এরকম অ্যাকশন সিনেমায় দর্শক এর আগে আমাকে কখনো দেখেনি : আরিফিন শুভ

ঢাকাই ছবির নায়ক আরিফিন শুভ। ২২ এপ্রিল মুক্তি পেল তাঁর নতুন ছবি ‘মুসাফির’। পরিচালনা করেছেন আশিকুর রহমান। তার বিপরিতে দেখা মিলবে নবাগতা মারজান জেনিফার। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরেই শুভ’কে মুঠোফোনে ফোন করে পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে তার সঙ্গে কথা হল-২০ এপ্রিল সন্ধ্যায়। তিনি জানালেন ২১ এপ্রিল দুপুর ২টার দিকে ফটোশ্যুট শেষে মুসাফির নিয়ে কথা বলবেন। যেই কথা সেই কাজ। যথা সময়ের আগেই হাজির। ঠিক ঘড়ির কাটায় যখন দুটা, তখন তার ফোন। জানালেন যমুনা ফিউচার পার্কের একটি নির্দিষ্ট স্থানের নাম। আর বললেন সেখানে তিনি অপেক্ষা করছেন। তবে তাকে খুঁজে পেতে সেরকম কোন বেগ পেতে হল না।

আরিফিন শুভ ইতিমধ্যে প্রায় ১২টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। তারমধ্যে জনপ্রিয়তার তালিকায় রয়েছে ‘অগ্নি’ ও ‘ছুঁয়ে দিলে মন’। এ দুটো ভিন্ন আঙ্গিকের ছবি। দর্শকের গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন তিনি। যার কারণে চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান তৈরি করার দৌড়ে বেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছেন। এদিকে গত ১৩ এপ্রিল ভোরে মালয়েশিয়া থেকে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবির কিছু দৃশ্যের শুটিং শেষ করে দেশে ফিরেছেন।

কথার শুরুতেই জানালেন, অল্প সময়ের মধ্যেই দ্রুত ছবি তুলতে হবে। এরপর ছবি নিয়ে কথা। আর সে অনুযায়ীই রথ চললো। দ্রুত ছবি তোলা শেষে মুসাফির প্রসঙ্গে কথা শুরু। শুভ বললেন-‘মুসাফির এর সবচাইতে জ্যাকপট হচ্ছে অ্যাকশন, এরকম অ্যাকশন ঘরানার সিনেমায় দর্শক এর আগে আমাকে কখনও দেখে নি। আমার চরিত্রের নাম সানি। এ ছেলেটার সাথে অবিচার হয়েছে। সে প্রতিশোধপরায়ণ। একটা ঘটনা বদলে দেয় তাকে। এভাবেই এগিয়ে যায় গল্প’।

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা বিষয়ে শুভ বললেন, ‘এ ছবিতে একটা দৃশ্য  আছে এমন- হিরো কারাগার থেকে বেরিয়ে আসছে। আমাদের পরিচালক সিদ্ধান্ত নিলেন সে দৃশ্যটি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনেই দৃশ্যধারণ করবেন। যে কোন কারণেই হোক আমাদের সেখানে শুটিং করার অনুমতি ছিল না। আমার যে গেটআপ ছিলো সেখানে কেউ আমাকে চিনতে পারছিলো না। পরিচালক সিদ্ধান্ত নিলেন গেরিলা স্টাইলে শুটিং করবে। আমাকে দেখা যাবে সঠিক সময়েই আমি শট দিয়ে বের হয়ে যাবো। আমরা সকাল সাতটার সময় সেখানে পৌঁছাই। কেউ কিছু জানেন  না। তিনটি গোপন ক্যামেরা সেখানকার বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়। এরপর পুলিশ সেটা দেখে ফেলে। আমাদের শুটিংয়ের সকল সরঞ্জাম নিয়ে তারা চলে যায়। যদিও তাদেরকে বিয়ষটি বোঝালে পরে তারা বুঝতে পারে। আমরা  শুটিং সেখানে সম্পন্ন করি’।

পাঠক আগেই বলেছি এ ছবিতে শুভর বিপরিতে দেখা মিলবে নবাগত মারজান জেনিফার। সহ-শিল্পীকে নিয়ে বলতে গিয়ে বললেন, ‘জেনিফার নবাগতা নায়িকা হিসেবে ভাল ছিলো । সে দারুণ কো-অপারেটিভ। তারমধ্যে সবচেয়ে দারুণ যে বিষয়টি ছিলো-সেটি হলো চেষ্টা’। এ ছবির অভিনেতা-অভিনেত্রী কিংবা টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে বেশিরভাগই তরুণ। বলা চলে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন তারা। শুভ বললেন, ‘অ্যাকশন, মেকিং স্টাইল এ বিষয়গুলো দর্শক আলাদাভাবে এ সিনেমায় দেখতে পাবে। আর আমি এবং পরিচালক দুজনই তরুণ। কাজটি ভাল হয়েছে কি না, তা তো  আর বলতে পারি না। দর্শক বলতে পারবেন। আমাদের টিমের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিলো ভাল কিছু করার।  তবে দর্শক কিভাবে গ্রহন করবে তা জানার জন্যে অপেক্ষা করছি’।

শুভ আরেকটু যোগ করে দিয়ে বললেন, ‘মুসাফির সিনেমার গানগুলোর কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হবে। এতে তাহসান ভাই অসাধারণ একটি গান গেয়েছেন। এমনটা তাহসানের কণ্ঠে আগে শোনা যায়নি বলে দাবি করেন শুভ। এ ছাড়া কোনাল, বেলাল খানের গানগুলো দর্শক-শ্রোতাদের ভালো লাগবে।’

এদিকে আরিফন শুভর শুরুটা হয়েছিল র‌্যাম্প মডেলিং দিয়ে। এরপর টিভি নাটক। তারপর বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয়। কয়েক বছর ধরে তার সবকিছুই চলচ্চিত্র ঘিরে। সবশেষে বড়পর্দায় এসে থিতু হলেন আরিফিন শুভ। এছাড়া একটি সিনেমার শুটিংয়ের সময় অন্য সিনেমার শুটিং করেন না শুভ। ক্যারিয়ারের জন্য ভিন্ন পন্থা হিসেবে দেখছেন বিয়ষটিকে? ‘আমাদের এখানে ফিল্মের বিষয়ে আলাদা কোন একাডেমি নেই। কিন্তু ভিন্ন কিছু করা কিংবা কাউকে দেখে কিছু করা সেদিক থেকে আমার মনোযোগের জায়গা থেকে একবারে কাজ শেষ করে  আরেকটি শুরু করা পক্ষে তিনি’। শুভ বলে রাখলেন, ‘এরমানে এই না সেটি ২০ দিন কিংবা ২৫ দিনেরে মধ্যেই শেষ করতে হবে। একবারে একটু সময় নিয়ে কাজ করে ফেললে মুড, কন্টেনিটি ভাল করা সম্ভব’।

চলচ্চিত্র নিয়ে বর্তমান সময়ে আশার চাইতে হতাশার কথাই বেশি শোনা য়ায়। তবে এত সহজে দমে যাওয়ার পাত্র নন তিনি। এর শেষ দেখে যেতে চান। যে কোন হোক নিজের অবস্থান থেকে চলচ্চিত্রকে কিছু দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেই এ মাধ্যমেই এসেছিলেন। ‘আমি চলচ্চিত্রকে সবকিছুর উর্দ্ধে দেখি। দেশটা তো আমার। ভাষাটা আমার। সংস্কৃতিটা আমার। আমার যে সম্পদ-আমি বেঁচে থাকলেই আমার ইন্ড্রাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। সরকার যদি হলগুলো ঠিক করার ব্যবস্থা না নেয় তাহলে যতটাকা খরচ করে সিনেমা বানানো হোক না কেন  দর্শক কি হলে ফিরবে? তারপরও আমি আশাবাদী থাকতে চাই। কোন না কোন সময়ে সরকার এ বিষয়ে হাত দিবেই’। বলছিলেন শুভ।

প্রসঙ্গক্রমেই শুভ আরেকটু যোগ করে বললেন, ‘আমি আমার জায়গা থেকে স্ট্যান্ট নিচ্ছি । সেটি অনেকটাই এমন- ‘আমি যেকোন গল্পে কাজ করছি না। যতই চাপ থাকুক না কেন? যতক্ষন পর্যন্ত আমি কনভেইন্স না থাকবো। যত প্রেসারই থাকুক না কেন! আমাদের এখানে কাজ করতে গিয়ে কত ধরনেরই চাপের সম্মুখীন হতে হয়। আমি ইচ্ছে করলেই সব কাজে হ্যাঁ কিংবা না করতে পারি না। অনেক সময় অনুরোধের ঢেঁকি গিলতে হয়। যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করছি না করছি গেলার’।

এছাড়া শুভ সম্প্রতি ‘মৃত্যুপুরি’ ছবির কাজ শেষ করেছেন। বর্তমানে  দীপঙ্কর দীপনের পরিচালনায় ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবির কাজ করছেন। এদিকে ১লা মে থেকে শুরু করবেন জাকির হোসেন রাজুর  পরিচালনায় প্রেমী ও প্রেমী ছবির কাজ। এরপর টাইগার মিডিয়া ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার আরও দুটি ছবির কাজ করবেন। অন্যদিকে মুক্তির তালিকায় মে মাসে রয়েছে অস্ত্বি ছবিটি। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অনন্য মামুন।




© Gournadi.com | Developed by Codeplate