসে বিতরন শুরু করেছি।

নলচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধা বলেন, আজ (গতকাল সোমবার) দুপুরে চাল পেয়েছি এবং দুঃস্তদের মাঝে বিতরন শুরু করেছি।

সরিকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন মোল্লা বলেন, আমি রবিার রাতে আংশিক ও সোমবার বরাদ্ধকৃত চাল হাতে পেয়ে বিতরন শুরু করেছি। আশা করি আজ মঙ্গলবার বিতরন শেষ করতে পারবো।

চাল পাওয়ার একই কথা জানালেন বাটাজোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রব হাওলাদার, বার্থী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান প্যাদা ও চাঁদশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কৃঞ্চ কান্ত দে।

ভিজিএফ সুবিধাপ্রাপ্ত সরিকল ইউনিয়নের শাহজিরা গ্রামের মরিয়ম বেগম(৪৫), মহীষা গ্রামের জামাল খান(৪০), খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের মাগুরা মাদারীপুর গ্রামের সেতারা বেগম (৫০), নলচিড়া ইউনিয়নের পিংলাকাঠী গ্রামের সেরজান মিয়া (৫২), চাঁদশী ইউনিয়নের উত্তর চাঁদশী গ্রামের তালেব আলী (৬০) চাল পেয়ে খুশীর কথা জানিয়ে বলেন, মোরা চাউল পাইয়া খুবই খুশী। কারন এ্যাহন আর চাউল কেনার চিন্তা নাই, খাবার যোগার হয়েছে। সামান্য কিছু টাকা আছে যা দিয়া এ্যাহন পোলাপানরে জামা কিইননা দিতে পারমু। ঈদ তো গুড়াগাড়ার (ছোটদের) ওরা ঈদের আনন্দ করতে পারবে।

এ প্রসঙ্গে গৌরনদী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তা বি,এম, সফিকুল ইসলাম গতকাল সোমবার জানান, আমাদের পরিশ্রম ও প্রচেষ্টা সার্থক। অভ্যন্তরীন চলাচল কর্মসূচীর মাধ্যমে চাল আমদানি করে ঈদের আগে পৌছে দিতে পারছি এবং জনপ্রতিনিধিরা ঈদের আগেই দুঃস্থদের মাঝে বিতরন করছেন।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply