জাতীয়

নির্বাচন বিএনপির অধিকার, তাহলে সংলাপ কেন: কাদের

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বিএনপির সংলাপের আহ্বান আবারও নাকচ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, ‘সংবিধানেই নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার কথা রয়েছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপির সাংবিধানিক অধিকার। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। তাই এ নিয়ে সংলাপের প্রয়োজন নেই। আগুন-সন্ত্রাসের রাজনীতি করে বিএনপি যে ভুল করেছে তার মাশুল তাদের আরও অনেক দিন দিতে হবে।’

শনিবার বিকেলে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে ‘বহুরূপী’ বলেও উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তার কথায় গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ব্যারিস্টার মওদুদ আইনের মুখোশ পরে বেআইনি কথা বলেন। তার সম্পর্কে যত কম কথা বলা যায় ততই ভালো। তিনি সংবিধান ভালো করে পড়েননি। আর একবার পড়লে সংবিধানেই নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা খুঁজে পাবেন।’

শুক্রবার জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণকে নতুন প্রজন্মের জন্য রাষ্ট্রনায়কোচিত ভাষণ হিসেবেও উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কোনো জটিলতা নেই। দেশের জনগণও মনে করে-সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো জটিলতা নেই। বিএনপি নিশ্চয় সরকারের দয়া-দাক্ষিণ্যের ওপর নির্বাচন করবে না। অধিকার নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে বসাবসির প্রয়োজন হবে কেন?’

সাংবাদিকদের প্রশ্নে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘সংলাপ একেবারেই হবে না, এমন কোনো কথা নেই। কোনো বিষয়ে সংলাপ প্রয়োজন হলে তা হবে। পরিস্থিতিই তা ঠিক করে দেবে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, সংলাপে বসার ব্যাপারে কোনো আপত্তি নেই; কিন্তু সংলাপের পরিবেশ বিএনপিই গত নির্বাচনের আগে নষ্ট করেছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ফোন করেছিলেন। সেদিন খালেদা জিয়া চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছিলেন। এরপর সন্তানহারা মায়ের কাছে গেলেও বিএনপি চেয়ারপারসন দরজা পর্যন্ত খোলেননি। এসব ভুলে গেলে চলবে না। তখন প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে খালেদা জিয়া সংলাপের জন্য গণভবনে এলে দেশের রাজনৈতিক চেহারাটাই পাল্টে যেত।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘বিএনপি তখন নির্বাচনে অংশ না নিয়ে জ্বালাও-পোড়াওয়ের নিষ্ঠুর রাজনৈতিক খেলায় নেমেছিল। মানুষ সে ভয়াবহ আগুন-সন্ত্রাসের কথা ভুলে যায়নি। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানে এবারও যদি বিএনপি জ্বালাও-পোড়াওয়ের মাধ্যমে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করে তাহলে জনগণই তাদের প্রতিরোধ করবে। তারা আর কোনো অচলাবস্থার সৃষ্টি করতে পারবে না।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দলমত নির্বিশেষে সবার ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছে। এ ভাষণ আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ছিল ইতিবাচক, গঠনমূলক ও দিকনির্দেশনামূলক। জনগণ খুশি হয়েছে এবং স্বাগত জানিয়ে গ্রহণ করেছে। শুধু বিএনপি চরমভাবে হতাশ হয়েছে। এ কারণেই তারা আবারও মিথ্যাচারের ভাঙা রেকর্ড বাজিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির মাথায় নেতিবাচক রাজনীতি থাকে বলেই তারা ইতিবাচক ভাষা বোঝে না। জনগণের চোখের ভাষা বোঝে না বলেই বিএনপি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের সমালোচনা করে কাদের আরও বলেন, ‘বিএনপি পাকিস্তানি ভাবধারার রাজনীতি করে। তারা জেনেশুনেই এটা করে। এ জন্য কথায় কথায় তারা পাকিস্তানের কথা বলে। তাদের মিথ্যা বক্তব্যই তা প্রমাণ করে।’


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...