বরিশাল

ব্রিটিশ মানবতাবাদী নারী লুসি হেলেনকে নাগরিকত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ

ব্রিটিশ নারী লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হোল্ট ১৯৬০ সালের দিকে বরিশাল নগরীর অক্সফোর্ড মিশনের একজন কর্মী হিসেবে স্বল্প সময়ের জন্য কাজ করতে এসে মায়ায় আবদ্ধ হয়ে পড়েন।

তিনি বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনে যোগদান করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের শিক্ষা দিতেন। তবে তার জীবনের বেশিরভাগ সময় বরিশালের অক্সফোর্ড মিশন চার্চ সংলগ্ন ক্লিনিকে কাটলেও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যশোরের ফাতেমা হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করে বিশেষ অবদান রেখেছেন।

সেই থেকে ৫৭ বছর ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছেন তিনি। ৮৭ বছর বয়সী মানবতাবাদী লুসি হেলেন জন্মগ্রহণ করেন যুক্তরাজ্যের সেন্ট হেলেন শহরে ১৯৩০ সালের ১৬ ডিসেম্বর। ১৯৪৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা লুসির বড় বোন রুট অ্যান রেভা ফেলটন স্বামী ও তিন ছেলে নিয়ে ব্রিটেনেই বসবাস করেন।

লুসি হেলেন বর্তমানে বরিশাল শহরে অক্সফোর্ড মিশনে কর্মরত রয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান থাকা সত্ত্বেও তাকে কোনো কালেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।

লুসি হেলেন জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন যশোরের ফাতেম হাসপাতালে সেবিকা হিসেকে কর্মরত ছিলাম, তখন যুদ্ধাহত অনেক নারী-পুরুষ হাসপাতালে আসতো। এদের শারীরিক সেবার পাশাপাশি রক্তমাখা কাপড় ধুয়ে ও শুকিয়ে দিতাম। রাতে যখন হাসাপাতালের বারান্দায় দাঁড়াতাম, দেখতে পেতাম দূরে কোথাও ঘর-বাড়িতে আগুনের কুণ্ডলী। শোনা যেতো শেয়াল আর কুকুরের ডাক।

তিনি জানান, বর্তমানে তিনি প্রতি মাসে অবসরভাতা বাবদ মাত্র সাড়ে সাত হাজার টাকার মতো পেয়ে থাকেন। তাকে প্রতি ভিসা নবায়নের জন্য প্রচুর টাকা খরচ করতে হয়। গত বছর ভিসা নবায়নের জন্য ৩৮ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে। যার জন্য বেশ কয়েকবার তিনি এ দেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদনও করেছিলেন। তার ইচ্ছা মৃত্যুর পর বাংলাদেশের মাটিতেই সমাহিত হবেন আর মৃত্যুর পূর্বে তিনি এ দেশের নাগরিকত্ব কামনা করেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বরিশালে বরিশাল বঙ্গবন্ধু উদ্যানে জনসভার আগে ১৫ বছরের মাল্টিপল ভিসাসহ লুসি হেলেনের হাতে পাসপোর্ট তুলে দেন। পাসপোর্ট হস্তান্তরের সময় প্রধানমন্ত্রী মানবতাবাদী লুসি  হেলেনের সঙ্গে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় লুসি হেলেন অভিভূত হন।

বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান জানান, ভিসা ফি মওকুফ ও নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য লুসি হল্টের গত ১৩ ডিসেম্বরের আবেদনপত্র সুপারিশসহ পাঠানো হয়েছিল। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে তিনি ১৫ বছরের জন্য অগ্রিম ভিসা পেয়েছেন। আর নাগরিকত্বের জন্য যে আবেদন করেছেন সেটি সোমবার আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খুব দ্রুত লুসি হেলেন বাংলাদেশের নাগরিকত্বের কাগজপত্র হাতে পেতে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...