গৌরনদীতে মাদক সম্রাট মানিক মাঝিকে নিয়ে আরো অভিযান গ্রেফতার-৩

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া এলাকার একটি ভাড়াটিয়া বাসা থেকে শনিবার সন্ধ্যায় ১২০পিস ইয়াবাসহ মাদক সম্রাট ও যুবলীগ নামধারী নেতা মানিক মাঝি (৪০)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে উপজেলার কটকস্থল গ্রামের মজিবুর রহমান ওরফে ইঈুল মাঝির ছেলে। মানিককে গ্রেপ্তারের পর তাকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার সহযোগী কটকস্থল গ্রামের নাসির মাঝি, আল মাদানিসহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে। নাসির মাঝির বসত ঘরে মধ্যে ইয়াবা রাখার বাংকার আবিস্কার করেছে পুলিশ কিন্তু বাংকারে রাখা ইয়াবা পুলিশ পৌছার আগইে সরিয়ে ফেলে।

গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. ফিরোজ কবির জানান, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক সম্রাট মানিক মাঝি গোপনে ইয়াবার চালান আমদানী করে বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন মাদকস্পটে মাদক বিক্রেতাদের কাছে পাইকারী দরে বিক্রি করে আসছিল।

সম্প্রতি তার আপন ভাই হিরা মাঝি, তার সহযোগী বার্থী ইউপির সদস্য মামুনুর রশিদ ওরফে মুন্না মোল্লা, শহিদ বেপারীকে ৯ শত পিস ইয়াবাসহ আটক করে বরিশাল ডিবি পুলিশ। ওই তিন মাদক বিক্রেতার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গৌরনদীর ইয়াবার হোলসেলার হিসেবে মানিক মাঝির নাম জানা যায়। এরপর সে আত্মগোপন করে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার (ওসির) নেতৃত্বে একদল পুলিশ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার মাহিলাড়া এলাকার একটি ভাড়াটিয়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ১২০পিস ইয়াবাসহ মাদক সম্রাট মানিক মাঝিকে আটক করা হয়। এ ব্যাপারে থানার এস.আই মনিরুল আলম বাদি হয়ে মাদক সম্রাট মানিক মাঝিকে আসামি করে রাতেই থানায় মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের তালিকায় মাদকের গডফাদার ও মাদক সম্রাট হিসেবে মানিক মাঝির নাম রয়েছে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার সহযোগীদের গ্রেফতার ও মাদক উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

এলাকাবাসী জানায়, মানিক মাঝি নিজেকে যুবলীগের নেতা জাহেরী করতে জাতীয় শোক দিবসে আগস্ট মাসব্যাপী বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে উপজেলার কটকস্থল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তোরণ নির্মাণ করে রাখেন। ঈদুল ফিতরসহ বিভিন্ন পালাপর্বনে উপজেলাবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বরিশাল-১ আসনের এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র ছবি সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন তৈরি করে করে মহাসড়কের গৌরনদীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকার গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে মানিক মাঝি। উপজেলা পর্যায়ের আ’লীগের অধিকাংশ নেতা মানিকের বাড়িতে দাওয়াত খেয়েছেন। সে সুবাদে গত ইউপি নির্বাচনে আ’লীগের মনোনয়ন বোর্ডের কাছে তিনি (মানিক) দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় আবেদন করেছিলো। দীর্ঘদিন থেকে মানিক মাঝি নিজেকে যুবগীগের নেতা দাবি করে পুলিশ প্রশাসনকে মাসোহারা দিয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলো। কিন্তু মাদকের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষনা করেন গৌরনদী মডেল থানার নবাগত ওসি মোঃ ফিরোজ কবির। তিনি যোগদান করার পর পরই ক্ষমতাসীন দলের ওই প্রভাবশালী নেতা শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মানিক মাঝিকে গ্রেপ্তার করে।

মানিক মাঝিকে গ্রেপ্তারে এলাকার মানুষ নবাগত ওসি ফিরোজ কবিরকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ইতিপূর্বে কোন ওসি মানিক মাঝিকে গ্রেপ্তার করতে সাহস পায়নি। ওসি ফিরোজ কবির বলিষ্ট সাহসের সঙ্গে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মানিক মাঝিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন। সম্প্রতি মানিকের আপন ভাই হিরা মাঝি, তার সহযোগী বার্থী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও ইউপির সদস্য মামুনুর রশিদ ওরফে মুন্না মোল্লা, যুবলীগ নেতা শহিদ বেপারীকে ৯০০পিসইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। তারা জেলহাজতে থাকলেও এখনও মানিক মাঝির ৮-১০ জন সহযোগী বিক্রেতা রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

শেয়ারঃ