সিনেমাকে চাঙ্গা করতে জাজের নতুন উদ্যোগ

বাংলাদেশের শীর্ষ চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা জাজ মাল্টিমিডিয়া তাদের ব্যবসার ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জাজ মাল্টিমিডিয়া ছবি নির্মাণের পাশাপাশি হল ডিজিটালাইজেশনসহ নানা ধরনের কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে। সেসব খাতগুলোর ক্ষেত্রেই জাজ মাল্টিমিডিয়া নতুন নীতি গ্রহণ করেছে। এ নীতিমালায় প্রজেক্টরের ভাড়া কমানো, সিনেপ্লেক্স নির্মাণ ও পাইরেসি বন্ধে নতুন উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। জাজ মাল্টিমিডিয়া তাদের ফেসবুক পেইজে এ সংক্রান্ত একটি নোটও প্রকাশ করেছে। জাজের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ প্রযোজক ও নির্মাতারা।

জাজ মাল্টিমিডিয়া প্রকাশিত নোটটি নিচে তুলে ধরা হলো-

বর্তমানে মুভি প্রতি এনকোডিং চার্জ আমরা নিচ্ছি ১২ হাজার টাকা হল প্রতি। এটা প্রযোজক সমিতির সাথে জাজ এর এগ্রিমেন্ট আছে। এর পর আমরা প্রযোজক সমিতির প্রাক্তন নেতাদের সাথে বসেছিলাম রেট কমানোর জন্য। কিন্তু আশানরুপ সাড়া পাই নাই। আশানুরুপ সাড়া না পাওয়ার কারণ হলো, যেহেতু নেতারা সিনেমা বানায় না, তাই আমরা ১২ হাজার নিলে যেমন তাদের ক্ষতি নাই, তেমনি কম নিলেও তাদের কোন লাভ নাই। বরং আমরা বেশি নিলে তাদের লাভ হলো, তারা সাধারণ প্রযোজক কে বলতে পারে যে জাজ বেশি নিচ্ছে। জাজ এর বদনাম করে তাদের নেতাগিরি টিকিয়ে রাখতে চাচ্ছে।

জাজ মনে করছে, এই সব তথা কথিত নেতাদের কুটিল পলিটিক্স থেকে সাধারণ প্রযোজকদের উদ্ধার করা উচিৎ। এর জন্য আমার গত ২৮শে এপ্রিল নিন্মোক্ত ঘোষণা দিয়েছিঃ

১। এই ঈদ থেকে আমরা ২৫০ হল ডিজিটাল এর আউতায় নিয়ে আসব। যা হবে সম্পূর্ণ কেডিয়াম ভিক্তিক এঙ্ক্রিপ্টেড সার্ভার। তাই এই সার্ভার থেকে কপি বা পাইরেসি করা সম্ভব নয়। আমরা যদি সফল হই তবে আমরা পাইরেসি মুক্ত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উপহার দিতে পারব।

২। আমরা ২৫০ টা সিনেমা হল কে ৪ টা ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছি। A, B, C, D… যাহার VPF CHARGE হবেঃ

প্রথম সপ্তাহেঃ

A – ক্যাটাগরি – about ৪৫টি সিনেমা হল – ১০,০০০ টাকা

B – ক্যাটাগরি – about ২৫টি সিনেমা হল – ৮,০০০ টাকা

C – ক্যাটাগরি – about ৫৫টি সিনেমা হল – ৬,০০০ টাকা

D – ক্যাটাগরি – about ১২৫টি সিনেমা হল – ৫,০০০ টাকা

দ্বিতীয় ও পরবর্তী সপ্তাহঃ

A ও B – ৫,০০০ টাকা

C ও D – ৩ হাজার টাকা

এতে প্রযোজক এর অর্থ সাশ্রয়ী হবে।

এটা কার্যকর হয়েছে ১লা মে থেকে।

৩। জাজ এই ঈদ এর মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া ৫০টি হল ভাড়া নিয়ে, সম্পূর্ণ নতুন ভাবে ডেকোরেশন করে খোলার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে আমারা ১৮টি হল ভাড়া নিয়েছি। আর বাকি হল গুলির সাথে কথা চলছে। আশা করি, এই ঈদের পর থেকে প্রযোজকগন চলতি হল গুলির সাথে, আরও ৫০ টি হল এ সিনেমা মুক্তি দিতে পারবে।

৪। কাজ চলছে ৪টি সিনেমপ্লেক্স তৈরি করার। প্রাথমিক বাজেট ১৫ কোটি টাকা।

৫। এ ছাড়া কাজ চলছে ডিজিটাল টিকেটিং সিস্টেম এর। আশা করছি এই সিস্টেম এই রোজার ঈদ থেকে চালু হবে। বর্তমানে আমাদের এই প্রোজেক্টটি পরীক্ষাধীন (টেস্ট রান) আছে।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

শেয়ারঃ

মন্তব্য করুন