গৌরনদী সংবাদ

গৌরনদীতে যুবতিকে ফেলে প্রতারক স্বামীর পলায়ন

পিতা-মাতা হারা অসহায় যুবতি সনিয়া বেগম রংপুরে মামা বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতো। সে সুবাদে মামা গত বছর অক্টোবর মাসে বিয়ে দেন রং মিস্ত্রি রুবেল হাওলাদারের কাছে। ঢাকার ভাড়া বাসা থেকে গ্রামের বাড়ি বরিশালের উজিরপুরে বেড়ানোর কথা বলে রুবেল হাওলাদার তার স্ত্রীকে গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ড ফেলে সটকে পরে। অসহায় সনিয়া বেগম গত দুই দিন বিভিন্নস্থানে আশ্রয়ের পর বুধবার রাতে তার আশ্রয়ের ঠিকানা হয়েছে গৌরনদী থানা কমপ্রেক্সে।

রংপুর সদরের চিরাইপাড়া গ্রামের মৃত রাজ্জাক চকিদারের অসহায় কন্যা সনিয়া বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, মায়ের গর্ভে থাকা কালে তার পিতা মারা যান। ২ বছর বয়সে মারা যায় মা রেহানা বেগম। সনিয়া দিনমজুর মামা মামুন মাতুব্বরের কাছে বড় হয়। পরবর্তীতে মামাবাড়ি থেকে পাশ্ববর্তী বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। অভাবের সংসারে গত বছর ২৫ অক্টোবর সনিয়ার সাথে জনৈক রং মিস্ত্রি রুবেল হাওলাদারের সাথে সনিয়ার সামাজিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর পর রুবেল ঢাকার মধ্যবাড্ডায় একটি ভাড়া বাসায় দাম্পত্য জীবন শুরু করে। সনিয়া রুবেলের নাম ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি বলতেন তার পিতার নাম সোবহান হাওলাদার, মাতার নাম খাদিজা বেগম, গ্রাম তেরআনা, উপজেলা উজিরপুর, জেলা বরিশাল।

সনিয়া মাঝে মধ্যেই বায়না ধরতো রুবেলের বাড়িতে আসার জন্য। গত ২৩ জুলাই রাতে রুবেল বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলে সনিয়া বায়না ধরে সেও রুবেলের সাথে আসবে। এ নিয়ে রুবেলের সাথে সনিয়ার বাকবিতান্ডা হয়। পরবর্তীতে সনিয়াকে এক কাপড়ে ঢাকা থেকে বরিশালের নৈশ কোচে ২৪ জুলাই সকালে গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ডে আসে। বাসষ্ট্যান্ডের যাত্রী ছাউনিতে বসিয়ে রেখে গা ঢাকা দেয় রুবেল। দুপুর গড়িয়ে গেলেও রুবেল না ফেরায় তার মুঠো ফোনে ফোন দেয় সনিয়া। এ সময় তার মুঠো ফোন বন্ধ পায়। নিরুপায় হয়ে অসহায় সনিয়া চোখে শুধু অন্ধকার দেখে। এক পর্যায়ে জনৈক অটো চালক রাসেল তার এক পরিচিত মহিলার কাছে মাদারীপুরের তাঁতীবাড়ি আশ্রয়ের জন্য পাঠায়। সেখানে দুই দিন থাকার পর বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁতীবাড়ি থেকে স্বামীর সন্ধানে গৌরনদী পৌরসভার সীমান্তর্তী বেজগাতি আসে। এ সময় কিছু বখাটে সনিয়ার পিছু নেয়। এ পরিস্থিতি দেখে স্থানীয় ভ্যানচালক মকবুল মৃধার স্ত্রী রেহানা বেগম সনিয়াকে তার বাড়িতে নিয়ে গোসল করিয়ে তার মেয়ের পরিহিত পোষক পরিয়ে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় স্থানীয় এক সিনিয়র সাংবাদিক বিষয়টি জানতে পেরে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফিরোজ কবিরকে অবহতি করেন। পরবর্তীতে ওসি পরামর্শে রাতেই সনিয়াকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

এ ছাড়া তার প্রতারক স্বামীর সামাজিক যোগাযোগ আইডি (ফেইজবুক) তার ব্যবহৃত মোবাইল নং ০১৭২১৬২৮১৪৬ অনুসন্ধান করলে MD Rubel Hawladar নামে এ ফেইজবুক আইডিটি পাওয়া যায়।

সনিয়া আরো জানায়, রুবেলে চাচাত ভাই ডালিম হাওলাদার পপুলার হাসপাতালে চাকুরি করেন।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...