পরিণত বুদ্ধির মানুষেরা কখনোই করেন না এই ভুলগুলো

একজন মানুষ মানসিকভাবে কতটা পরিণত তা নির্ভর করে না তার বয়সের ওপর। অনেক ভালোবাসার সম্পর্কই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে উভয়ের মানসিক পরিপক্কতার মাত্রা না মেলার কারণে। একজন যখন চিন্তা করছেন সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যতের, অন্যজন ভাবছেন নিজেকে কীভাবে আরও সুন্দর করে প্রকাশ করবেন আর এজন্য সঞ্চয়ের পরিবর্তে পোশাক বা এ জাতীয় পণ্যে অর্থ ব্যয় করে ফেলছেন। আপাত চোখে এই পার্থক্য খুবই সামান্য মনে হলেও একসাথে জীবনযাপনে বার বার মতের পার্থক্য তৈরি করে মনের দেয়াল। উভয়ের বয়স এক হলেও মানসিক পরিপক্কতা এক নাও হতে পারে। আবার বয়সে যে বড় তার মানসিক পরিপক্কতা অপরজনের তুলনায় কমও হতে পারে।
আসুন জেনে নিই, পরিণত বুদ্ধির মানুষেরা কোন কাজগুলো কখনোই করেন না। 
ম্যাচিউর একজন মানুষ কখনো তার সমস্যা থেকে পালিয়ে যান না
সমস্যা থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিলে তার সমাধান হয় না। বরং ভোগান্তি বাড়ে। আমরা যতই বড় হতে থাকি, নিজের ক্ষুদ্র গন্ডি থেকে বের হয়ে আসতে থাকি, ততই নানান সমস্যার সম্মুখীন হই। এমন অনেক কিছুর সাথে আমাদের পরিচয় ঘটে যা আমরা আগে দেখি নি, জানি নি। কিন্তু পরিপক্ক মানসিকতার একজন মানুষ জানেন, মুখোমুখি মোকাবেলাই দিতে পারে মুক্তি। যতই এড়িয়ে যাবেন ততই আরও বাড়বে জটিলতা।

সমালোচনা করেন না
সমালোচনা করা কোন দায়িত্ব নেওয়ার পর্যায়ে পড়ে না। বরং ক্রমাগত সমালোচনা আপনার সাবলীলতা নষ্ট করতে যথেষ্ট। যিনি আপনাকে ভালবাসেন তিনি কখনোই আপনার সমালোচনা করবেন না। আপনার পোশাক, আর্থিক অবস্থা, পছন্দকে কটাক্ষ করবেন না। ম্যাচিউর একজন মানুষ সহযোগিতার মনোভাব রাখেন। আপনি খুশী হলেই সে খুশী। তার পছন্দে অন্যকে পরিচালনা করতে চান না তিনি।
আবেগ প্রকাশে ভয় করেন না
আবেগ প্রকাশ মানেই দূর্বলতা প্রকাশ নয়, ম্যাচিউর একজন মানুষ জানেন সেই কথা। তিনি আরও জানেন কীভাবে  আবেগ প্রকাশ করলে মানুষ তার সুযোগ নিতে পারবে না। একজন মানুষ হিসেবে তাই নির্ভয়ে তিনি তুলে ধরেন নিজেকে। সরাসরি জানান ভালোবাসার কথা, খারাপ লাগার কথা।

তার সঙ্গ আপনাকে অবহেলার অনুভূতি দেবে না

একজন ম্যাচিউর মানুষ খেয়াল রাখেন ভালোবাসার মানুষের আবেগের। তিনি চান আপনি ভাল থাকুন। তার সঙ্গ আপনাকে গর্বিত করে, কারণ তিনি আপনার মূল্যায়ণ করেন, আপনাকে সম্মান দেন। তার আরও অনেক দায়িত্ব থাকতে পারে। কিন্তু তা কখনো আপনার প্রতি হেলা করে পালন করবেন না তিনি।

তিনি মা্নুষকে সম্মান দিতে জানেন
সম্পর্কে সম্মান প্রকাশের অনেক ধরণ রয়েছে। একজন ম্যাচিউর মানুষ কখনোই আপনার ওপর দোষ চাপিয়ে নিজেকে রক্ষা করবেন না। আপনার বিশ্বাসকে হেসে উড়িয়ে দেবেন না কখনো। আপনার আবেগকে যথাযথ সম্মান দেবেন তিনি। কারণ তিনি জানেন সুস্থ সম্পর্ক গড়ে ওঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং বিশ্বাসের ভিত্তিতে।

বাবা-মাকে অসম্মান করেন না
মানসিক পরিপক্কতা একজন মানুষের মাঝে কৃতজ্ঞতা তৈরি করে। তাই এ ধরণের মানুষ কখনো অভিভাবককে অসম্মান করেন না। বরং তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন। খেয়াল রাখেন তাদের প্রয়োজনের। পাশে থাকেন মানসিক যে কোন পরিস্থিতিতে।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
একজন ম্যাচিউর মানুষ শুধু বর্তমানের কথা ভাবেন না। তিনি ভাবেন ভবিষ্যতের কথাও। তাই করেন পরিকল্পনা। শুধু নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যান না তিনি। সাথে খেয়াল রাখেন প্রিয় মানুষদেরও। ভালোবাসার মানুষের কথাও ভাবেন তিনি। তিনি স্বার্থপর নন, যত্নশীল নিজের প্রতি এবং সবার প্রতি।

সূত্র- ডেভিড ওলফ


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

মন্তব্য করুন