গৌরনদীকে জেলায় উন্নীত করণের নানা কারণ

খোকন আহম্মেদ হীরা ॥ বরিশাল সদর উত্তর মহাকুমা, দক্ষিণাঞ্চলের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্মৃদ্ধ ও রাজনৈতিক সচেতন বলেখ্যাত বরিশালের গৌরনদীকে জেলায় উন্নীত করণের প্রথম স্বপ্ন দেখেছিলেন সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাত।

গৌরনদীকে জেলায় উন্নীত করণের লক্ষ্যে জেলা সদরে যেসব অফিস থাকা প্রয়োজন তৎকালীন মন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাত তা গৌরনদীতে স্থাপন করেছেন। পাঁচ থানা পুলিশের হেডকোয়ার্টার সহকারি পুলিশ সুপারের অফিস, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় অফিস, বন বিভাগের উপ-বিভাগীয় অফিস, বিদ্যুৎ বোর্ডের অফিস, তাঁত বোর্ড অফিস তিনি গৌরনদীতে স্থাপন করেছেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভয়াল কালো রাতে ঘাতকদের নির্মম বুলেটে তিনি (আব্দুর রব সেরনিয়াবাত) শহীদ হওয়ার পর থেকেই স্থিমিত হয়ে যায় এ স্বপ্ন।

১৯৮১ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গৌরনদীকে জেলায় উন্নীত করণের পদক্ষেপ গ্রহন করেন। কিন্তু রহস্যজনক কারনে তার উদ্যোগ ভেস্তে যায়। প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতা গ্রহনের পর মন্ত্রী পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দেশের সবকটি মহাকুমাকে জেলায় রূপান্তরিত করলেও দুরভাগ্যক্রমে বরিশাল সদর উত্তর মহাকুমা গৌরনদী তৃতীয়বারের মতো বাদ পরে যায়। জেলার জন্য চতুর্থবারের মতো দাবি ওঠে ১৯৯১ সালে। কিন্তু তাও আর আলোর মুখ দেখেনি।

১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর তিনি গৌরনদীকে জেলায় উন্নীত করনের প্রথম পদক্ষেপ স্বরূপ গৌরনদী পৌরসভা গঠন করেন। তিনি তার পিতা শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের স্বপ্নকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গৌরনদীতে ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন, পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস, ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, বিভাগীয় বেবী হোমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেন।
২০০০ সালে তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরিশাল সফর উপলক্ষে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম, মন্ত্রণালয়, জেলার বিভিন্ন অফিস-আদালতসহ সর্বত্রই গুঞ্জন উঠেছিলো গৌরনদী জেলা হচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ করে সে গুঞ্জনও থেমে যায়। তখন শোনা গিয়েছিলো অর্থ সংকটের কারনে গৌরনদীকে জেলায় উন্নীত করা হয়নি।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে চারদলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের নির্বাচনী জনসভায় (সরকারি গৌরনদী কলেজ মাঠে) প্রধান অতিথির ভাষনে বেগম খালেদা জিয়া গৌরনদীকে জেলায় রূপান্তরিত করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। ওই জনসভায় সাবেক মন্ত্রী সুনীল গুপ্ত জেলার দাবি তুললে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, আপনারা আমাকে এমপি উপহার দিন, আমি আপনাদের জেলা উপহার দিবো। গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার জনগন ওইসময় খালেদা জিয়াকে এমপি উপহার দিলেও ক্ষমতায় গিয়ে তিনি (খালেদা জিয়া) জনগনের দাবি পূরন করেননি।

সূত্রমতে, ভৌগলিক দিক থেকে গোপালগঞ্জ জেলার পূর্ব সীমান্তে, মাদারীপুর জেলার দক্ষিণ, বরিশাল বিভাগীয় শহরের উত্তর সীমান্তে ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার মুখে ১৪৭.৮৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনে গৌরনদী উপজেলার অবস্থান। বরিশালের বাবুগঞ্জ, উজিরপুর, মুলাদী, আগৈলঝাড়া ও মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার মধ্যবর্তীস্থানে গৌরনদী অবস্থিত। অতি প্রাচীণকাল থেকেই শিক্ষা-সাংস্কৃতিক, ইতিহাস-ঐতিহ্যে গৌরনদীর সুনাম-সুখ্যাতি দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পরে। এখনো তা বিদ্যামান রয়েছে। এখানে গড়ে উঠেছিলো উন্নত জনপদ। তাই মোগল যুগে ইসলাম প্রচারক খানজাহান আলী ও ইয়েমেনের বাদশার পুত্র হযরত মল্লিক দূত কুমার পীর সাহেব বরিশাল ও ফরিদপুর অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করতে এসে গৌরনদীতে অবস্থান নিয়েছিলেন। তারা এ অঞ্চলে স্থাপন করেছেন বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, দীঘি ও সরাইখানা। এখানে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী আল্লাহর মসজিদ, কমলাপুর মসজিদ, হিন্দু ধর্মাবোলম্বীদের তীর্থস্থান বার্থী তাঁরা মায়ের কালী মন্দির, মাহিলাড়ার সরকার মঠ, সমাজ সেবক ছবি খাঁর হুজরা, পলাশীর যুদ্ধের দূর্গ ও কামান, শতিদাহ মঠসহ অসংখ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

শেয়ারঃ

3 মন্তব্য

  1. আমি চাই গৌরনদীকে জেলায় উন্নীত করা হউক । এতে গৌরনদী এলাকার মানুষের অনেক উপকার হবে ।

মন্তব্য করুন