বরিশাল

সরকারি রেটের ফাঁদে বাড়ছে লঞ্চ ভাড়া, এবারও জিম্মি দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো এবং ঈদ শেষে কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের জন্য দক্ষিণাঞ্চলের ২৮ নৌরুটে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস শুরু হবে ২২ জুন থেকে। ঈদের পর এক সপ্তাহ বিশেষ সার্ভিস চলবে।

এদিকে ঈদ সামনে রেখে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার ফাঁদে ফেলে প্রতিবছরের মতো এবারও দক্ষিণাঞ্চলের নৌরুটগুলোতে লঞ্চ ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ সার্ভিসে প্রতিদিন ঢাকা-বরিশাল রুটে চলবে ১৩ থেকে ১৫টি লঞ্চ।

লঞ্চ মালিকরা সারা বছর যে রেটে ভাড়া নেন, ঈদ এলেই তা বদলে যায় সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অজুহাতে। ঘরমুখো মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে এক যুগ ধরে মালিকরা এ কাজ করলেও দেখার যেন কেউ নেই। বরিশাল-ঢাকা রুটের সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানির স্বত্বাধিকারী সাইদুর রহমান রিন্টু লঞ্চ ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, তারা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার মধ্যেই বাড়তি ভাড়া নেবেন। সারা বছর প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসার

কারণে লঞ্চ মালিকরা যাত্রীদের কাছ থেকে কম ভাড়া নিয়ে থাকেন।

লঞ্চ মালিকদের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সারা বছর রাজধানী থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী লঞ্চগুলোতে ডেকে ২০০, সিঙ্গেল কেবিন ৯০০ এবং ডাবল এক হাজার ৮০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। ভিআইপি কেবিনের ভাড়া নেওয়া হয় প্রকারভেদে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। কিন্তু সরকারের সর্বশেষ নির্ধারিত লঞ্চ ভাড়া অনুযায়ী ডেকের ভাড়া ২৫৮, সিঙ্গেল কেবিন এক হাজার ৩৫০ এবং ডাবল কেবিন দুই হাজার ৩৫০ টাকা। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার ক্ষেত্রে ভিআইপি কেবিনের ভাড়া নির্ধারিত নেই। সারা বছর লঞ্চ মালিকরা উপরোক্ত ভাড়া নিলেও ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অজুহাত তুলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন। ঈদপূর্ব এবং পরবর্তী ১৫ দিন চলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়।

সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানির অন্যতম পরিচালক আকতার হোসেন আকেজ সাংবাদিকদের জানান, ঈদের বিশেষ সার্ভিস চলাকালীন লঞ্চ মালিকরা যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়া নেবেন। সরকার নির্ধারিত রেটের মধ্যে থেকেই এবারের ঈদে ডেক ২৫০, সিঙ্গেল (এসি/ননএসি) এক হাজার ১০০ এবং ডাবল (এসি/ননএসি) দুই হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ঈদ উপলক্ষে ৪ হাজার টাকার ভিআইপি কেবিনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা।

সালমা শিপিং লাইন্সের স্বত্বাধিকারী মঞ্জুরুল আহসান ফেরদৌস জানান, সারা বছর লঞ্চ মালিকরা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করেন। এতে অনেক রুটে লোকসানও হয়। ঈদের সময় যাত্রী বেশি হওয়ার কারণে ওই লোকসান কাটিয়ে ওঠার সুযোগ আসে। তা ছাড়া বিশেষ সার্ভিস দিতে গিয়ে ঈদের আগে ও পরে উভয় প্রান্ত থেকে খালি জাহাজ চালিয়ে যেতে হয়। এজন্য লঞ্চ মালিকরা জ্বালানি তেলের বাড়তি ব্যয় পুষিয়ে নিতে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার মধ্যেই বাড়তি ভাড়া নিয়ে থাকেন। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, লঞ্চ মালিকরা ঘরমুখো লাখ লাখ মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে দুটি ঈদ উৎসবে সরকারি রেটের নামে যাত্রীদের শুভঙ্করের ফাঁদে ফেলেন। আর কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া হাতিয়ে নেন।

ঈদ উৎসবে লঞ্চ ভাড়া বাড়ানো প্রসঙ্গে মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, অন্য সময় যাত্রী কম থাকে। ভাড়াও কম নেওয়া হয়। বিষয়টি প্রতিযোগিতামূলক বিধায় যখন যাত্রী বেশি হয় তখন ভাড়া বাড়ানো হয়। তবে তা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার মধ্যেই।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...