গৌরনদী সংবাদ

গৌরনদীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছুড়ির অভিযোগ

যুদ্ধচলাকালীন সময়ে বরিশালের উত্তর জনপদের মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে জীবনবাজি রেখে দায়িত্ব পালন করেছিলেন সৈয়দ মনিরুল ইসলাম ছিন্টু। যুদ্ধক্ষেত্রে তার অসামান্য অবদানের জন্য ছিন্টু নামের পূর্বে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধারা টাইটেল দিয়েছিলেন বুলেট। সেই থেকেই তাকে বুলেট ছিন্টু নামে সবাই চেনেন। বর্তমানে তিনি দ্বিতীয়বারের ন্যায় জেলার গৌরনদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সূত্রমতে, শুরু থেকেই বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বুলেট ছিন্টু স্থানীয় অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যানে নিজের সম্মানীভাতা উৎসর্গ করেন। এছাড়া নিজ অর্থ ও মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলন করে প্রতিটি জাতীয় দিবস, সদ্যপ্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণসভা এবং দোয়া-মিলাদের আয়োজন করাটাই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তার জীবনে।

গত ২৭ অক্টোবর কতিপয় ডেপুটি ও সহকারী কমান্ডাররা উপজেলা কমান্ডার বুলেট ছিন্টুর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহন করে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের কাছে অনুলিপি প্রেরণ করেছেন।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কমান্ডার বুলেট ছিন্টু মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে খারাপ আচারন, স্বেচ্ছাচারিতা, চাঁদা তুলে অনুষ্ঠান পালন ও ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভূক্তির নামে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন। এসব অভিযোগের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।

কমান্ডার বুলেট ছিন্টুর বিরুদ্ধে চাঁদা তুলে প্রতিটি জাতীয় অনুষ্ঠান পালন ও সদ্যপ্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ সভা, দোয়া-মিলাদের আয়োজন করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও তার (বুলেট ছিন্টুর) বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবকারী একাধিক ডেপুটি ও সহকারী কমান্ডারের বিরুদ্ধে রয়েছে অন্যসব অভিযোগ।

এমনকি কতিপয় ডেপুটি ও সহকারি কমান্ডারের মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নামঅর্ন্তভূক্তি নিয়েও এলাকায় নানা বির্তক রয়েছে। তালিকা থেকে বাদ পড়া অসংখ্য প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভূক্তি করার জন্য মোটা অংকের টাকা উৎকোচ গ্রহণ ও টাকা ফেরত পেতে স্থানীয় পর্যায়ে সালিশ বৈঠকেরও ঘটনা ঘটেছে ওইসব কতিপয় ডেপুটি ও সহকারি কমান্ডারদের বিরুদ্ধে।

অপরদিকে গুঠিয়া ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত ও ভাতাপ্রাপ্ত ৩৩জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়েও নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সাখরাল গ্রামের মৃত আদম আলী সিদকারের পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়ব আলী সিকদার, গুঠিয়া গ্রামের গোপাল চন্দ্র মালাকার, হানুয়া গ্রামের আব্দুল মজিদ খানসহ একাধিক মুক্তিযোদ্ধারা জানান, স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত পন্থি কতিপয় ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভূক্তির ব্যাপারে সুপারিশ না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তারা বিভিন্ন মাধ্যমে গুঠিয়া ইউনিয়নের তালিকাভূক্ত ও ভাতাপ্রাপ্ত ৩৩জন মুক্তিযোদ্ধাকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আখ্যায়িত করে সম্মানহানী এবং সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply