গৌরনদী সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ আলম খান আর নেই, বিভিন্ন মহলের শোক

গৌরনদী ডটকম প্রতিবেদক: ঐতিহ্যবাহী গৌরনদী উপজেলা পরিষদের দু’বারের জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যান, মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গৌরনদীর সর্বজন গ্রহনযোগ্য বরেণ্য রাজনীতিবিদ আলহাজ্ব মোঃ শাহ আলম খান (৬২) আর নেই। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার সকাল দশটায় নগরীর নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্নালিল্লাহির…রাজিউন)। তার মৃত্যুর সংবাদ গৌরনদীতে ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব রেখে গেছেন। ওইদিন বাদ জুম্মা বরিশাল নগরীতে প্রথম জানাজা ও বাদ মাগরিব গৌরনদীতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তিখাসার গ্রামের পারিবারিক গোরস্তানে দাফন করা হয়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বরিশাল বাসভবনে ও গৌরনদীতে জানাজায় জনতার ঢল নামে। দল মত গোত্র নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ প্রিয় মানুষটিকে এক নজর দেখার জন্য ভীড় জমায়। শাহ আলম খানের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার ৪৫ বছরের রাজনীতির অধ্যায় শেষ হল। তার মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানান বরিশাল-১ আসনের সাংসদ ও সাবেক চীফ হুইপ, বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসনাত আবদুল্লাাহ, বরিশাল-২ আসনের সাংসদ এ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ  Forhad Munshiইউনুস, বরিশাল -১ আসনের সাবেক সাংসদ এম, জহির উদ্দিন স্বপন, অগ্রনী ব্যাংকের পরিচালক এ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সাধারন সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, গৌরনদী উপজেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা বিশ্ব-বিদ্যালয় মহসিন হল ছাত্র সংসদের সাবেক জি,এস এ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ হারিছুর রহমান, গৌরনদী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ জয়নাল আবেদীন হাওলাদার, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও বরিশাল উত্তর জেলা সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হোসেন মিয়া, ঢাকাস্থ গৌরনদী- আগৈলঝাড়া সমিতির সভাপতি সৈয়দ জিয়াউর রহমান নবু, বরিশাল পরিক্রমার সম্পাদক কাজী শিউলী, গৌরনদী বিআরডিবির সাবেক ও পৌর নাগরিক কমিটির সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম জহির, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি বিআরডিবির চেয়ারম্যান মোঃ মনির হোসেন মিয়া, সাধারন সম্পাদক মোঃ কবির হোসেন খান, ইউপি চেয়ারম্যান আকন সিদ্দিকুর রহমান, মোঃ শাহজাহান প্যাদা, কৃঞ্চ কান্ত দে, সৈকত গুহ পিকলু, আকতার হোসেন বাবুল, গোলাম হাফিজ মৃধা, মঞ্জুর হোসেন মিলন।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহাবুব আলম, সহকারী পুলিশ সুপার নাইমুল ইসলাম, গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আলাউদ্দিন মিলন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ ফরহাদ হোসেন মুন্সী, মহিলা ভাইসচেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী, উপজেলা আওয়ামী সাবেক সভাপতি ও হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কালীয়া দমন গুহ, উজিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ জামাল হোসেন, সাধারন সম্পাদক আঃ মজিদ শিকদার বাচ্চু, আনোয়ার প্রি কাডেট এর অধ্যক্ষ মাকসুদা হোসেন, প্রেসক্লাবের সভাপতি খোন্দকার মনিরুজ্জামান মনির, সাধারন সম্পাদক সঞ্জয় পাল, সাবেক সম্পাদক খোকন আহম্মে হীরা, গৌরনদী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতিসৈয়দ নকিবুল হক, সহ-সভাপতি মোঃ খায়রুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক আবু সাঈদ খন্দকার, চন্দ্রদ্বীপ সাহিত্য সমাজের সাধারন সম্পাদক শিকদার রেজাউল করিম,
বিশিষ্ট গৌরনদী বাসষ্টা- ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নুর মহাম্মদ হাওলাদার, সাধারন সম্পাদক অহিদুল হক খান, সাবেক পৌর মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ নুর আলম হাওলাদার, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা আঃ বাতেন নোমান, আলহাজ্ব হযরত মাওলানা হাফেজ কামরুল ইসলাম খান, পৌর বিএনপির সভাপতি এস,এম, মনিরুজ্জামান মনির, সাধারন সম্পাদক মোঃ শাহ আলম ফকির, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউজ্জামান মিন্টু, ব্যবসায়ী ব্যবসায়ী মোঃ আলাউদ্দিন ভূইয়া, বার্থী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিয়া, গৌরনদী রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতিমোঃ রফিকুল ইসলাম সবুজ, গৌরনদী ডটকমের সম্পাদক, প্রকাশক ফাহিম মুর্শেদ, সহ সম্পাদক এইচ,এম সুমন, গৌরনদী২৪ ডটকমের নির্বাহী সম্পাদক মোঃ আনিসুর রহমান, কালব এর পরিচালক রাশেদুজ্জামান ঝিলাম, পৌর কাউন্সিলর আতিকুর রহমান শামীম, তৌফিক ইকবাল সজল, মোঃ রেজাউল করিম টিটু, সাবেক কাউন্সিলর শাহনাজ পারভীন, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী তাসলিমা বেগম, সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও বিএনপি নেতা আ,ফ,ম রশিদ দুলাল, ডেনমার্ক বিএনপির সভাপতি কর্নেল, সাধারন সম্পাদক স্বপন ভিপি, উপজেলা যুবলীগের নেতা মোঃ আল আমিন, গৌরনদী উপজেলা যুবদলের সভাপতি শরীফ স্বপন, সাধারন সম্পাদক রফিক চোকদার, পৌর যুবদলের সভাপতি নান্না খান, সাধারন সম্পাদক জামাল হাওলাদার, গৌরনদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতিজোবায়েরুল ইসলাম সান্টু, সাধারন সম্পাদকলুৎফর রহমান দিপ, সরকারী গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগেরসুমন মাহমুদ, সাধারন সম্পাদক রাতুল শরীফ, পৌর সভাপতি মিলন খলিফা, সাধারন সম্পাদক প্রিন্স রোলান্ড বেপারী, ইসলামি উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি বায়েজীদ শরীফ।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

1 thought on “গৌরনদী উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ আলম খান আর নেই, বিভিন্ন মহলের শোক”

  1. সর্বজন শ্রদ্ধেয় জননেতা শাহ আলম খানের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি, আল্লাহ পাক তাকে ক্ষমা করে জান্নাত নসিব করুন এই দোয়া করি। গৌরনদীর রাজনীতির সাথে পুরো তিন যুগের সংশ্লিষ্টতা ছিলো তাঁর। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান, তাঁর বাবা জয়নুল আবেদীনও ছিলেন মাহিলারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। সে সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানই হচ্ছেন প্রকৃত জনপ্রতিনিধি। সাংসদরা থাকলেও তারা ছিলেন দূর আকাশের তারা, তাদের কাজকর্ম, ওঠাবসা নেতাদের সাথে, তারা ছিলেন নেতাদের নেতা। সাধারণ জনগণের তাদের কাছে প্রবেশাধিকার ছিলো না, তেমন প্রয়োজনীয়তাও ছিলো না, ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার, আর এর বেশি হলে চেয়ারম্যান এইই সরকার, এইই প্রশাসন। তখনো গৌরনদী পৌরসভা হয়নি, আমাদের গ্রামটাও (দক্ষিণ বিজয়পুর) তখন মাহিলারা ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত। আমাদের স্মরণে থাকা প্রথম জমজমাট নির্বাচনটা ছিলো ইউনিয়ন পরিষদের; যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন শাহ আলম খান। তিনি জয়ী হবেন এমন ধারণা ছিলো সবার, সম্ভবত: সেই ধারণাই কাল হয়েছিলো। অরক্ষিত কিংবা অমনোযোগিতায় পরেছিলো অনেক কেন্দ্র, যার পরিণতি হয়েছিলো চমকের ফলাফল। একেবারে ‘অজানা’ ‘আনকোরা’ হারুন কবিরাজ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন। পরে শাহ আলম খান মাহিলারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হয়েছেন, হয়েছেন গৌরনদী উপজেলা চেয়ারম্যান। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন ছিলো কারো কারো মাঝে। কিন্তু একটা বিষয়ে কারো মাঝেই প্রশ্ন ছিলো না আর তা হচ্ছে, যে কেউ শাহ আলম খানের সাথে গিয়ে কথা বলতে পারতেন, বলতে পারতেন সমস্যার কথা। সামাজিক অশান্তি বৃদ্ধি করে এমন জিনিষগুলো তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেন, মামলা মোকদ্দমা আর পুলিশি কাজ কারবার নিরুৎসাহিত করতেন, উৎসাহ যোগাতেন সামাজিক নিষ্পত্তিতে। ঢাকায় অনেকবার তাঁর সাথে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে, তখন টিভিতে (বাংলাভিশনে) রিপোর্টিং করতাম, তিনি আমাকে টিভিতে দেখেছেন সে কথা তাঁর কাছ থেকে অনেকবার শুনেছি, তিনি খুশির সাথেই এই কথাটি বলতেন। উপজেলা পরিষদ নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন করেছি, তিনি নিজে টিভিতে কথা বলতেন না, কিন্তু সহযোগিতা করেছেন দু’ তিনজন চেয়ারম্যানকে কথা বলার জন্য রাজি করিয়ে। ব্যক্তিগতভাবে তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতা দুটোই অপরিসীম। তাঁর মৃত্যু গৌরনদীর স্থানীয় পর্যায়ে দারুণ শূণ্যতা সৃষ্টি করেছে। তিনি ছিলেন ক্ষমতাবান ও ক্ষমতাহীনের মধ্যে ভারসাম্য সৃষ্টিকারী। তাঁর মৃত্যুতে ক্ষমতাহীন ও দুর্বলরা বিপন্ন হবেন এমন আশংকার কথা আসছে ঘুরেফিরে আশা করি সেটা হবে না, গৌরনদী উপজেলাবাসী নিশ্চয়ই একজন চেয়ারম্যান পাবেন, কিন্তু একজন শাহ আলম খান পাবেন না এমন আশংকা আছে, সে আশংকা অমূলক হোক, শাহ আলম খানের চে’ বেশি না হোক অন্তত তার মতো ‘ক্ষমতার ভারসাম্য’ রক্ষাকারী একজন মানুষই আমরা পাবো গৌরনদীর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে সে প্রত্যাশা করি, আর সেটাই হবে শাহ আলম খানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সবচে’ বড় ও কার্যকর উপায়।

Leave a Reply