Back গৌরনদী খবর দৈনন্দিন বৃহস্পতিবার চাঁদ দেখা গেলে শুক্রবার ঈদ

বৃহস্পতিবার চাঁদ দেখা গেলে শুক্রবার ঈদ

মৃধা আফছার, বরিশাল থেকে : মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসবগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ঈদুল ফিতর। বছর ঘুরে রমজান শেষে আবার এলো ঈদ। তাই বৃহস্পতিবার শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে শুক্রবার সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। তবে ৩০ রোজা হলে ঈদ হবে শনিবার। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজানের অবসানে ঈদের চাঁদ দেখামাত্র ছোট-বড়, ধনী-গরিব প্রতিটি মুসলমানের হৃদয় আনন্দে উদ্বেল হয়ে উঠে। ঈদের দিনে ধনী-গরিব, বাদশা-ফকির নির্বিশেষে সব মুসলমান এক কাতারে ঈদের নামাজ আদায় ও একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে।

ঈদের নামাজের আগে মিষ্টি খাওয়া সুন্নত এবং নামাজের ময়দানে  রাস্তার এক পাশ দিয়ে যাওয়া এবং অপর পাশ দিয়ে ফিরা সুন্নত। প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, চাঁদ দেখে রোজা পালন এবং চাঁদ দেখে ঈদ উদযাপন করবে। তিনি আরো বলেছেন, চন্দ্র মাস ২৯ দিনে হয়, আবার ৩০ দিনেও হয়। যদি আকাশে মেঘ থাকায় চাঁদ দেখা না যায়, তবে ৩০ দিনের গণনা পূর্ণ করবে। ‘রমজানের ওই রোজার শেষে এল খুশির ঈদ’-এই সুর লহরী এখন ভেসে বেড়াচ্ছে আকাশ বাতাস মন্দ্রিত করে। মনপ্রাণ ভরে উঠছে ঈদের আনন্দ রোশনাইয়ে। রমজানের রোজার শেষে খুশির সওগাত নিয়ে আসছে ঈদুল ফিতর। রাসুলুল¬াহ (সাঃ) এ প্রসঙ্গে ইরশাদ করেন যে, সংযম সাধনার পর ঈদের দিনে রোজাদারগণ শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে যান। ঈদুল ফিতর আরবী শব্দ যার অর্থ হচ্ছে উৎসব, আনন্দ, খুশি।

ঈদ মুসলিম উম্মাহর জাতীয় উৎসব। ঈদুল ফিতরের দিনটি প্রতিটি মুসলমান নারী ও পুরুষের জীবনে তাৎপর্যে ও মহিমায় অনন্য। আইয়্যামে জাহেলিয়াত বা ইসলাম প্রাক্কালীন যুগেও আরবে ‘নাইরোয’ ও ‘মেহেরজান’ নামক দুইটি বাৎসরিক উৎসব ছিল অধিক জনপ্রিয়। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) মক্কা হতে মদিনায় হিজরত করে দেখতে পান যে, এই দুইটি জাতীয় উৎসবে মদীনার আবাল বৃদ্ধ বনিতা নানা প্রকার স্থূল খেলায় মেতে উঠেছে। তখন মহানবী (সঃ) তাদের লক্ষ্যহীন আনন্দ-উৎসবের সেই পদ্ধতির পরিবর্তে মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধির পবিত্র স্পর্শমণ্ডিত এবং বহুবিধ কল্যাণধর্মী ঈদ-উল-ফিতরের কথা ঘোষণা করলেন। তিনি বললেনঃ লিকুলি¬কওমিন ঈদ, হা-যা ঈদুনা-অর্থাৎ প্রত্যেক জাতির বাৎসরিক আনন্দ-ফূর্তির দিন আছে। ঈদের দিন হচ্ছে আমাদের জন্য সেই আনন্দ-উৎসবের দিন। এইভাবেই হিজরী দ্বিতীয় বর্ষে মুসলিম জীবনে প্রবর্তিত হ’ল ঈদ। কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায়: ‘আজি আরাফাত ময়দান পাতা গায়ে গায়ে,কোলাকুলি করে বাদশাহ্ ফকিরে, ভায়ে ভায়ে একমাস রোজার শেষে ঈদের আনন্দ প্রতিটি মানুষের মনে খুশির দ্যোতনা ছড়ালেও দরিদ্ররা কি সেই আনন্দ ভেলায় ভাসতে পারছে? কবির কণ্ঠে তাই ধ্বনিত হয়েছে: “জীবনে যাদের হররোজ রোজা ক্ষুধায় আসে না নিদ/মুমূর্ষু সেই কৃষকের ঘরে এসেছে কি আজ ঈদ?”

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধিদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথক পৃথক বিবৃতিতে দেশবাসীর প্রতি ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

-লেখক : কলামিষ্ট

খবরটি শেয়ার করুন

We have 95 guests and no members online