গৌরনদী সংবাদ

সিল মেরে উপহার মিললো গনধোলাই!

স্টাফ রিপোর্টারঃ দুলাল মিয়া। ৩৫ বছরের এক তাগড়া জোয়ান। প্রতিদিন মাঠে হাড় ভাঙ্গা খাটুনি করে পরিবারের জন্য দুবেলা অন্ন তুলে দিতে। কিন্তু আজ ঘটে তাতে ছন্দ পতন। কারণ আজ আকাঙ্খিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে আর সকলের মত সেও গেছে ভোটকেন্দ্রে। দিন আনে দিন খাওয়া দুলাল মিয়ার বাড়ীতে হয়তোবা আজ চুলা জ্বলেনি। কিন্তু তাতে কি পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার আনন্দ যে তাকে সবকিছু থেকে ভুলিয়ে রেখেছে। এজন্য চৈত্রের রোদে ঘাম ঝরিয়ে লাইনে দাঁড়ায় সে। একসময় ভোট দেবার সুযোগও  হয় তার। খানিকটা রোমাঞ্চিত। আঙুলে কালি লাগিয়ে ব্যালট নেয়। তখনই ঘটে বিপত্তি ঘটে। স্থানীয় আওয়ামীলীগের সমর্থক শামীম মিয়া দুলালকে বলে, ভোট দিতে পাবি, কিন্তু প্রকাশ্য দেখিয়ে ব্যালট পেপারে সিল মারতে হবে। কিন্তু কে জানতো সেই সিলটাই তার কাল হয়ে যাবে। সরল মনে সেও প্রকাশ্যেই ব্যালটে সিল মারে তার কাঙ্কিত প্রার্থী মির্জা সেকেন্দার আলমের প্রতীক ধানের শীঁষে। আর এতেই ঘটে বিপত্তি। এতে ক্ষীপ্ত হয় শামীম। মারধর শুরু করে দুলালকে। দুলাল হকচকিত। কিছুই বুঝে উঠতে পারেনা। ওদের কথা মতই তো প্রকাশ্যেই সিল মারলাম তাহলে মারছে কেন? যখন বুঝতে পারছে ততক্ষণে দুলালের অবস্থা খারাপ। প্রহসনের এই নির্বাচনে দেখিয়ে ভোট দেয়া মানে, নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়া। গ্রামের সরল দুলাল তা বুঝতে পারেননি। তাই বোকামির দন্ড দিতে হল মার খেয়ে।

ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের বদরপুর রেজিস্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। মজার বিষয় সেই কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থী মির্জা সেকান্দার আলম ওই একটি ভোটই পেয়েছেন।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply