মুক্তচিন্তা

কেন গৌরনদীকে জেলা হিসেবে দেখতে চাই?

গৌরনদীকে জেলা হিসেবে দেখতে চাওয়ার দাবী আজ নতুন কিছু নয়। স্বাধীনতার পর থেকেই এই দাবী করা হয়ে আসছে। অত্র এলাকার জনগণের দাবীর প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ১৯৭৫ সালের ১ ই জানুয়ারি গৌরনদীতে এক সমাবেশে উক্ত আসনের তৎকালীন মন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাদ এর উপস্থিতিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গৌরনদীকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করবেন।

অবশ্য ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে বিষয়টা আর বেশিদূর এগোয়নি। তারপরে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পাল্টানোর সাথে সাথে পাল্টে যেতে থাকে অত্র অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য, ফিকে হতে থাকে গৌরনদীকে জেলা হিসেবে দেখার স্বপ্ন।

স্বপ্ন বলে কথা, আমরা এখনও স্বপ্ন দেখে চলেছি। আমাদের গৌরনদী অনেক আগে থেকেই মহকুমা ছিল। স্বাধীনতার আগে অত্র এলাকা জুড়ে শুধুমাত্র ২ টা জেলা ছিল ( বরিশাল-১৭৯৭ ও পটুয়াখালী- ১৯৬৯ )।

১৯৮৪ সালে যখন সব মহকুমাগুলোকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হল তখনও গৌরনদীকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

১৯৮৪ সালে এরশাদ সরকার বরিশাল জেলাকে ভেঙে ৫ টা জেলাতে ভাগ করলো ( বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি ও ভোলা ) অথচ গৌরনদীকে মহকুমা থেকে ডিমোশন দিয়ে উপজেলা বানিয়ে রাখা হলো।

 

কেন আমরা গৌরনদীকে জেলা হিসেবে দেখতে চাই ?

  • দেশের অন্যান্য মহকুমাগুলো ইতোমধ্যে জেলা হয়ে গেছে। আমরা গৌরনদী মহকুমাকে জেলা হিসেবে দেখতে চাই।
  • ১৯৭৫ সালের ১ই জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান কথা দিয়েছিলেন যে গৌরনদীকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হবে, তাই আমরা এখনও আশায় বুক বেধে আছি।
  • বরিশালের ৫ টি পৌরসভার ( গৌরনদী, বাকেরগঞ্জ, মেহেন্দিগঞ্জ, বানরীপাড়া ও উজিরপুর ) মধ্যে আমাদের গৌরনদী পৌরসভার অবস্থান জনসংখ্যায় ১ম ও আয়তনে ২য় ও “ক” শ্রেণীভুক্ত।
  • আমাদের গৌরনদীর টরকী বন্দর বরিশাল জেলার ভীতর সবচেয়ে বড় স্থল বন্দর। বাণিজ্যিক, ভৌগলিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে উক্ত অঞ্চলটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

 

গৌরনদীকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করলে সুফল?

  • গৌরনদীতে সকল মন্ত্রণালয়ের অফিস খোলা হবে, নতুন অফিস আদালত তৈরি হবে ।
  • নবগঠিত জেলাকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন শিল্প কারখানা তৈরি হবে, এলাকার মানুষের অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, ফলে অত্র এলাকার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে ।
  • নবগঠিত জেলার উন্নয়নের জন্য জেলা পরিষদ নতুন ও স্বতন্ত্র বাজেট পাশ করবে, ফলে অত্র এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে ।
  • নবগঠিত জেলাকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন মান সম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে ফলে, অত্র এলাকার মানুষজন শিক্ষা-দীক্ষা ও জ্ঞান- বিজ্ঞানে এগিয়ে যাবে।
  • অত্র এলাকার জায়গা জমির দাম বৃদ্ধি পাবে।
  • দেশকে যতগুলো ক্ষুদ্র ইউনিটে ভাগ করে দেয়া যাবে, ঐ ক্ষুদ্র ইউনিটকে কেন্দ্র করে তার উন্নয়ন আরও বেশি ত্বরান্বিত হবে, এই পদ্ধতি এখন সর্বজন স্বীকৃত।

উপরের আলোচনাগুলোর মাধ্যমে অত্র অঞ্চলের সকলের চাওয়া পাওয়ার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে কিনা তা বিবেচনা করার দায়িত্ব আপনাদের। উল্লেখিত কথাগুলো খুবই কম লোকজনের সাথে কথা বলে উঠে আসা ইনফরমেশনের ভিত্তিতে লেখা।

শুনেছি গৌরনদীকে জেলা বাস্তবায়নের জন্য নাকি “গৌরনদী জেলা বাস্তবায়ন পরিষদ” নামের একটা প্রতিষ্ঠান আছে। তারা কি আদৌ একটিভ কিনা জানিনা, তারা এই স্পর্শকাতর ইস্যুটা নিয়ে কি কাজ করছে তা আমার বোধগম্য নয়।

বৃহত্তর গৌরনদীবাসিদের প্রাণের দাবী বাস্তবায়নের লক্ষে আমরা ভবিষ্যতে কি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করলে ভালো হয় বা আমরা কীভাবে দাবীটিকে সামনে নিয়ে এগুতে পারি সে বিষয়ে সবাই উপদেশ দিলে কৃতজ্ঞ হব।

যদি উপরোক্ত আলোচনার সাথে কেউ একমত হয়ে থাকেন তাহলে শেয়ার করে আমাদের দাবীকে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে আমাদের দাবীকে আরও জোরালো করুণ।

 

মোহাম্মাদ টিপু সুলতান

ফেসবুক গ্রুপ : গৌরনদী জেলা বাস্তবায়ন আন্দোলন


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply