Sat05192012

Last update07:31:45 PM

Back গৌরনদী খবর দৈনন্দিন এবার প্রেমের বলি ষষ্ট শ্রেনীর ছাত্রী সুইটি

এবার প্রেমের বলি ষষ্ট শ্রেনীর ছাত্রী সুইটি

ভালবেসে পরিবারের সবার অজান্তে প্রেমিকের হাত ধরে এক বছর পূর্বে ঘর ছেড়েছিলো ষষ্ট শ্রেনীর মেধাবী ছাত্রী সুইটি আক্তার (১৪)। বিয়েরপর মোটামুটি ভালই কাটছিলো তাদের নবদম্পত্তির সংসার। এরইমধ্যে তিনমাসের অন্তঃস্বত্তাও হয় সুইটি। পরবর্তীতে দাম্পত্য কলহের জের ধরে স্বামী ও শশুড় বাড়ির লোকজনের অমানুষিক নির্যাতনে গত বুধবার সন্ধ্যায় মারা যায় গৃহবধূ সুইটি। ঘটনাটি ধামা চাঁপা দিতে স্বামীর বাড়ির লোকজনে তার মুখে বিষ ঢেলে নাটকীয় ভাবে হাসপাতালে নেয়ার সময় বরিশালের গৌরনদী থানা সংলগ্ন এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন ও থানা পুলিশ বুধবার রাতে গৃহবধূ সুইটির লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় দু’জনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ, স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড পশ্চিম মহদরি এলাকার বাসিন্দা মজিবুল হক ওরফে আলাউদ্দিন মিয়া, কর্মের সুবাধে তার স্ব-পরিবার নিয়ে ঢাকার মীরপুর-১ নাম্বারের পীরেরবাগ আমতলা এলাকার ভাড়াটিয়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। তাদের বাসার পাশ্ববর্তী অপর একটি ভাড়াটিয়া রুমে বসবাস করেন কালকিনি উপজেলার ছোটচরকয়ারিয়া গ্রামের রড মিস্ত্রী ফারুক বেপারী। চাচার ভাড়াটিয়া বাসায় একই সাথে থাকতেন ফারুকের বড় ভাই ফিরোজ বেপারীর পুত্র রাসেল বেপারী (২২)। পাশাপাশি বাসায় থাকার সুবাধে আলাউদ্দিনের কন্যা ও পীরেরবাগ আমতলা এলাকার আলীমদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ট শ্রেনীর ছাত্রী সুইটি আক্তারের সাথে রাসেলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে ২০০৯ সালের ৩১ মার্চ প্রেমের টানে সুইটি তার পরিবারের সবার অজান্তে প্রেমিকার সাথে তার পৈত্রিক বাড়ি কালকিনি উপজেলার ছোটচরকয়ারিয়া গ্রামে চলে আসে।

সুইটির দিনমজুর পিতা মজিবুল হক ওরফে আলাউদ্দিন মিয়া জানান, তার কন্যা সুইটির রহস্যজনক নিখোঁজের পর দীর্ঘদিন তারা বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুজি করে ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে তিনি মীরপুর থানায় একটি সাধার ডায়েরী করেন। ৬ মাস পর তারা জানতে পারেন প্রেমের সম্পর্কে তার কন্যা সুইটি রাসেলের সাথে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়ে বর্তমানে তার পৈত্রিক বাড়িতে বসবাস করছে।

তিনি আরো জানান, তার কাছে রাসেল বেপারী একাধিকবার ফোন করে সুইটিকে প্রানে বাঁচাতে হলে ২ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এতে সুইটি বাঁধ সাধায় রাসেল ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই সুইটির ওপর শারিরিক নির্যাতন চালাতো বলে সুইটি তার মা শেফালী বেগমের কাছে মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আগামি ৪/৫ দিনের মধ্যে তাদের রাসেলের বাড়িতে আসার কথা ছিলো বলেও তিনি জানান।

গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মিজানুর রহমান জানান, বুধবার রাতে স্থানীয় লোকজনে থানা সংলগ্ন এলাকা থেকে গৃহবধূ সুইটির লাশ উদ্ধারসহ ২ জনকে আটক করে থানা পুলিশকে খবর দেয়। ঘটনাটি কালকিনি থানার হওয়ায় ওইরাতেই কালকিনি থানা পুলিশকে খবর দিয়ে লাশসহ আটককৃত মনির হোসেন বেপারী ও মারুফ বেপারীকে কালকিনি থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সুইটির মৃত্যুর খবর শুনে প্রথমে গৌরনদীতে ছুটে আসেন তার দিনমজুর পিতা মজিবুল হক ওরফে আলাউদ্দিন মিয়া। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার কন্যা সুইটিকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি বাদি হয়ে ওইদিনই মাদারীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সাতজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হচ্ছে-রাসেল বেপারী, তার পিতা ফিরোজ বেপারী, মা হেনা বেগম, চাচা ফারুক বেপারী, চাচি ছালমা বেগম, চাচা আটককৃত মনির হোসেন ও চাচাতো ভাই মারুফ বেপারী।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালকিনি থানার এস.আই হেকমত আলী জানান, গৌরনদী থানা থেকে গৃহবধূ সুইটির লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার মাদারীপুর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে সুইটির লাশ তার পিতা মজিবুল হক ওরফে আলাউদ্দিন মিয়া গ্রহন করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


মাতৃভাষা বাংলায় বৃহত্তর বরিশাল বিভাগ ও গৌরনদী-আগৈলঝাড়ার সংবাদ প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম, এখানে প্রকাশিত ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় সংবাদের জন্য গৌরনদী ডটকম কোনো রকম দায়ী নয়।
প্রকাশিত সব ধরনের সংবাদ, তথ্য, ছবি, অডিও, ভিডিও কপিরাইট আইনে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে কোনো ধরনের প্রিন্টিং ও অনলাইন মিডিয়াতে ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ করা হল।