জাতীয়

পুরোপুরি কর্মচারি নির্ভর হয়ে পরেছেন খালেদা জিয়া

খোন্দকার কাওছার হোসেন : পুরোপুরি কর্মচারি নির্ভর হয়ে পড়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কর্মচারিদের পরামর্শেই পরিচালিত হচ্ছেন তিনি। দল ও জোটের চলমান আন্দোলনের কর্মসূচি প্রনয়ন, বক্তব্য বা বিবৃতির ড্রাফট, দল পরিচালনার কৌশল ও নেতৃত্ব নির্বাচন এমনকি নির্বাচনে মনোনয়ন প্রদানসহ যাবতীয় কাজ নিজের কর্মচারীদের পরামর্শেই করে থাকেন তিনি। দল বা জোটের সিনিয়র জুনিয়রসহ কোন নেতার পরামর্শই আমলে নেন না তিনি। এ কারণে উপযাচক হয়ে সিনিয়র কোন নেতা তাকে কোন পরামর্শ দেন না। পরিস্থিতিতে দল ও জোটের আজকের এই করুন অবস্থা। এমনটাই মনে করেন দলের অনেক সিনিয়র নেতা। কিন্ত মান ও পদ খোয়া যাবে এ ভয়ে মুখ ফুটে কেউ কিছু বলছেন না।

দলটির অনেক নেতাই আড়ালে আবডালে বলে বেড়ান বিএনপি এখন আর রাজনৈতিক দল নয়। এটা দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি লিমিটেড কোম্পানী। তারা যাকে খুশি নেতা বানান, আবার বিরাগভাজন হলে নেতা থেকে বাদ দেন। এখানে রাজনীতি নেই, নেতাও নেই। আছেন নেতা নামধারী কতিপয় চাটুকার আর চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত কিছু কর্মচারী। দলের নিয়ন্ত্রণ এখন এসব দালাল নেতা আর ধান্দাবাজ কর্মচারীদের হাতে। এদের হাতে জিম্মি হয়ে তাদের ওপর ভর করেই দল চালাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আর এই অযোগ্যরা দলটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা বলেন, সর্বশেষ গত ১৩ মার্চ সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মে তার সঙ্গে ছিলেন প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল ও ব্যক্তিগত সহকারি শিমুল বিশ্বাস। নেতারা প্রশ্ন তোলেন, দলের স্থায়ী কমিটির অনেক সদস্য এখনও কারাগারের বাইরে আছেন। তাদের কাউকে সংবাদ সম্মেলনে দেখা গেল না। খালেদা জিয়া তাদের কাউকে আসতে বলেননি। দায়িত্ববোধ থেকেও কেউ আসেননি।

একই অবস্থা খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর। সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে সমবেদনা জানাতে তার গুলশান কার্যালয়ে হাজির হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্ত কর্মচারিরা তাকে ওই কার্যালয়ে ঢুকতে দেননি। সমবেদনা জানাতে না পেরে ফিরে যান প্রধানমন্ত্রী। ওই সময়ে কার্যালয়ে থাকা অনেক সিনিয়র নেতা প্রধানমন্ত্রীকে ভেতরে আসার ব্যবস্থা করতে বললেও কর্মচারীরা তা শোনেননি। পরে ভুল বুঝতে পেরে মিডিয়ার সামনে আসেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। কর্মচারিদের এমনকি করা ঠিক হয়নি বলে তাৎক্ষনিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেন তিনি।

একই অবস্থা গত ১৩ মার্চ । দলটির সাবেক সংসদ সদস্য ও নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান দলের সংকটকালে খালেদা জিয়ার পাশে দাড়াতে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এসেছিলেন। তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। কিন্ত তাকে ভেতরে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছিল। বাধা পেয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, খালেদা জিয়া কার্যালয়ে বন্দি। আর এই কারাগারের জেলার হলেন শিমুল বিশ্বাস। তিনি আরো বলেন, বিএনপি দলটা তো এখন শিমুল বিশ্বাসের (খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী) হাতে জিম্মি।

খালেদা জিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, তিনি কেন গুটিকয়েক মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন, তিনি কি পারেন না বারান্দায় এসে সবার সঙ্গে কথা বলতে, দেশের পরিস্থিতি, রাজনীতির হালচাল বুঝতে?

এ ব্যাপারে চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল বলেন, খালেদা জিয়া তার বক্তব্যের বিষয়বস্তু সম্পর্কে আমাকে ডেকে ব্রিফ করেন। এরপর আমি একটি ড্রাফট করে তাকে দেই। উনি প্রয়োজনীয় সংশোধনী করেন। এগুলো পুরোটাই তার ওপর নির্ভরশীল।

সংবাদটি সর্বপ্রথম ভোরের কাগজে প্রকাশিত হয়েছে


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply