গৌরনদী সংবাদ

গৌরনদীতে অন্তঃস্বত্তা গৃহবধূকে ঘরছাড়া করে প্রবাসী স্বামী বিয়ে করছেন

স্বামীর সাথে মার্কেটে যেতে না চাওয়ায় বাগ্বিতন্ডার একপর্যায়ে তিন সন্তানের জননী অন্তঃস্বত্তা গৃহবধূ সুমনা বেগমকে মৌখিক ভাবে তালাক দিয়ে বাবার বাড়িতে তাড়িয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় চরমোনাই কওমী মাদ্রাসার ফতোয়া বিভাগের প্রধান মুফতীর কাছে লিখিত ভাবে আবেদন করে সমাধান চান প্রবাসী স্বামী শাহীন সিকদার।

শরিয়ত মোতাবেক তিনজন মুফতী লিখিত ভাবে অভিযোগকারী স্বামী শাহিন সিকদারকে জানান, তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তালাক হয়ে যাওয়ায় একে অপরের জন্য তারা হারাম হয়ে গেছেন এবং তাদের বৈবাহিক কোন সম্পর্ক নেই। ওই ফতোয়ার কারনে সৌদি প্রবাসী স্বামী শাহিন সিকদার তিনসন্তানসহ গর্ভবর্তী প্রথম স্ত্রীকে তার বাবার বাড়িতে রেখেই আজ বুধবার দ্বিতীয় বিয়ে করছেন। ঘটনাটি জেলার গৌরনদী পৌর এলাকার দিয়াশুর মহল্লার।

চরমোনাই জামেয়া রশীদিয়া আহসানাবাদ কওমী মাদ্রাসার ফতোয়া বিভাগের প্রধান মুফতীর কাছে স্বামী শাহিন সিকদারের দেয়া লিখিত আবেদন ও ফতোয়া বিভাগের মুফতী মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসানসহ তিনজন মুফতীর স্বাক্ষরিত সমাধানপত্র অনুযায়ী মঙ্গলবার সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, দিয়াশুর মহল্লার নুরুল ইসলাম সিকদারের সৌদি প্রবাসী পুত্র শাহীন সিকদারের সাথে দীর্ঘদিন পূর্বে পাশ্ববর্তী চরদিয়াশুর গ্রামের দিনমজুর আইউব আলী হাওলাদারের কন্যা সুমনা বেগমের সাথে সামাজিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে একে একে দুটি কন্যা ও একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই গৃহবধূ সুমনা বেগম (৩০) সবসময় পর্দানশীল হয়ে চলাফেরা করতেন।

শাহীনের লিখিত আবেদনে জানা গেছে, অতিসম্প্রতি তার স্ত্রীকে নিয়ে তিনি মার্কেটে যেতে চাইলে সুমনা মার্কেটে যেতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাগ্বিতন্ডার একপর্যায়ে শাহীন রাগের সহিত তার স্ত্রীকে মৌখিকভাবে দু’তালাক দিয়ে তিন তালাকের হুমকি প্রদর্শন করেন। পরবর্তীতে তার স্ত্রী মার্কেটে গেলেও কোন দোকানে প্রবেশ না করে বাড়ি ফিরে আসেন। পরবর্তীতে শাহীন বাড়িতে ফিরে স্ত্রীকে শ্বাসিয়ে বলেন, তার কোন মালামাল ধরলে সে (সুমনা) তিন তালাক হয়ে যাবে। তার এ হুমকি উপেক্ষা করে ঘরের মালামাল স্পর্শ করায় সুমনা বেগম তিন তালাক হয়ে গেছে বলে শাহীন এলাকায় প্রচার করে। একপর্যায়ে দেড় মাসের অন্তঃস্বত্তা সুমনা বেগমকে তার বাবার বাড়িতে তাড়িয়ে দিয়ে শাহীন তার মৌখিক তালাকের বিষয়ে সমাধান চেয়ে চরমোনাই জামেয়া রশীদিয়া আহসানাবাদ কওমী মাদ্রাসার ফতোয়া বিভাগের প্রধান মুফতীর কাছে লিখিত আবেদন করেন। পরবর্তীতে গত বছরের (২০১৪ সালের) ২৭ ডিসেম্বর ফতোয়া বিভাগের মুফতী মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসানসহ তিনজন মুফতীর স্বাক্ষরিত সমাধানপত্রে জানানো হয়, শরিয়ত মোতাবেক স্বামী-স্ত্রী (শাহিন ও সুমনা) মধ্যে তালাক হয়ে যাওয়ায় একে অপরের জন্য তারা হারাম হয়ে গেছেন এবং তাদের বৈবাহিক কোন সম্পর্ক নেই। ওই ফতোয়ার কারনে সৌদি প্রবাসী স্বামী শাহীন সিকদার তার সাত বছরের কন্যা সানজিদা আক্তার, সাড়ে তিন বছরের পুত্র বোরহান উদ্দিন সিকদার, দুই বছরের কন্যা সাওদা আক্তারসহ দেড়মাসের গর্ভবর্তী স্ত্রী সুমনাকে তার বাবার বাড়িতে রেখেই আজ বুধবার কাছেমাবাদ গ্রামের হাইমার্কেট সংলগ্ন জনৈক মজিদ সরদারের স্বামী পরিত্যক্তা কন্যা খালেদা বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করছেন।

নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে ও ফতোয়ার অভিযোগ সম্পর্কে সৌদি প্রবাসী শাহীন সিকদার বলেন, রাগের মধ্যে আমি আমার গর্ভবতী স্ত্রী সুমনা বেগমকে তালাকের কথা বলেছি। পরবর্তীতে তার কাছে ভুল স্বীকার করা সত্বেও সে আমার ঘর করতে রাজি হয়নি। পরবর্তীতে আমি চরমোনাইর মুফতীদের কাছে লিখিত আবেদন করার পর জানতে পারি মুখের কথাই আমার স্ত্রী শরিয়ত মোতাবেক তালাক হয়ে গেছে। বিধায় মুফতীদের লিখিত সমাধানের ভিত্তিতেই আমি অন্যত্র দ্বিতীয় বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছি। তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনায় কোন আইনী প্রক্রিয়া মানা হয়নি।

স্বামীর ভুল স্বীকারের অভিযোগ অস্বীকার করে অন্তঃস্বত্তা গৃহবধূ সুমনা বেগম বলেন, তারা (স্বামী শাহীন সিকদার) প্রভাবশালী হওয়ায় সবকিছুই তাদের পক্ষে। আর আমার বাবা গরীব বলে সবকিছুই এখন আমাদের মুখ বুজে সহ্য করে নিতে হচ্ছে।

সুমনার মা রিনা বেগম জানান, বিয়ের পর থেকে পর্দানশীল হয়ে চলাফেরা করায় শাহীন ও তার পরিবারের লোকজনে প্রায়ই তার মেয়েকে শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলো।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহ বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলোনা। দ্রুতভাবে বিষয়টির খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply