অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা বুঝবেন যেভাবে

সাধারণ পেটে ব্যথা এবং অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথার পার্থক্য জানা আছে আপনার? পার্থক্যটা না বুঝলে আপনার এখনই হাসপাতালে যাওয়া উচিত কিনা সে বিষয়টি নির্ধারণ করা বেশ কঠিন। অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা হঠাৎ করেই শুরু হয় বলে এর উপসর্গ সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। চলুন তাহলে জেনে নিই অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথার উপসর্গগুলোর বিষয়ে।

পেটের নীচের অংশে বৃহদান্ত্র এর সাথে সংযুক্ত থলির মত ছোট অঙ্গকে অ্যাপেন্ডিক্স বলে। যখন অ্যাপেন্ডিক্স ফুলে যায় ও উদ্দীপ্ত হয় এবং এর ভেতরে পুঁজ জমে তখন প্রচন্ড ব্যথার সৃষ্টি হয়। একেই অ্যাপেন্ডিসাইটিস বলে।

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা শুরু হয় নাভির চারপাশ থেকে। সময়ের সাথে সাথে এই ব্যথা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তা তলপেটের ডান পাশে ছড়িয়ে যায়। প্রথম লক্ষণ দেখা যাওয়ার ১২-১৮ ঘন্টার মধ্যে তীব্র ব্যথা হতে দেখা যায়। এর পরে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে।

যেকোন বয়সের যেকোন মানুষ যেকোন সময়ে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথায় আক্রান্ত হতে পারে। যদিও ১০-১৩ বছর বয়সের মানুষদেরই অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা হতে দেখা যায় বেশি।

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের লক্ষণ খুব অল্প সময়ে নির্ণয় করাটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর চিকিৎসা পদ্ধতি বেশ জটিল বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে। বিভিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে লক্ষণের বিভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলো হচ্ছে :

১। নাভির চারপাশে ব্যথা শুরু হয় এবং সময়ের সাথে সাথে তা অন্যত্র অর্থাৎ তলপেটে স্থানান্তরিত হয়।

২। পেটের ডানপাশে অথবা পেছনে তীব্র ব্যথা হয়।

৩। ওই স্থানে চাপ দিলে অসহ্য ব্যথা হয়।

৪। শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়।

৫। কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে।

৬। সময়ের সাথে সাথে জ্বরের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।

৭। ক্ষুধামন্দা দেখা দিতে পারে।

৮। কাঁপুনি দেখা দিতে পারে।

৯। বমি বমি ভাব থাকে এবং বমি হয়।

অ্যাপেন্ডিসাইটিস হওয়ার কারণ

বিভিন্ন কারণে হতে পারে অ্যাপেন্ডিসাইটিস, সবচেয়ে সাধারণ কারণটি হচ্ছে অ্যাপেন্ডিক্সের মধ্যে কোন বাঁধার সৃষ্টি হলে। এটা হতে পারে খাবার বা মলের কারণে অথবা সংক্রমণের কারণে। গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল সংক্রমণের কারণেও হতে পারে অ্যাপেন্ডিসাইটিস।

ব্যাকটেরিয়া খুব দ্রুত সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে, যার কারণে পুঁজের মত সংক্রামক বস্তু বা তরল অ্যাপেন্ডিক্সকে পরিপূর্ণ করে তোলে। এর ফলে এপেন্ডিক্সে প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।

যদি অ্যাপেন্ডিক্স বার্স্ট হয়ে যায় তাহলে এর ভেতরের সংক্রমিত পদার্থ পেটের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এর  ফলে পেরিটোনাইটিস হয়, যার কারণে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। জটিলতা এড়ানোর জন্য অপারেশনের মাধ্যমে এপেন্ডিক্স সরিয়ে ফেলাই হচ্ছে সবচেয়ে কার্যকরী চিকিৎসা।

যদি আপনার নাভির চারপাশে ব্যথা হয় এবং আস্তে আস্তে এই ব্যথা পেটের ডানপাশে ও পেছনে ছড়িয়ে যায় এবং ওই স্থানে চাপ দিলে তীব্র ব্যথা হয় তাহলে আপনার অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা হচ্ছে বুঝতে হবে। এগুলোর পাশাপাশি তীব্র জ্বর আসলে, বমি বা ডায়রিয়ার সাথে রক্ত গেলে, পেটে শক্ত অনুভব হলে, বুকে বা ঘাড়ে ব্যথা হলে, প্রস্রাবের সময় ব্যথা হলে এবং মাথা ঘোরার অনুভুতি হলে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে আপনার অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা শুরু হয়েছে। এধরণের উপসর্গ দেখা যাওয়ার সাথে সাথে দ্রুত এবং জরুরী ভিত্তিতে হাসপাতালে যেতে হবে। অ্যাপেন্ডিসাইটিস প্রতিরোধ করা অসম্ভব। তাই উপসর্গ দেখা দিলে জটিলতা কমানোর জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে ভালো।

তথ্যসূত্র :   স্টেপ টু হেলথ 


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

মন্তব্য করুন