বরিশাল

কর্মকর্তাদের উদাসীনতা এবং অব্যবস্থাপনায় বরিশালের ৭ রুটে বেহাল ফেরি সার্ভিস

বিভাগীয় শহর বরিশাল থেকে ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা এবং পিরোজপুরে সড়কপথে যেতে নির্ভর করতে হয় ফেরির ওপর। কিন্তু সড়ক যোগাযোগ ও সেতু বিভাগের ফেরি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদাসীনতা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে প্রায়ই ফেরি বিকল হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সড়ক যোগাযোগ।

বরিশাল থেকে পটুয়াখালী হয়ে কুয়াকাটা এবং বরগুনা যেতে পাড়ি দিতে হয় ৪টি লেবুখালী, কলাপাড়া, হাজীপুর এবং মহীপুর পয়েন্টের ফেরি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ফেরি লেবুখালী ঘাটের ইজারাদার স্থানীয় ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রশিদ প্যাদা বলেন, ‘৮৬ সালে নির্মিত ফেরিগুলোতে কিছুই নেই। ওগুলো খোসা হয়ে গেছে। ইঞ্জিনে শক্তি নেই। নদীতে স্রোত বেশি থাকায় প্রায়ই ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এপাড় থেকে ওপাড়ে যেতেও অনেক সময় ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়।

লেবুখালী ফেরিতে কর্মরত পটুয়াখালী ফেরি বিভাগের ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট আবদুল কুদ্দুস বলেন, ফেরি সবই ভালো আবার সবই খারাপ। এই ভালো তো, এই খারাপ। জোড়াতালি দিয়ে পুরনো ইঞ্জিনগুলো চালাতে হচ্ছে।

শুধু লেবুখালীই নয়, কুয়াকাটা যেতে কলাপাড়া, হাজীপুর ও মহীপুর পয়েন্টে একটি করে ফেরি থাকায় সেসব ঘাটেও যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। এ অবস্থায় একমাত্র ফেরি বিকল হয়ে প্রায়ই দীর্ঘক্ষণ সারা দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকছে সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা।

বরিশাল থেকে সড়কপথে পিরোজপুর যেতে হলে পাড়ি দিতে হয় গভীর কচা নদী। এই বেকুটিয়া-কুমিরমারা রুটে দুটি ফেরি মাসের বেশির ভাগ সময়ই থাকে বিকল। ফলে যাত্রীদের পড়তে হয় সীমাহীন দুর্ভোগে।

এই রুটে চলাচলকারী যাত্রী তানভীর আহমেদ জানান, জোড়াতালি দিয়ে চালানো ফেরি দুটি মাঝনদীতেও বিকল হচ্ছে প্রায়ই। একেক বার বিকল হলে ২-৩ দিন বন্ধ থাকে যানবাহন পারাপার।

বরিশাল অঞ্চলে ফেরিগুলোর দুরবস্থার কথা স্বীকার করে সড়ক যোগাযোগ ও সেতু অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মাদ এমদাদ হোসেন বলেন, ২৫-৩০ বছর আগের ফেরিগুলো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। যখনই কোনো সমস্যা হয়, সঙ্গে সঙ্গে প্রকৌশলীরা সেগুলো মেরামত করেন। বিভাগীয় সদর থেকে সড়কপথে দ্বীপ জেলা ভোলায় যেতে পাড়ি দিতে হবে তেঁতুলিয়া, ইলিশা ও কালাবদর নদী। দীর্ঘ দূরত্ব এবং উত্তাল নদী হওয়ায় লাহাড়হাট-ভেদুরিয়া রুটে ফেরি পরিচালনা করছে বিআইডব্লিউটিসি। এখানে আগে ৪টি আধুনিক ফেরি থাকলেও গত ২৫ সেপ্টেম্বর হাসনাহেনা নামের ফেরিটি স্থানান্তর করা হয়েছে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে। এখন সেখানে থাকা কৃষ্ণচূড়া, দোলনচাঁপা এবং অপরাজিতার মধ্যে সচল একমাত্র দোলনচাঁপা। ইঞ্জিনে রুটির কারণে গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে অপরাজিতা। এই রুটে দায়িত্ব পালনকারী বিআইডব্লিউটিসির টার্মিনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট সোহেল খান বলেন, এই রুটে প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হয়। নদীতে ডুবোচর এবং জেলেদের জালে প্রায়ই প্রপেলর (পাখা) ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এদিকে দ্বীপ জেলা ভোলা থেকে লক্ষ্মীপুর হয়ে চট্টগ্রাম যাতায়াতের জন্য কয়েক বছর আগে উদ্বোধন হওয়া ইলিশা-মজুচৌধুরীর হাট রুটে ২টি ফেরি চালু থাকলেও যানবাহন পারাপারে হিমশিম খেতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। এ কারণে উভয় প্রান্তে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে হয় শত শত যানবাহনকে।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...