গৌরনদী সংবাদ

মাদকে সর্বনাশ গৌরনদী!

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে (স্পট) অবাধে চলছে মাদকের ব্যবসা। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দুই সিপাহিকে নিয়মিত মাসোয়ারা দিয়েই এই ব্যবসা চলছে। গেল ঈদকে সামনে রেখে মাদক কারবারিরা আরো সক্রিয় হয়ে উঠে বলে জানা গেছে। মাঝেমধ্যে পুলিশ মাদকসহ কারবারিদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়। কিন্তু কিছুদিন পরে তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার মাদক বিক্রি শুরু করে। মাদক কেনার টাকা জোগাড় করতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে কেউ কেউ।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড, গৌরনদী বন্দর, টরকী বাসস্ট্যান্ড, টরকী বন্দর, টরকীর চর, কসবা, দক্ষিণ পালরদী, কটকস্থল, তাঁরাকুপি, বার্থী, ইল্লা, খাঞ্জাপুর. ভূরঘাটা, বাকাই হাট, চাঁদশী. আশোকাঠি, বিল্বগ্রাম, মাহিলাড়া, বাটাজোর, চন্দ্রহার, নলচিড়া, শরিকল, হোসনাবাদ, পিঙ্গলাকাঠিসহ ৪০টি স্থানে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, রেক্টিফায়েড স্পিরিট, প্যাথেডিন, গাঁজাসহ নানান মাদক দেদার বিক্রি হচ্ছে।

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গৌরনদীর বিভিন্ন স্থানে ৩৫-৪০ জন কারবারি মাদক বিক্রি করছে। মোটরসাইকেল নিয়ে মাদকাসক্তরা হাজির হয় এসব স্থানে। পুলিশ স্পটগুলো থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা পায়। ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যসহ পাঁচ-ছয়জন চিহ্নিত মাদকব্যবসায়ী দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, যাত্রীবাহী বাস, আমের ঝুড়ি, কাঁঠাল ও তরকারিবোঝাই ট্রাকযোগে মাদক আমদানি করে ওইসব স্থানে পাইকারিভাবে সরবরাহ করে আসছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক এলাকাবাসী জানান, ধনী পরিবারগুলোর বখে যাওয়া সন্তান ও গরিব পরিবার থেকে রাজনৈতিক দলের ক্যাডার হয়ে উঠে আসা বখাটে ছেলেরাই মূলত ওই মাদক সেবন ও খুচরা বিক্রি করে। মাদকের মূল ব্যবসায়ীরাও কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মী। রাজনৈতিক ক্ষমতার পালা বদলে শুধু এ ব্যবসার সিন্ডিকেটের নেতৃত্বের হাত বদল হয়।

সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় প্রত্যেক স্থানে দু-তিনজন করে খুচরা বিক্রেতা বেশ দাপটের সঙ্গে এই মরণনেশার ব্যবসা চালাচ্ছে।

বখাটে তরুণ-যুবকদের পাশাপাশি বখে যাওয়া তরুণী-যুবতীরাও ওই স্থানগুলোতে এসে মাদক কিনছে বলে জানা গেছে। ফলে এখানে মাদকসেবীর সংখ্যা ও সামাজিক অবক্ষয় দিন দিন বাড়ছে। মাদকসেবীরা মাদক কেনার জন্য চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গৌরনদীর মাদকব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের একাধিক সূত্র জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গৌরনদী সার্কেলের দুই সদস্য এবং গৌরনদী থানার একজন উপপরিদর্শক (এসআই) ও একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মাদকব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছেন। তাঁরা মাসোয়ারা নেওয়ার বিনিময়ে মাদক ব্যবসার সুযোগ করে দিয়েছেন। ফলে মাদক বিক্রির ওই স্থানগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ধরতে পুলিশ কখনো অভিযানে নামে না। মাঝেমধ্যে মাদকের বড় বড় চালান আটক করে বা মাদক আমদানিকারকদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ বাহ্বা নেয়। পরে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে এসে আবার তারা মাদক আমদানিতে লিপ্ত হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে গৌরনদী থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, ‘থানার দু-একজন অফিসারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেলে ওই অফিসারদের বিভাগীয় বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।’

সম্প্রতি বেশ কিছু মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা হয়েছে বলে তিনি জানান।

কালেরকন্ঠের সৌজন্যে গিয়াস উদ্দিন মিয়া


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

Tags

আরো পোষ্ট...