সারা বাংলা

বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা

বগুড়া: আনুষ্ঠানিকভাবে দুই বছরের গোপন প্রেমের সর্ম্পক সামাজিক বৈধতা পাওয়ার কথা ছিল রোববার সন্ধ্যায়। এ কারণে এইচএসসি পরীক্ষার্থী আতাউর রহমান আপেলের পরিবার প্রস্তুত ছিল। কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় মেয়ের বাবা জানিয়ে দেয় তার মেয়েকে এখনই বিয়ে দিবেন না। মেয়ে এসএসসি পাশ করলে আপেলের সাথেই বিয়ে দিবেন বলে মৌখিকভাবে জানিয়ে দেন।।কিন্তু আপেল এ কথা মেনে নিতে পারেনি। তাই রোববার সকালে সে ঘরে থাকা কীটনাশক পান করে। পরে পরিবারের লোকজন তাকে অসুস্থ অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।  দুপুরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আপেল বগুড়া সরকারি শাহসুলতান কলেজ থেকে এবছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতো। সে শাজাহানপুর উপজেলার সুজাবাদ বালাপাড়া গ্রামের  তরকারি ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, বালাপাড়া গ্রামের ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে দুই বছর আগে থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে আপেলের। সম্প্রতি তাদের প্রেমের বিষয়টি উভয়ের পরিবারের মধ্যে জানাজানি হয়। ফলে উভয়ের পরিবার বসে রোববার তাদের বিয়ের দিন নির্ধারণ করে। এরই মধ্যে গ্রামের কিছু সচেতন ব্যক্তি মেয়ের বাবাকে বাল্যবিয়ের বিষয়টি জানায়। মেয়ের বাবা বিয়ের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি  জানিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় আপেলের বাবাকে জানান। আপেলের বাবা-মাও বিষয়টি মেনে নেয়। কিন্তু বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় আপেল মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। রোববার সকাল থেকেই আপেল  ঘরে একাকী অবস্থান করে। বাড়িতে তার বাবা-মা না থাকার সুযোগে সকাল ১০টার দিকে ঘরে রাখা কীটনাশক পান করে আপেল। প্রতিবেশীরা বুঝতে পেরে আপেলকে নিয়ে যায় হাসপাতালে । সেখানেই মারা যায় আপেল। আপেলের মৃত্যুর খবরে উভয় পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।

আপেলের বাবা আলমগীর হোসেন বলেন, বিয়ে না হওয়ায় তার ছেলে আত্মহত্যা করেছে।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply