মুক্তচিন্তা

আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র প্রতি খোলা চিঠি

ভাই,
শুরুতেই আমার সংগ্রামী ছালাম নিবেন। কেমন আছেন? আশাকরি কুশলেই আছেন। হ্যা জানি মানসিক ভাবে ভালো নেই আপনি। কারন যার যায়, সেই যানে হারানোর বেদনা। এই আগস্টেই আপনি হারিয়েছিলেন আপনার পিতা এবং আদরের ধন, মানিক রতন প্রিয় সন্তান সুকান্ত বাবু সহ পরিবারের অনেকেরে। কিন্তু ভাই, কি আর করার!! আপনি জানেন, আপনিই আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল। তাইতো সময় অসময়ে আমরা আপনার কাছেই ছুটে যাই আমাদের সকল সমস্যার সমাধান খুঁজতে। আর আপনিও আমাদের কখনো নিরাশ করেন না এবং দরজা বন্ধ করে রাখেন না। যদিও আপনার অজান্তে কিছু চাটার কারনে মাঝে মাঝে দরজা বন্ধ থাকে। কিন্তু আপনি যখন ধমকের সুরে কথা বলেন তখন চাটারা সেই দরজা আবার খুলে দিতে বাধ্য থাকে। কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না, চাটারা আজ আপনাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে!! আর সেটা জানানোর জন্যই আজকে আমার এই খোলা চিঠি লেখা আপনার প্রতি।

আমি জানি না আমার এই চিঠি আপনার দৃষ্টিগোচর হবে কিনা?? আল্লাহ্‌ কিনা পারে!! আল্লাহ্‌ সহায় থাকলে হয়তো আমার এই চিঠিটা আপনি পড়লেও পড়তে পারেন। আবার নাও পড়তে পারেন। কিন্তু তারপরও লিখছি এই ভেবে যে, আমিতো লিখেছি!! বাকি সব আল্লাহ্‌র ইছছা।

ভাই, আমরা (গৌরনদী বাসী) আলহামদুলিল্লাহ ভালোই আছি!! কারন আপনার মতো এমন অভিভাবক যাদের আছে তারা কি কখনো খারাপ থাকতে পারে। না, কখনোই না। ভাই, আমরা সবাই খেয়ে পড়ে মাশ আল্লাহ্‌ ভালোই আছি। কিন্তু অতীব দুঃখের সাথে আপনাকে আজ বলতে বাধ্য হচ্ছি, ভাই আমরা ভালো আছি ঠিকই, কিন্তু শান্তিতে নাই। আমরা বাইরে যাওয়ার আগে চিন্তা নিয়ে বাইরে যাই যে, আমরা কি আবার অক্ষত অবস্থায় ঘড়ে ফিরতে পারবো কি?? না!! ভাই আপনি জানেন?? আমার মনে হয় আপনি জানেন না যে, আমারা যখন ঘড়ের বাইরে আসি তখন আমাদের মা’য়েরা পথ পানে চেয়ে থাকে তার প্রিয় সন্তানটি কি বেঁচে আছে, নাকি মরে গেছে!! নাকি নেশার কালো ছোবোলে ডুবে গিয়ে আত্মহননে মগ্ন আছে!! ভাই, এমনো ঘটনা আছে যে, মেয়েটি কলেজে পড়তো এবং কলেজে পড়া কালীন সময়ে বিজয় দিবসের সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে মাইকে বাজানো বঙ্গবন্ধুর সেই জ্বালাময়ী ভাষণ শুনে মনে মনে কল্পনা করতো, আমিতো অতীব রক্ষনশীল পরিবারে জন্ম গ্রহন করার কারনে বঙ্গবন্ধুর মতো জয় বাংলা শ্লোগান দিতে পারবো না। কিন্তু আল্লাহ্‌ যদি কোনোদিন আমারে একটা সন্তান দেয় সেই সন্তানটির মুখে যেদিন আমি জয় বাংলা শ্লোগানটা শুনবো সেদিন ভেবে নেবো, আমার সন্তানই আমার হয়ে বঙ্গবন্ধুর মতো জয় বাংলা শ্লোগান দিতেছে। কিন্তু ভাই, সেই দিনের সেই কলেজ পড়ুয়া মেয়েটি বা ছেলেটি ঠিকই আজকে একটি সুন্দর ফুটফুটে সন্তানের বাবা-মা হয়েছে, কিন্তু তারা এখন কেমন জানি উল্টো ভাবতে শুরু করেছে!! ভাই জানেন সেই কলেজ পড়ুয়া সদ্য বাবা-মা হওয়া ছেলে-মেয়েটি এখন কি ভাবে?? তারা ভাবে আমার সন্তানটি যদি আজকে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান দেয় তাহলে হয়তো সে কোনো একদিন লাশ হয়ে যাবে, না হয় নেশার কালো থাবায় নিঃশেষ হয়ে যাবে। ভাই, তারা এটা নিয়ে ভাবে না যে, আমার সন্তানটি জয় বাংলা শ্লোগান দিলে, জয় বাংলা শ্লোগানের বিরোধীতা কারীদের দ্বারা লাশ হবে। তারা এটা ভেবে ঘুমের ঘোরেও জেগে যায় যে, তাদের প্রিয় সন্তানটি জয় বাংলা শ্লোগান ধারী একজন চাটার আঘাতে লাশ হয়ে যাবে, অথবা জয় বাংলা শ্লোগান ধারী একজন চাটার পৃষ্ঠপোষকতায় নেশার কালো ছোবলে নিঃশেষ হয়ে যাবে!!

ভাই, সারা বাংলাদেশের সবাই এবং বিশ্বের অনেক মানুষ জানে, আপনার মেধার কারনেই এবং রাজনৈতিক পরিপক্কতার কারনেই অশান্ত চট্রগ্রামে শান্তি ফিরে আসছিলো। সেদিন আপনি যদি বাংলাদেশের সেই অপরুপ সৌন্দর্যে মহিমান্বিত পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে না আনতে পারতেন, তাহলে হয়তো বাংলাদেশের পাহাড় আজো অশান্ত থাকতো। কিন্তু আপনি সেদিন বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছিলেন কিভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হয়। কিন্তু ভাই, আপনি জানেন কি, আপনার বাবা শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত যেই গৌরনদী কে ভালোবেসে জেলা বানানোর জন্য আপ্রান চেষ্টা করে গেছেন এবং বর্তমানে আপনি আপনার বাবার অসমাপ্ত কাজকে বাস্তবে রুপ দেয়ার জন্য প্রানপন চেষ্টা করে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই কিছু স্থানীয় চাটা এবং সুযোগ সন্ধানিরা শান্ত গৌরনদীকে আজ অশান্ত করার জন্য এমন কোনো ঘৃণিত কাজ নাই, যা তারা করে যাচ্ছে না। ভাই আপনি জানেন কি, বসন্তের কোকিলের মতো উড়ে এসে জুড়ে বসা কিছু বসন্তের চাটারা আজ রক্তের হলি খেলায় এমনভাবে মেতেছে যে, তারা এখন বিচার করতে পারে না যে, কোনটা লাল রং, আর কোনটা রক্ত!! তারা এখন রক্তকেও মনে করে বাজার থেকে কিনে আনা লাল রং।

ভাই, আপনি চাইতেছেন কিভাবে গৌরনদী-আগৌলঝাড়ার মানুষের জীবন মান উন্নত করা যায়। আপনি চাচ্ছেন কিভাবে গৌরনদীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে গৌরনদীকে জেলা বানানো যায়। কিন্তু ভাই, আপনি জানেন কি, কিছু চাটারা আজ গৌরনদীর মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেয়ার পায়তারা হিসেবে গৌরনদীকে মাদকের অভয়ারণ্যে পরিনত করার ষড়যন্ত্রে মত্ত হয়ে আছে?? ভাই কিছু চাটারা আজ আপনার নাম ভাঙ্গিয়ে প্রশাসনকে নিজেদের পকেটের রুমাল বানিয়ে সেই রুমাল গৌরনদীর তরুন সমাজের মাথায় বেধে দিয়ে বলতেছে, যাও এখন আর রোদ, বৃষ্টির ভয় নাই। এখন যত পারো ততো ঘুরে বেরাও খোলা আকাশের নিচে। আর সেই সুযোগে গৌরনদীর তরুন সমাজ ভেসে যাচ্ছে মাদক নামের বানের পানিতে!!

ভাই, আরো লিখতে মনে চাইতেছে!! ভাই’র কাছে ভাইয়ের লেখার কি শেষ আছে!! ভাই আপনি হয়তো জানেন না, গৌরনদীর মানুষ আপনাকে কতোটা ভালোবাসে!! ভাই, আমি দেখেছি!! হ্যা ২০০১ এর পর আপনার জন্য অনেক মানুষ কেঁদেছে আর বলেছে ১৯৯৬-২০০১ সময়ে আপনি গৌরনদী বাসীর জন্য যা করেছেন, যা আপনার আগে আর কেউ করতে পারে নাই। আপনার হয়তো এখন মনে প্রশ্ন জাগতে পারে তাহলে ২০০১ এর নির্বাচনে আমি কেনো পরাজিত হইলাম!! ভাই, আপনি যদি ছদ্মবেশে বের হন, তাহলে দেখতে পারবেন তারা আপনার খারাপ কিছু বলে না। হ্যা তারা এটা বলে, হাসানাতরে খাইলো কিছু চাটারা। যেই চাটারা আপনার নাম ভাঙ্গিয়ে এমন কোনো অপকর্ম নাই যা তারা করে নাই। আর সেই চাটারাই সব সময় দরজা বন্ধ করে রাখতো আর বলতো ভাই এখন ঘুমিয়ে আছে, তারে বিরক্ত করা যাবে না। অথচ আপনি কিনা অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে আছেন সেই অবহেলিত নিপীড়িতদের কথা শোনার জন্য!!

ভাই সেই চাটারা কিন্তু এখন আবার মাথাচারা দিয়ে উঠছে!! হয়তো আপনাকে সেটা সেই চাটারা বুঝতে দিতেছে না। ভাই, আপনি জানেন কি? জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশকে ডিজিটাল করার সুবাদে আজকে আমরা সবাই সবার কাছাকাছি হয়ে গেছি। পৃথিবীর যে যেখানেই থাকুক না কেনো আমরা আজ সবাই সবার সুখ দুঃখ গুলোকে ভাগাভাগি করতে পারি!! ভাই, গৌরনদীর অনেক বিএনপি সমর্থকরাও আজ বলাবলি করতেছে, গৌরনদী’র বর্তমান রাজনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশ গত অবস্থা নিয়ে তারাও বিব্রত!! কিভাবে তারা বিব্রত?? ভাই আমরা যারা প্রবাসে থাকি, অথবা অনলাইনে অন্য এলাকার কারো সাথে আমাদের প্রিয় গৌরনদী নিয়ে কথা বলি তখন আমরা সবাই ভুলে যাই কে বিএনপি কে আওয়ামীলীগ, আমরা তখন মনে করি আমরা সবাই গৌরনদী’র!! আর যখন আমরা শুনি, আজকে মাদকের কারনে একটা ছেলে খুন হইছে, তখন আমরা সেই চট্রগ্রামের মানুষের কাছে হাসির পাত্র হয়ে যাই। চট্রগ্রামের সেই ব্যাক্তিটি তখন ভাবে না যে আমি কি আওয়ামীলীগ, নাকি বিএনপি!! তখন সে আঙুল উচিয়ে বলে, দেখ দেখ এটা আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর গৌরনদীর মানুষ!! তাদের এলাকায় এতো অশান্তি, অথচ তারা আবার আমাদের চট্রগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে বড় বড় কথা বলে!! ভাই, তখন কার মাথা ঠিক থাকে বলেন??

ভাই, অনেক লিখে ফেলেছি। আশাকরি ক্ষমা সুলভ চোখে দেখবেন। ভাই, এই আগস্টে ভালো থাকতে বল্লেও জানি ভালো আপনি থাকতে পারবেন না। তবুও ছোটো ভাই হিসেবে আপনার মঙ্গলময়, সু-স্বাস্থ্য, সুন্দর জীবন এবং দীর্ঘায়ু কামনা করছি। আল্লাহ্‌ হাফেয।

– ইতি আপনার ছোটো ভাই নোবেল উদ্দিন


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply