ব্লগ

পাত্রী খোঁজার ১৮+ টিপস (রম্য লেখা)

১. বিয়ে করা আর মরার পারফেক্ট টাইম কেউ কোনদিনও পাবে না। আপনি যেদিন বিয়ে করতে রেডি, চাইলেই তৎক্ষণাৎ পাত্রী পাবেন না। গ্যারান্টি। বিদেশ থেকে পাত্রী খুঁজতে চাইলে, মোটামুটি দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে।

২. কবুল বলার আগ পর্যন্ত কোন গ্যারান্টি নাই। বিমানে উঠার আগে জানবেন, সব ঠিকঠাক। বিমান থেকে নামার পরে শুনবেন, উনি প্রিয়জনের সাথে পালিয়ে গেছেন।

৩. কবুল বলার পরেও কোন গ্যারান্টি নাই। ওমুকের বিয়ের অতদিন পরে হেনো হয়েছে, তেনো হয়েছে। এসব শুনে মন খারাপ বা ভয় পাবার কিচ্ছু নাই। মাঝে মধ্যে রোড এক্সিডেন্ট হয়ে বলে কি – মাইনসে বাসে উঠবে না?

৪. পারফেক্ট পাত্রী বলতে কেউ নাই। আপনি নিজে যেমন পারফেক্ট না, দুনিয়ার অন্যরাও তেমন পারফেক্ট না।

৫. কারো ফিজিক্যাল এপিয়ারেন্স (উচ্চতা, গায়ের রং, বাপের টাকা, দেশের বাড়ি) নিয়ে চিন্তার পাশাপাশি তার ইমোশন, ইন্টারাকশন, কোঅপারেশন আপনার সাথে মিলায় দেখবেন। গায়ের চামড়ার চাইতে ভিতরের মানুষটাকে বুঝা এক হাজারগুন বেশি ইম্পরট্যান্ট।

৬. বায়ো ডাটার সাথে যে পিকচার দেয়, সেটা কত দিন আগের তোলা খেয়াল করতে হবে। হয়তো দেখা যাবে, তিন বছর আগের পিকচার দিছে। তখন ছেলের মাথায় চুল ছিলো এখন আবুল হায়াতের ছোট ভাই হয়ে গেছে। ঝকঝকে প্রোফাইল পিকচার না দেখে ৪-৫ জনের গ্রুপ পিকচার দেখেন, যেটা অন্য কেউ আপলোড করছে।

৭. কোন কাপলের প্রোফাইল পিকচার যত হট হবে, সুখী হবার চান্স তত কম হবে। সেজন্যই, সেলিব্রেটি ম্যারিজ তেমন টিকে না।

৮. ৩০ বছর বয়সের কাছাকাছি সময়ে বিয়ে করে ফেলা উচিত। নইলে বিয়ের আসল মজা পাবেন না। আর বাচ্চা-কাচ্চা মানুষ করার আগেই ওপারের ডাক চলে আসবে।

৯. আপনাকে বুঝতে হবে। আপনি কি লাইফ পার্টনার চাচ্ছেন, নাকি আপনার বস চাচ্ছেন, নাকি রান্না-বান্না বাচ্চা-কাচ্চা দেখাশুনা করবে এমন কাউকে চাচ্ছেন।

১০. পিকচার সহ বিয়ের বায়োডাটা একটা ইমেইল ড্রাফট করে রাখবেন যাতে সাথে সাথে ফরওয়ার্ড করা যায়। যাদেরকে বায়োডাটা দিছেন তাদেরকে মাঝে মধ্যে খোঁচা দিয়ে আপডেট নিবেন। সবাই একটা বায়ো ডাটা দেয়ার পরে চুপ হয়ে যাবে। তখন, সৌখিন ঘটক, আন্টি বা প্রফেশনাল ঘটক ধরতে যাবেন।

১১. ফেইসবুকে যাদের দেখবেন, তাদের ম্যাক্সিমামেরই আংটা লাগানো। তবে খুব বেশি ইচ্ছা হইলে, মিউচুয়াল ফ্রেন্ডদের কাছ থেকে ইনফরমেশন জোগাড় করে তারপরে নক দিবেন।

১২. না বলা অনেক কঠিন। তারপরেও আপনি অগ্রসর হতে না চাইলে। সরাসরি না করে দেন। পরে যোগাযোগ করবো বলে চুপ করে থাকা অনেক খারাপ। আরেকটা খারাপ হচ্ছে, আল্লাহ-খোদার দোহাই দেয়া। বায়োডাটা দেখে ভালো করে ভেবে নিন, কথা বলতে চান কিনা। এই স্টেজে না করা ইজি। তবে কথা বলার পরেও ভালো না লাগলে সেটা সরাসরি বলে দেন। কেনো ভালো লাগেনি, সেটা বলে দিলে ভালো হয়। .

১৩. ফোনে কথা বলার সময়, দেখবেন ইন্টারাকশন লাইভলি হচ্ছে কিনা। গল্প এক ঘন্টা চালিয়ে নেয়া যাচ্ছে কিনা। সেটা করতে না পারলে, সংসার ইন্টার‍্যাক্টিভ হবার চান্স কম। তবে প্রথম দুই-একবার কথা বলার সময় ভদ্রতা বা লজ্জাবশত একটু স্লো হতে পারে।

১৪. স্কাইপে মাস্ট কথা বলে নিবেন। তবে আমার মতে, অন্তত একবার সামনা সামনি না দেখে কথা চূড়ান্ত করা ঠিক না। অল্টারনেটিভ হিসেবে আপনার বাসার লোকজন আগে থেকে দেখে রাখতে পারে। তারপরেও, আপনার বিয়ে, আপনি সরাসরি দেখা উচিত।

১৫. আগে থেকে ফ্যামিলি লেভেলে দেখাশুনা কথা-বার্তা অলমোস্ট ফাইনাল করে না রাখলে, ২০-২৫ দিনের জন্য দেশে গিয়ে কিছুই করতে পারবেন না। আর মনে রাখবেন চাইলে বছরে দুইবার দেশে যেতে পারবেন না। সো, একবার মিস হইলে একবছর পিছায় যাবেন। এত কিছু ঝামেলা মনে হইলে, সময় থাকতে প্রেম করেন।

১৬. প্রবাসী অনেক ভালো ভালো পাত্রী আছে। সবাই বিদেশী বয়ফ্রেন্ড নিয়ে নাচানাচি করে না। তবে ABCD বিয়ে করতে চাইলে, একটু খেয়াল রাখবেন -ওরা অনেকেই বাংলায় ফ্লুয়েন্ট না, দেশে ঘনঘন যেতে চায় না, ক্রিকেট খেলা তেমন ফিল করে না, ঝগড়াঝাঁটি ইংলিশে করতে চায়। আসলে কে কই আছে সেটা ব্যাপার না। ব্যাপার হচ্ছে, কে কতটুকু ওপেন মাইন্ডেড কোওপারেটিভ আর কতটুকু এডজাস্ট করে নিতে চায়।

১৭. সেক্স ফ্যামিলি লাইফের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস না। এমনকি সংসারে গুরুত্বপূর্ণ টপ ফাইভ জিনিসের মধ্যে সেক্স পড়ে কিনা সন্দেহ। কারণ একজন মানুষের সাথে সারাদিন অনেক অনেক কিছু নিয়ে আলোচনা, পরিকল্পনা, ঘুরাফেরা, আড্ডা, খাওয়া দাওয়া করেই ম্যাক্সিমাম টাইম স্পেন্ড করবেন।

১৮. একেবারে ফাইনাল ডিসিশন নেয়ার আগে খুব ভালো ভাবে ভেবে দেখবেন। উনি কি সেই জন যার সাথে আপনি সারা জীবন কাটাতে চান। উনি কি সেই জন যার চোখের পানি আপনার সার্টের কলার দিয়ে মুছে দিতে পারবেন। উনি কি সেই জন যার কষ্ট মাখা দিনের দীর্ঘ নিশ্বাসে আপনার বুক ছিঁড়ে যাবে, তবুও আঁকড়ে ধরে রাখবেন। উনি কি সেইজন যার সাথে বৃষ্টিতে ভিজে এসে পাশে বসে এক কাপ কপি ভাগ করে খেতে চাইবেন।

১৯. বিয়ের সময় আজাইরা খরচ করে পরের দিন জামাই-বউ বাটি হাতে রাস্তায় নামার অবস্থা করা থেকে বিরত থাকুন।

 

লেখাটি Jhankar Mahbub এর নোট থেকে নেয়া হয়েছে

ছবি স্বত্ব : ইশরাত আমিন

 


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply