গৌরনদী সংবাদ

শীত-কুয়াশায় পান চাষীদের কোটি টাকার ক্ষতি

তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা আর অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহে বরিশালের গৌরনদীতে পানচাষী এবং ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে।

ঠান্ডাজনিত কারণে পান গাছে দাগ, শিকড় পচা, পানে দাগ ও পাতাঝরাসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দিয়েছে। এর ফলে পানের বাজারে ধস নেমেছে। কমেছে দাম। গত তিন সপ্তাহের মধ্যেই পানচাষী এবং এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

গৌরনদীতে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে পান চাষের আবাদ হচ্ছে। এ এলাকার অধিকাংশ লোক পান চাষ করে জীবিকা নিবাহ করছেন। গত এক বছর থেকে বাজারে পানের দাম বেশী। কিন্তু আকস্মিক শৈত্যপ্রবাহের কারণে পানের পাতায় হলদে দাগ দেখা দিয়েছে। পচে যাচ্ছে পান পাতা।

এক গাদি ( ৮০ বিড়ায় এক গাদি আর ৭২টি পানে এক বিড়া) বড় পানের দাম ১০/১২ হাজার থেকে নেমে ৫/৬ হাজার টাকা, মধ্যম পান প্রতি গাদি ৩/৪ হাজার টাকা এবং ছোট পান প্রতি গাদি এক/দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে উপজেলার বিভিন্ন মোকামে কম দামে পান কিনেও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। তারা বলছেন, পানের পাতায় তিলা ও হলুদ দাগ থাকায় এবং পচে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন স্থানের মোকামে আরও কম দামে পান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

পান পরিবহন এবং বিক্রিতে দু’দিন সময় লাগে। আর এ সময়ের মধ্যে পান পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন বাজারে পানির দামে পান বিক্রি করছেন।

উপজেলার পানের বড় মোকাম নীলখোলা এলাহী পান ভান্ডারের মালিক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন মুন্সী বলেন, সোমবার ২০ লাখ টাকার পান কিনি। সেদিনই তিনি ঢাকা, ফেনীসহ বিভিন্ন মোকামে পান সরবরাহ করেন। তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে প্রচন্ড ঠান্ডায় পানের পাতার ওপর কালো দাগ পড়া ও পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সরবরাহকৃত পান নামে মাত্র টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।

বার্থী গ্রামের পানচাষী অর্জুন দত্ত, বাবুল চক্রবর্তী, কটকস্থল গ্রামের আলাম মাঝি, আলম হাওলাদার বলেন, তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা আর অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহের কারণে পানের পাতা লালসে হয়ে ঝড়ে পরে। বরজ থেকে যখন পরা পান সংগ্রহ করতে গেলে অন্য পানও ঝড়ে যায়। এসব পান বাজারজাত করার জন্য পান গাদি করার সময় দেখা যাচ্ছে পাতায় কালো দাগ। আবার পচা পাতাও পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে পানের বাজারে ধস নেমেছে। একবিঘা বরজ করতে খরচ হয় ছয় লাখ টাকা। এবার লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন ব্যয় উঠবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, উপজেলার এবার ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ রয়েছে। আমাদের পক্ষথেকে চাষীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। তাদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পানবরজ বর্তমানে যে সব রোগবালাই দেখা দিয়েছে সে ব্যাপারে আমাদের মাঠকর্মীরা প্রতিনিয়ত চাষীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। অতিরিক্ত শীতের কারণে এ ধরনের রোগবালাই হচ্ছে। আমরা আশা করছি, পানবরজের পরিচর্যা করলে এবং শীত কমে গেলে এক সপ্তাহের মধ্যে এ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...