ফিচার

মুমিনরা কখনো হতাশ হয় না

হানীন ইলদারম: বর্তমান মুসলিমবিশ্বের সার্বিক অবস্থা দেখে অনেকে হতাশ হয়ে যান , তাদের উদ্দেশে বলতে চাই —

আপনি স্মরণ করুন—সেই সময়ের কথা , যখন আমাদের প্রিয় নবী(সাঃ) রাতের আধারে  ভগ্ন হৃদয়ে পাহাড়সম কষ্ট নিয়ে মক্কা থেকে মদীনার দিকে হিজরত করতে রওনা হোন , তখন পথিমধ্যে অশ্রুপূর্ণ নয়নে মক্কার দিকে তাকিয়ে বলেন —

ওগো আমার মাতৃভূমি !!!

আর সহচর আবু বকর(রাঃ) বলেন—

অচিরেই সে জাতি ধ্বংস হবে , যারা তাদের নবীকে বের করে দিয়েছে !!

দশ বছর পর এই নবীই তো বিজয়ী বেশে মক্কায় প্রবেশ করেন !!

মনে করুন— সেই সময়ের কথা , যখন আব্বাসি খলীফা মুতাসিমের যুগে রোমানরা ইসলামি ভূ-খন্ডে আক্রমণ করে !! তখন এক হাশেমি বন্দিনী আর্তনাদ করেবলেছিলো —

হে মুতাসিম , তুমি কোথায় !

তখন এই খবর পাওয়া মাত্র মসনদে সমাসীন  খলীফা মুতাসিম হাতে থাকা পানির গ্লাস নিক্ষেপ করে বলেছিলেন —

লাব্বাইক !! …..

এবং তৎক্ষণাৎ সৈন্য নিয়ে সীমান্তে ঝাপিয়ে পড়েন ।

স্মরণ করুন— যখন ক্রুসেডাররা বায়তুল মুকাদ্দস দখল করে এক দিনে সত্তর হাজার মুসলিমকে হত্যা করে !! পুরো বায়তুল মুকাদ্দসকে লাশের শহরে পরিণত করে ছিলো !! এর নব্বই বছর পর এই বায়তুল মুকাদ্দসকেই উদ্ধার করেন সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ূবি । আর ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নেন ‘গাজী’ উপাধিতে ।
স্মরণ করুন—যখন তাতারি সয়লাবে ভেসে যাচ্ছিল মুসলিম ইমারত , বালিয়াড়ির মতো পতন হচ্ছিলো মুসলিম রাজ্যের , বোখারা-সমরকন্দ-বলখ-বাগদাদের মতো সভ্যতার নগরী পরিণত হয়েছিলো মৃত্যুপুরীতে , তখনই এই হায়েনাদের গতিরোধ করলেন মিসরের মামলুক সুলতান সাইফুদ্দীন কুতুজের প্রধান উজির রুকনুদ্দীন বাইবার্স , জর্ডান নদীর নিকটবর্তী জালুত উপত্যকায় পরাজিত করেন মানবতার দুশমন হিংস্র তাতারীদের , করেন শিরুচ্ছেদ তাদের সেনাপতি কিৎবুগার  !!

মনে করুন—যখন সমগ্র ইউরোপ একাট্টা হয়েছিলো উসমানি সুলতান মুরাদের  বিরুদ্ধে , তখন সুলতান তনয় বায়েজিদ কসাভোর যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিতকরেন  এই বহুজাতিক বাহিনীকে এবং এই বীরত্বের দরুন আজও ইতিহাসে ইলদারম (বজ্র) হয়ে বেচে আছেন ।

tumblr_lk6mt9CyZC1qhqwuzo1_500স্মরণ করুন— যখন ইংরেজ বেঈমানরা এদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষকে আযাদীরঅপরাধে (?) হত্যা করে , একান্ন হাজার আলেমের লাশ দ্বারা রাস্তার দুনু পাশের সারিবদ্ধ বৃক্ষকে সজ্জিত (!!??) করে , যারা একদিন দাম্ভিক স্বরে বলত গ্রেটব্রিটেনের সূর্য আস্ত যায় না ! আজ তারা এমন দেশে পালিয়েছে যেখানে দ্বিবা-প্রহরেও সূর্য দেখা যায় না , কিন্তু আলেমরা এখনও এদেশের ঘরে ঘরে বিদ্যমান !

এই হলো আমাদের ইতিহাস । তাহলে কেনো আমরা হতাশ হবো ? আমাদের আল্লাহই তো বলেছেন —

” তোমরা ক্লান্ত হয়েও না , বিষন্ন হয়ও না , তোমরাই বিজয়ী যদি তোমরা মুমিন হও । “

আল্লাহ তো বলেছেন —

” তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না । “

তিনি আরো বলেছেন—

“একমাত্র জালিমরাই পারে আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হতে ।”

অতএব হতাশার কোনো কারণ আছে বলে আমি মনে করি না , কারণ আমরা বর্তমানে তিমিরাচ্ছন্ন রাতে অবস্থান করছি । কিন্তু সুহাসিনীর সুপ্রভাত আমাদেরকে হাতছানি দিচ্ছে , কেননা তমসাচ্ছন্ন রাতের পরেই সুর্য সকাল উদিত হয় ।
জানেন , কী এই  সুপ্রভাত ? এটা হচ্ছে নবুওতের আদলে খিলাফাহ । কারণ নবীজী(সাঃ) বলেছেন,

” খিলাফাহ আবার আসবে নবুওতের আদলে …! “

উপর্যুক্ত কোনো ট্রাজেডি থেকে বর্তমানে চলমান ট্রাজেডি কোনোভাবেই বড় নয় , তাহলে হতাশ হওয়ার কী আছে ?


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...