জাতীয়

কণ্ঠরোধ নয় কল্যাণের জন্যই জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা: তথ্যমন্ত্রী

জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের জন্য নয়, এটি করা হয়েছে কল্যাণের জন্যই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

সোমবার সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এমন্তব্য করেন। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার গেজেট প্রকাশের পর এ নিয়ে বিএনপিসহ বিভিন্ন মহলের বিরূপ সমালোচনার পর এই প্রথম সরকারের ব্যাখ্যা নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে আসলেন মন্ত্রী।

এসময় সম্প্রচার মাধ্যমের ‘স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা’ প্রতিষ্ঠা করে সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে এই নীতিমালা করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ইনু।

তথ্যমন্ত্রী দাবি করেন, সম্প্রচার নীতিমালা গণমাধ্যমের জন্য কল্যাণকর। সম্প্রচার নীতিমালায় তথ্য মন্ত্রণালয়কে কোনো ক্ষমতা দেওয়া হয়নি; বরং মন্ত্রণালয় সম্প্রচার মাধ্যমের ওপর থেকে বিদ্যমান দায়িত্ব গুটিয়ে নিয়ে কমিশনের হাতে সেই দায়িত্ব অর্পণের জন্য স্বপ্রণোদিত হয়ে এই নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।

ঘোষিত সম্প্রচার নীতিমালায় বলা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত কোনো বাহিনীর প্রতি কটাক্ষ, বিদ্রূপ বা পেশাগত ভাবমূর্তি বিনষ্টকারী দৃশ্য বা বক্তব্য প্রচার করা যাবে না- এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ নেই। এ ধারায় সত্য প্রকাশে বিরত থাকতে বলা হয়নি। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেন, তার বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে বাধা নেই।

সম্প্রচার নীতিমালার বিভিন্ন বিষয় সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক- এমন সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। সংবিধানের ৩৯ ধারা অনুযায়ী এবং দেশের প্রচলিত আইনের সঙ্গে সংগতি রেখেই এই নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, এই সম্প্রচার নীতিমালা নির্দেশনামূলক। এটা কোনো আইন নয়। সম্প্রচার কমিশনই সম্প্রচার মাধ্যমসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করবে।

মন্ত্রী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব সম্প্রচার কমিশন গঠনের জন্য আমরা কাজ করে যাব।

নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির সদস্যদের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলন হয়নি- এমন অভিযোগের জবাবে ইনু বলেন, কমিটির সদস্যদের যুক্তিযুক্ত প্রস্তাব সবই গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, আগামীতে এ নীতিমালার ভিত্তিতে আইন হবে। তাই এই নীতিমালার কোনো ব্যাখ্যা থাকলে আইন প্রণয়নের সময়ে সেই ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, সশস্ত্র বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় অথবা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ায়, এমন বিষয় প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে টেলিভিশন ও রেডিওর জন্য গত ৪ অগাস্ট সম্প্রচার নীতিমালা অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। গত ৮ অগাস্ট এই নীতিমালার গেজেট প্রকাশ করে তথ্য মন্ত্রণালয়। নিয়মানুযায়ী ওই দিন থেকেই নীতিমালাটি কার্যকর হয়েছে।

বিএনপি এই নীতিমালাকে ‘সম্প্রচার নিয়ন্ত্রণ ও দলনের নীতিমালা’ আখ্যায়িত করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে। সাংবাদিকদের একটি অংশ এই নীতিমালা বাতিলের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভও করেছে।

সম্প্রচার নীতিমালা বিষয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মহসীন আলীর বক্তব্য তার একান্ত ব্যক্তিগত, এটা সরকারের বক্তব্য নয় বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এসময় তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর হয়ে দুঃখও প্রকাশ করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করতে চায় না বা তাদের অধিকার খর্ব করতেও চায় না। এ সম্পর্কে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর বক্তব্য তার একান্ত ব্যক্তিগত, এটা সরকারের মন্তব্য নয়।

তথ্যমন্ত্রী সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সম্পর্কে বলেন, তিনি আমাদের চমৎকার সহকর্মী, হাসিখুশি মানুষ। তিনি যা বক্তব্য দিয়েছেন তা গণমাধ্যম প্রকাশ করেছে। পরে তিনি নিজের এ মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর হয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সাংবাদিকদের বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান।

এছাড়া ঈদের আগে বাংলাদেশ টেলিভিশনে বিতর্কিত ব্যক্তি মুসা বিন শমসেরকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিশন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আজকালের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

Tags

আরো পোষ্ট...