গৌরনদী সংবাদ

গৌরনদী থেকে গ্রাহকের দেড় কোটি টাকা নিয়ে উধাও

গৌরনদীতে বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আল-মদিনা ইসলামী সঞ্চয় ও ঋণদান কো-অপারেটিভ লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান গৌরনদী উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের সতেরটি গ্রামের পাঁচ শতাধিক গ্রাহকের দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। গত সোমবার তদন্ত শেষ করে বুধবার আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপজেলা সমবায় অফিসার এস, এম ফরিদ হোসেন।

আদালত সুত্রে জানা গেছে, দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আল-মদিনা ইসলামী সঞ্চয় ও ঋণদান কো-অপারেটিভ লিমিটেডের স্থানীয় শাখা ব্যবস্থাপক মো. তোফাজ্জেল হোসেন বাদি হয়ে সংগঠনটির চেয়ারম্যান পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার তাফালবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিম মুন্সীর পুত্র চৌধুরী মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার ১ম স্ত্রী বেগম খাদিজা ইসলাম, সহকাররী পরিচালক ২য় স্ত্রী সৈয়দা ইসরাত জাহানকে আসামি করে গত ২২ জুন বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে সমন জারী করেন এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য অঅদালতের বিচারক গৌরনদী উপজেলার সমবায় অফিসার এসএম ফরিদ আহম্মেদকে দায়িত্ব প্রদান করেন।

স্থানীয় লোকজন, প্রতারিক গ্রাহক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৯ সালে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার তাফালবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিম মুন্সীর পুত্র চৌধুরী মুহাম্মদ শহিদুল ইসলামকে চেয়ারম্যান, তার ১ম স্ত্রী বেগম খাদিজা ইসলামকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ২য় স্ত্রী সৈয়দা ইসরাত জাহান সহ-ব্যবস্থাপানা পরিচালক ও তার পুত্র হামিদুল ইসলামকে সহকারী পরিচালক করে আল-মদিনা ইসলামী সঞ্চয় ও ঋণদান কো-অপারেটিভ লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান আত্মপ্রকাশ করেন। ওই বছর ফেব্রয়ারি মাসে গৌরনদীর পিংলাকাঠী বন্দরে একটি অফিস ভাড়া নিয়ে ভূয়া সংগঠনটি গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া, সরিকল ও বাটাজোর ইউনিয়নের দারিদ্র বিমোচনে কার্যক্রম শুরু করেন। উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের পিঙ্গলাকাঠি, কান্ডপাশা, কুতুবপুর, কলাবাড়িয়া, শংকরপাশা, দিয়াশুর, লেবুতলী, কালনা সরিকল ইউনিয়নের শরিকল, হোসনাবাদ, মিয়ারচর, চর-শরিকল, সাকোকাঠি, শাহজিরা ও বাটাজোর ইউনিয়নের শংকরপাশা, বাহাদুরপুর, দক্ষিণ বাহাদুরপুরসহ ১৭টি গ্রামের গ্রাম সংগঠনের নামে পাঁচ শতাধিক সদস্যভূক্ত করে লোভনীয় ফাঁদে ফেলে গ্রাহকদের দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে যায়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপজেলা সমবায় অফিসার এস, এম ফরিদ হোসেন বলেন, সোমবার তদন্ত শেষ করে গতকাল বুধবার আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্ত চলাকালে ৩৫ জন গ্রাহকের সাক্ষ গ্রহন ও কাগজপত্র পরীক্ষ নিরীক্ষা করা হয়েছে। তদন্তেকালে ৩৫ জনের কাছ থেকে ৩৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রমান পাওয়া গেছে । এছাড়া গ্রামের হতদরিদ্র আরো প্রায় সাড়ে তিনশত মানুষকে লোভনীয় ফঁদে ফেলে প্রতারনা করে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তিনি আরো বলেন, ক্ষতিগ্রস্থরা যাতে সুবিচার পান সে ব্যপারে বিজ্ঞ বিচারকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদনে মতামত পেশ করা হয়েছে।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...