গৌরনদী সংবাদ

গৌরনদীতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনের ছত্রছায়ায় অবৈধ মোটরসাইকেলের ছড়াছড়ি

বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলায় অবৈধ, চোরাই ও লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেলের সংখ্যা দিনকে দিন বেড়েই চলছে। সেই সাথে মোটরসাইকেল চালকদের নেই কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স, ইনস্যুরেন্স ও মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজ। রাজনৈতিক ও প্রশাসনের ছত্রছায়ায় এসব মোটরসাইকেল চলছে বলে কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গৌরনদী-আগৈলঝাড়ায় যারা মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন তাদের ১০০জনের মধ্যে ৯৯জনের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কাগজপত্র নেই। বিষয়টি হাইওয়ে পুলিশ দেখেও না দেখার ভাণ করছে। মাঝে মাঝে বরিশাল থেকে নির্দেশ আসলে একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট গৌরনদী হাইওয়ে পুলিশের সাথে নামকাওয়াস্তে ও লোক দেখানো অভিযান করে অবৈধ বানিজ্য করছেন বলে প্রোটোকল (ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল) চালকদের থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, একমাত্র প্রোটোকল (ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল), নসিমন, মাহেন্দ্র ও অটো রিক্সার থেকেই মাসে কয়েক লাখ টাকা কামিয়ে নিচ্ছে গৌরনদী হাইওয়ে পুলিশ। যারা এ মাসোয়ারা দিচ্ছেন তারা গৌরনদী হাইওয়ে পুলিশকে মাসে মাসে এ মাসোয়ারাকে টোকেন বলে উপাধি দিয়েছেন।

এছাড়া উঠতি বয়সী বিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সন্তানরা প্রশাসন ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কিছু মধ্যস্থতাকারীদের (দালালের) মাধ্যমে ভারতের সীমান্ত থেকে চোরাই পথে আসা যশোর-ফরিদপুর রুট এবং খুলনা-গোপালগঞ্জ-গৌরনদী রুট হয়ে বর্ডার-ক্রস/ চোরাই মটর সাইকেল এনে দুই নাম্বার কাগজ তৈরি করে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড সহ গৌরনদী-আগৈলঝাড়ায় বেপরোয়া ভাবে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে তেমনি এই এলাকায় এত বেশি মোটরসাইকেলের কারণে এর একটি নেতিবাচক প্রভাব পরছে। গৌরনদীতে ৩০ হাজার মোটরসাইকেলের মধ্যে ২৯হাজারের ড্রাইভিং লাইসেন্স, ইনস্যুরেন্স ও মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজ নেই।

গৌরনদী-আগৈলঝাড়ায় অহরহ চুরির ঘটনাও ঘটছে। বাড়ির কলাপসিবল গেট ভেঙ্গে ও খোদ থানার দারোগার মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাও শোনা গেছে। মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজ নেই বিধায় ভুক্তভোগীরা থানায় সাধারণ ডায়েরী করার সাহস পাচ্ছে না।

গৌরনদী-আগৈলঝাড়ায় যারা বৈধভাবে মোটরসাইকেল কিনছেন তারা শুধুমাত্র শো-রুম পেপারস দিয়ে চালাচ্ছেন। পুলিশ অভিযানে কখনো ঐসব মোটরসাইকেল ধরা পড়লে শো-রুমের মালিকগণ তাদের মোটরসাইকেল ছাড়িয়ে আনতে সহায়তা করে থাকেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে একটি শো-রুম মালিকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমরা মোটরসাইকেল বিক্রি করার পর কাস্টমারকে মোটরসাইকেলের কাগজ করতে উৎসাহিত করে থাকি। কিন্তু বেশিরভাগ কাস্টমার মোটরসাইকেলের টাকা বাকি রাখে বিধায় আমরা ঐ টাকার কথা চিন্তা করে তাদেরকে পুলিশি ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে সহায়তা করি। কেননা একটি মোটরসাইকেল আটকে থাকলে প্রোটোকল চালক কিস্তির টাকা দিতে বিলম্ব করেন। আমাদের ব্যবসায় লস হয়। এছাড়া চোরাই মোটরসাইকেলের কারণে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

গৌরনদী-আগৈলঝাড়ায় প্রোটকল ও উশৃঙ্খল চালকদের কারণে মারাত্মক দুর্ঘটনার কথা আমরা মাঝে মাঝে বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি। একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অদক্ষ চালকদের কারণে গত ৮ আট বছরে বরিশাল জেলায় কম হলেও ২ হাজারের বেশি প্রাণহানি ঘটেছে শুধুমাত্র মোটরসাইকেলে দুর্ঘটনায়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন গৌরনদী-আগৈলঝাড়ার ভুক্তভোগী পথচারী ও যাত্রী সাধারণ।

ফাহিম মুরশেদ, গৌরনদী ডটকম


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

Tags

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply