গৌরনদী সংবাদজাতীয়

জাতীয় সংসদে গৌরনদী-কে জেলা ঘোষণার দাবী

১০ম জাতীয় সংসদের ৬ষ্ঠ অধিবেশনে জনাব আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্ এমপির বাজেট বক্তৃতার পূর্ন বিবরন।

মাননীয় স্পীকার, বাজেট বক্তব্যের শুরুতে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মম ভাবে নিহত বেগম ফজিলাতুন নেসা মুজিব, শেখ আবু নাসের, শেখ কামাল, শেখ জামাল, সুলতানা কামাল, রোজি জামাল এবং শেখ রাসেলকে। আমি স্মরণ করছি বঙ্গবন্ধুর সাথে নিহত আমার শ্রদ্ধেয় পিতা তৎকালীন মন্ত্রী শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত, আমার বোন আরজু মণি, বেবী সেরনিয়াবাত, ভাই আরিফ সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, ভগ্নিপতি শেখ ফজলুল হক মণি এবং আমার ৪ বছরের শিশুপুত্র সুকান্তবাবুকে। আমি আরও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি জাতীয় চারনেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে। আমি স্মরণ করছি সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদেরকে। আমি সমবেদনা জানাচ্ছি সেসকল পরিবারের প্রতি, যারা বিএনপি-জামায়াত চক্রের ধ্বংসাত্মক নাশকতায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন এবং এখনও যারা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মাননীয় স্পীকার, বাজেট বক্তব্যের শুরুতে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে। যিনি আমাকে মনোনয়ন দিয়ে সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই, আমার বরিশাল জেলার গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার সাধারণ মানুষকে, যাঁদের দোয়া ও ভালবাসায় আজ আমি মহান সংসদে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পেয়েছি।

মাননীয় স্পীকার, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভার সুযোগ্য অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আব্দুল মুহিত গত ৪ জুন ২০১৫ তারিখ মহান জাতীয় সংসদে ২ লক্ষ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকার যে বাজেট উপস্থাপন করেছেন তা সত্যিই জনবান্ধব ও প্রশংসনীয়। তিনি জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দিন বদলের ঘোষণা ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার দৃপ্ত অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা বাজেটের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। সেজন্য আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।

মাননীয় স্পীকার, প্রতিবছর শেষে বাজেটের আকার বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নত এবং সমৃদ্ধশালী হচ্ছে তাই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বাড়ছে আমাদের বাজেটের আকার। ২০১৫-১৬ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে আকার ২ লক্ষ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এটি জিডিপি’র প্রয় ১৭.২ শতাংশ। ২০১৪-১৫ সংশোধিত বাজেটের আকার ২ লক্ষ ৩৯ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেট গত অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে প্রায় ২৩.১৩ শতাংশ বেশী। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ২০ হাজার ২২২ কেটি ৭৪ লক্ষ টাকা। যা প্রস্তাবিত বাজেটের ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এবারের বাজেট ঘোষণার পর জনগণের পক্ষ থেকে বাজেটের বিপক্ষে কোন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

মাননীয় স্পীকার, জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা এবং জাতীয় উন্নয়ন কর্মকান্ডের সকল স্তরে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায়। এ লক্ষ্যে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ আমাদের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আমাদের গত মেয়াদে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ এবং পৌরসভার ক্ষমতা ও দায়িত্ব সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সেজন্য স্থানীয় সরকারের দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং জেলা পরিষদ নির্বাচনের ব্যবস্থা নিতে হবে।

মাননীয় স্পীকার, আপনি জানেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবার বর্গের কল্যাণ ও পূর্নবাসনের লক্ষ্যে আমাদের বর্তমান সরকার নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করছে। যেসব মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স ৬৫ বছর অতিক্রম করেছেন তাদের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আমি আপনার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের বয়সের শর্ত প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করছি।

মাননীয় স্পীকার, বিএনপি জামায়াত জোট সরকার দেশ শাসনের নামে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। সারের দাবীতে আন্দোলনরত ১৭জন কৃষককে তারা হত্যা করে। তারা আমাদের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ্ এ এম এস কিবরিয়া, সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ্ মাস্টার, খুলনার মঞ্জুরুল ইমাম, নাটোরের মমতাজ উদ্দিনকে হত্যা করে। তারা ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা চালায়। আমাদের নেত্রী আল্লাহ্’র রহমতে প্রাণে বেঁচে গেলেও সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমানের সহধর্মীনী আইভী রহমানসহ ২২জন নেতাকর্মীকে হত্যা করে। তাদের সময় বাংলা ভাই ও শায়ক আবদুর রহমানের উত্থান হয়। তারা বোমা মেরে ঝালকাঠী ও গাজীপুরে বিচারক হত্যা করে। সারা দেশে সিরিজ বোমা হামলা চালায়। বৃটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীকে হত্যার চেষ্টা করে। তারা জঙ্গিনেতা বাংলা ভাইকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় এনেছে অথচ সাবেক অর্থ মন্ত্রী কিবরিয়া সাহেবের জন্য হেলিকপ্টার পাঠায়নি। তারা ১০ ট্রাক অস্ত্র এনে ধরা পড়ে। বাংলাদেশকে চোরাচালানের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে। তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমান হাজার হাজার কোটি টাকা এদেশ থেকে বিদেশে পাচার করে।

মাননীয় স্পীকার, ২০১৩ সালের শেষ দিকে বিএনপি-জামায়াত জোট বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টা চালায়। বিদেশীদের কাছে দেশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্য করার লক্ষ্যে ইউএস কনগ্রেস ম্যানের অসত্য বিবৃতি প্রচার করেছে। ভারতের বিজিপি’র শীর্ষ নেতা জনাব অমিত সাহার টেলিফোনালাপ নিয়েও মিথ্যাচার করেছে। বিএনপি জামায়াত আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা করে, মসজিদে আগুন দিয়েছে, কোরআন শরীফ পুড়িয়েছে, গাড়ি জ্বালিয়েছে, গাছ কেটে রাস্তায় ফলেছে, ট্রেনের স্লিপার উপড়ে ফেলে। তাদের নৈরাজ্যের কথা এত কম সময়ে বলে শেষ করা সম্ভব নয়। মাননীয় স্পীকার, বিএনপি-জামায়াত জোটের পেট্রোল বোমায় যেসব সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। এসব হত্যার সাথে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার করা হোক।

মাননীয় স্পীকার, আপনি লক্ষ্য করুন, সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর অধীনে ৫ই জানুয়ারী ২০১৪ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে বাংলাদেশের অবস্থা কি হত? হয়ত বা অবৈধ কোন সরকার ক্ষমতায় বসতো। বিএনপি জামায়াত জোট ১০ম জাতীয় সংসদের নির্বাচনকে বিদেশীদের কাছে অগ্রহণযোগ্য করার জন্য বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তাদের এই ষড়যন্ত্র কোন কাজ হবে না। মাননীয় স্পীকার, আপনি এই ১০ম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য হিসেবে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারী এসোশিয়েশন (সিপিএ) চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব সাবের হোসেন চৌধুরীও ইন্টার পার্লামেন্টারী ইউনিয়ন (আইপিইউ) এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

মাননীয় স্পীকার, জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি জনগনকে ভাত ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন। কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন, শ্রমিকদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন, ভারতের সাথে ৩০ বছরের জন্য গঙ্গার পানি চুক্তি করেছেন। সমুদ্র বিজয় করেছেন। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে দীর্ঘ ৪১ বছরের ছিটমহল সমস্যা নিরসন হয়েছে।

মাননীয় স্পীকার, বন্ধু পরিবর্তন করা যায়, কিন্তু প্রতিবেশী পরিবর্তন করা যায় না। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবেশীদের সাথে সুসম্পর্ক রাখার জন্য ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করেছেন। তাঁর কুটনৈতিক সফলতার অংশ হিসেবে প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল ও ভুটানের সাথে যান চলাচল ও পণ্য পরিবহণ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।

মাননীয় স্পীকার, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতার সাথে নিহত আমার পিতা, ভাই, বোন ও শিশুপুত্র হত্যার বিচার পাইনি। জেনারেল জিয়াউর রহমান ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে ঐ বিচারের পথ বন্ধ করেছিল। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার করেছেন। বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে। ২০০৯-২০১৩ মেয়াদে পুনরায় ক্ষমতায় এসে ১৯৭১ সালে সংঘটিত গনহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধ অপরাধীদের বিচারের জন্য সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার কাজ তরান্বিত করেছে। ইতিমধ্যে দুইজনের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে।

মাননীয় স্পীকার, আপনি নিশ্চয়ই জানেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সঠিক দিক নির্দেশনায় আমার নেতৃত্বে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তিচুক্তি হয়েছে। এ শান্তিচুক্তি ফলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইউনেস্ক শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। অশান্ত পার্বত্য অঞ্চলে আজ শান্তির সুবাতাস বইছে। শান্তিচুক্তির সময় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, শান্তিচুক্তি হলে নাকি পার্বত্য অঞ্চলসহ ফেনী পর্যন্ত ভারত হয়ে যাবে। আমি আজ বেগম জিয়াকে প্রশ্ন করতে চাই, এখন ফেনীতে যেতে কি আপনার পাসপোর্ট লাগে?

মাননীয় স্পীকার, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সঠিক দিক নির্দেশনায় বিগত ৬ বছরে বিদ্যুৎ খাতের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় ২০০৯ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল মাত্র ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়ার্ট। আর বর্তমানে ১৩ হাজার ৬৭৫ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। জনগণ লোডশেডিং এর দুঃসহ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছে। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, ভৌত অবকাঠামো, আইসিটি ও যোগাযোগ, বৈদেশিক কর্মসংস্থানসহ প্রতিটি সেক্টরের সাফল্য চোখে পড়ার মত। শুধুমাত্র দক্ষিণাঞ্চলে যেসব উন্নয়ন হয়েছে তার কয়েকটি চিত্র এখানে তুলে ধরছি:

  • পটুয়াখালীতে পায়রা সমুদ্র বন্দর;
  • বরিশালে শহীদ আবদুর রব সেনিয়াবাত টিসার্স ট্রেনিং কলেজ;
  • বরিশালে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ;
  • বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়;
  • বরিশাল শিক্ষা বোর্ড;
  • বরিশালকে সিটি করপোরেশন;
  • দোয়ারিকা-শিকারপুর সেতু;
  • বরিশালে কীর্তনখোলা নদীতে শহীদ আবদুর রব সেনিয়াবাত সেতু;
  • আগৈলঝাড়ায় অর্থনৈতিক অঞ্চল;
  • গৌরনদীতে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট;
  • আগৈলঝাড়া কোটালীপাড়া সড়কে পয়সারহাট সেতু;
  • গৌরনদী-আগৈলঝাড়া-কোটালীপাড়া সড়ক;
  • পটুয়াখালীতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়;
  • ঝালকাঠীতে গাবখান সেতু;
  • লেবু খালী সেতু;
  • ঢাকা কুয়াকাটা সড়কে শেখ কামাল, শেখ জামাল এবং শেখ রাসেল সেতু।

এসব সাফল্য শুধুমাত্র জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব হয়েছে।

মাননীয় স্পীকার, বিগত পাঁচ বছরে আমাদের সরকারের গৃহীত কর্মকান্ডের সাফল্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের ফলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এমডিজি এওয়ার্ড, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার, ইউনেস্কো কালচারাল ডাইভার্সিটি পদক, এফএও ডিপ্লোমা অ্যাওয়ার্ড এবং সাউথ সাউথ কো-অপারেশন এ্যাওয়ার্ড এ ভূষিত হয়েছেন।

মাননীয় স্পীকার, সম্প্রতি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত তিন ব্রিটিশ নাগরিক জাতির পিতার সুযোগ্য নাতনী রেজওয়ানা সিদ্দিকী টিউলিপ, রওশনারা আলী এবং রূপা হক ব্রিটিশ পার্লামেন্টের মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন। আমি তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি। মাননীয় স্পীকার আমি ইতিপূর্বে প্রস্তাব করেছিলাম বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত তিন বৃটিশ পার্লামেন্ট সদস্যকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করার। আশাকরি সুবিধাজনক সময়ে আপনি সেই উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

মাননীয় স্পীকার, এবার আমি আপনার মাধ্যমে বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের কিছু দাবী মহান সংসদে তুলে ধরছি:

মাননীয় স্পীকার, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে তৎকালীন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী জনাব ফনিভূষন মজুমদারকে গৌরনদীকে জেলা ঘোষণার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সেই নির্দেশনা বাস্তাবয়ন করা হয়নি। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আমি চীফ হুইপ থাকাকালে এই মহান সংসদে দাড়িয়ে গৌরনদীকে জেলায় উন্নীত করার দাবী জানিয়েছিলাম। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হলেও গৌরনদীকে জেলা করা হয়নি। আমি আশাকরি সরকার যথাশীঘ্র গৌরনদীকে জেলা ঘোষণার উদ্যোগ নিবেন।

ঢাকা বরিশাল মহাসড়কটি বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পদ্মাসেতু নির্মিত হলে এ সড়কে যানবাহনের চাপ বহুগুণে বেড়ে যাবে। এ মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার জন্য আমি মাননীয় যোগাযোগ মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মাননীয় অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় ৬৮নং অনুচ্ছেদে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, উৎপাদন, রপ্তানি বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণকে উৎসাহিত করতে সম্ভাবনাময় এলাকাসমূহে ৩০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরমধ্যে আমার নির্বাচনী এলাকা বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার পয়সারহাটে একটি অর্থনৈতিক জোন অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আগৈলঝাড়া অর্থনৈতিক জোন স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে ৩০০ একর জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে সীমানা নির্ধারণসহ অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ প্রদানের জন্য আমি মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

মাননীয় স্পীকার, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে বরিশাল জেলার গৌরনদীতে ৩৩ কেভি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র অনুমোদন হয়েছিল; কিন্তু বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর সেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র সিলেটে স্থানান্তর করা হয়। আমি আপনার মাধ্যমে গৌরনদীতে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের দাবী জানাচ্ছি।

বরিশাল একটি নদী মাতৃক উপকূলীয় অঞ্চল। এখানে গ্যাস সরবরাহের কোন ব্যবস্থা নাই। সম্প্রতি ভোলা জেলায় গ্যাস সঞ্চালনের প্রক্রিয়া চলছে। ভোলা থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে বরিশালে গ্যাস সরবরাহ করার জন্য আমি জ্বালানী ও খনিজসম্পদ মন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

মাননীয় স্পীকার, বাংলাদেশের জগণের আকুণ্ঠ সমর্থনে পর পর দুই মেয়াদে আমাদের সরকারের ও নেতৃত্বের ধারাবাহিতকা উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। আমার বিশ্বাস বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদ শেষেই বাংলাদেশের কৃষি, ব্যবসা বাণিজ্য ও শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটবে, যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন আসবে, রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলো যানযটমুক্ত হবে। কোটি কোটি তরুন, তরুনীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ব্যাপকভাবে প্রসারিত হবে এবং তথ্য প্রযুক্তি বাড়বে। দেশবাসীর কাছে আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল ২০২১ সালে এ দেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করা, সেখানে অর্থনীতির চালিকাশক্তি হবে উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ জনশক্তি আর উচ্চতর প্রবৃদ্ধি। প্রতিষ্ঠিত হবে অংশিদারিত্বমূলক গনতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায় বিচার। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এ দেশ পরিচিতি লাভ করবে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ হিসেবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।
পরিশেষে, মাননীয় অর্থ মন্ত্রীকে জনকল্যানমুখী ও যুগোপোযোগী বাজেট উপহার দেয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

খোদা হাফেজ
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীব


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply