গৌরনদী সংবাদ

পৌরসভা নির্বাচন -২০১৫ : কারচুপির আশঙ্কায় কাউন্সিলর প্রার্থী হয়নি বিএনপির নেতাকর্মিরা

এইচ এম সুমন/বেলাল হোসেনঃ বরিশালের গৌরনদী পৌরসভায় বিএনপি অধ্যুষিত হওয়ার পরেও নির্বাচনের নামে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রহসন ও ব্যালট ছিনিয়ে নেওয়ার আশঙ্কায় এবারে কোন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হননি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির নেতা কর্মি ও সমর্থকরা।

নির্বাচন অফিস, দলীয় সূত্র ও পৌরবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ৩ ডিসেম্বর গৌরনদী পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ৩৮ টি ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১১ টি মনোনয়নপত্র জমা পরেছে। শনিবার মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে কাউন্সিলর পদে ৩৮ টি ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১০ টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষনা করেন রিটানিং অফিসার ও নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদ হাসান পাটোয়ারী। এর মধ্যে বিএনপির নেতা কর্মি ও সমর্থকরা কোথাও প্রার্থী হননি। বিএনপি ও অঙ্গদলের নেতা কর্মিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এখানে নির্বাচনে সাধারন ভোটারের ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকায় এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী প্রার্থীদের পক্ষে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভরার আশংকায় কেউই প্রার্থী হননি।

গৌরনদী পৌরসভা ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও ওই ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মো. সহিদ ঘরামী, ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আলাউদ্দিন সরদার, ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মো. ফরিদ হোসেন মিয়া বলেন, গৌরনদীতে নির্বাচনের নামে প্রহসন করা হয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ কেন্দ্র দখল নিয়ে ভোট গ্রহন শুরু হতে না হতেই সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে এবং ভোটারদের ভোট দিতে দেয়া হয়না। এ নির্বাচনে গিয়ে ভোটারদের রায় প্রদানের সুযোগ নেই তাই এবারে আমরা কেউই প্রার্থী হইনি। সংরক্ষিত আসনের সাবেক কাউন্সিলর ও গৌরনদী উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলাদলের সহ-সভাপতি শাহনাজ পারভীন বলেন, ভোটাররা যদি তার মনের প্রার্থীকে ভোট দিতে না পারে সেই নির্বাচনে যাওয়ার চেয়ে না যাওয়াই শ্রেয়। আরেক সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর ও বরিশাল উত্তর জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলাদলের যুগ্ম আহবায়ক হোসনে আরা বেবী বলেন, এ নির্বাচনে সাধারন ভোটারের রায়ের প্রতিফলন দেখার কোন সুযোগ নেই তাই আমি সহ আমার দলের নেতা কর্মিরা প্রার্থী হতে অনুৎসাহীত। তাহলে মেয়র পদে কেন দলীয় প্রার্থী দিলেন এ প্রশ্নের জবাবে অনেকেই বলেন, মেয়র পদে প্রার্থী দিতে তাই! পরিনাম একই।

বিএনপি সমর্থক ও ১ নং ওয়ার্ডের ভোটার আবুল কালাম (৪০), ২ং ওয়ার্ডের ভোটার নুর আলম খান(৫০), ৩নং ওয়ার্ডের ভোটার আ. সালাম সরদার(৩২)সহ অনেকেই বলেন, অতীতে ভোট দিতে কেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট পেপার হাতে নেওয়ার সাথে সাথেই ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষের লোকজন তা ছিনিয়ে নেন। গৌরনদী উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলাদলের সভাপতি তাসলিমা বেগম জানান, গত নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে লাখ লাখ খরচ করেছিলাম কিন্তু আমার সমর্থিত ভোটাররা ভোট প্রদান করতে পারেনি তাই এবার প্রার্থী হইনি। এ প্রসঙ্গে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক মো. আবুল হোসেন বলেন, গত উপজেলা নির্বাচনে আমি দলীয় মনোনয়ন নিয়ে প্রার্থী হয়েছিলাম ভোট গ্রহন শুরুর এক ঘন্টার মধ্যে ভোট শেষ করেছে ক্ষমতাসীনরা যে কারনে দলের নেতা কর্মিরা প্রার্থী হতে আগ্রহী নন।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply