গৌরনদী সংবাদ

গৌরনদীতে হাতুড়ে ডাক্তারের হাতে নবজাতক নিহত

গাইনী বিশেষজ্ঞ নয় তবুও ডেলিভারি করতে গিয়ে এক হাতুড়ে ডাক্তারের টানা হেচড়ায় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।  অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে প্রসূতি মা হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন বলে  অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত নবজাতকের বাবা হাসপাতালে স্ত্রীর সাথে থাকায় শিক্ষিকার চাচা শশুর বাঁদি হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এলাকায় তীব্র ক্ষোভ।

নিহতের দাদী, নিকটাত্মীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বরিশালে গৌরনদী উপজেলার টরকী বন্দর গার্লস হাইস্কুলের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষিকা বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার আহুতি বাটরা গ্রামের রতন হালদারের স্ত্রী পূর্ণিমা রানী বাইন শিক্ষকতার জন্য স্কুল সংলগ্ন পশ্চিম পার্শ্বে শাহজাহান শরীফের বাসায় ভাড়া থাকেন। বুধবার দুপুরের দিকে তার (শিক্ষিকা পূর্ণিমা রানী বাইন’র) প্রেগনেন্সি পেইন শুরু হলে টরকী বন্দর ন্যাশনাল ব্যাংকের নিচে সরকার মেডিকেল হলের মালিক ও জেনারেল প্রাকটিশনার ডা. মনোতোষ সরকারকে খবর দিলে তিনি ডেলিভারি করানোর চেষ্টা করেন। স্বাভাবিকভাবে বাচ্চা ডেলিভারি না হওয়ায় টানা হেচড়া ও জোড়পূর্বকভাবে দুপুর ২টার দিকে ডেলিভারি করান। ডেলিভারির কিছুক্ষণ পরে নবজাতক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। নবজাতক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া দেখে মৃত্যু ঘোষণা না দিয়েই ডা. মনোতোষ সটকে পড়েন। বাচ্চা নড়াচড়া না করায় সন্দেহ হয় তাদের। ডাক্তারকে ফোন করলে তিনি ফোন কেটে দেন।

এদিকে প্রসূতি মা শিক্ষিকা পূর্ণিমা রানী বাইন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে অজ্ঞান হয়ে পরলে তাকে প্রথমে গৌরনদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখান থেকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে প্রসূতি মা শিক্ষিকা পূর্ণিমা রানী হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এখনো তিনি আশংকা মুক্ত নয়।

নিহত নবজাতকের বাবা রতন হালদার হাসপাতালে স্ত্রীর সাথে হাসপাতাল থেকে এ প্রতিনিধিকে মুঠোফোনে বলেন, আমরা জানতাম না তিনি কোনও এমবিবিএস ডাক্তার নয় বা গাইনী বিশেষজ্ঞও নয়, তিনি সাধারণ একজন ফার্মেসীর মালিক, শুনেছি জেনারেল প্রাকটিশনার করা। উনি ডাক্তার না উনি খুনি! আমি আমার শিশু বাচ্চার খুনের বিচার চাই।

শিক্ষিকার চাচা শশুর বাবুল মণ্ডল হালদার বাঁদি হয়ে বুধবার রাত সাড়ে এগারোটায় আগৈলঝাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে অভিযুক্ত ডা. মনোতোষ সরকারকে তার ব্যবহৃত ০১৭১১০০০৯৬৩ মুঠোফোনে কল দেয়া হলে তিনি ঢাকায় গিয়েছেন ইন্ডিয়ান ভিসার টোকেন লাগানোর জন্য। এসে এব্যাপারে কথা বলবেন বলে জানান।

আগৈলঝাড়া থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি মো. মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, নবজাতককে ডেলিভারি করাতে গিয়ে মেরে ফেলেছে এই মর্মে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, নবজাতকের মায়ের অবস্থাও ভাল নয় বাবাও প্রসূতার সাথে হাসপাতালে, তারা মামলা দিলে হত্যা মামলা নেয়া হবে।

ডাক্তারের বিরুদ্ধে এমন আরও অনেক ঘটনার অভিযোগ করে স্থানীয় সুবল হালদার, মঙ্গল হালদার, তরণী মণ্ডল সহ অনেকে ক্ষোভ জানিয়ে তার বিচার দাবি করেছেন, এব্যাপারে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply