মুক্তচিন্তা

দাসত্ব!

না, ২০০ বা ১০০ বছর আগের ঘটনা নয়।

২০১৪ সালের হিসাবে সারা বিশ্বের সাড়ে ৩ কোটি মানুষ দাসত্বের স্বীকার।

ভারতের ১.১% মানুষ দাসত্বের বন্ধনে আটকে আছে।

বাংলাদেশেও এর সংখ্যা কম নয়, আমাদের দেশেও লাখ লাখ লোক দাস হয়ে আছে।

দাসত্বের প্রথা কেবল বর্বর অসভ্য দেশেই নয়, চালু আছে আমাদের দেশেও। কীভাবে?

নিজের বাসার দিকেই তাকান। কোনো শিশুকে দুই পেট কিংবা এক বেলা খাবার বিনিময়ে কি করে রেখেছেন ভৃত্য? পানি আনানো, অমুক তমুক সব কাজের ভার দিয়েছেন চাপিয়ে? কিংবা নিজের শিশুর ব্যাগ টানাবার জন্য আরেকজন শিশুকে লাগিয়ে দিয়েছেন কাজে?

ভাবছেন, এক মুঠো ভাত দিয়ে কৃতার্থ করে দিয়েছেন, কতো মহত আপনি, না খেতে পাওয়া কাউকে তো বাঁচাচ্ছেন, তাই না? আহা, কত দয়ার শরীর আপনার, তাই না?

বাংলাদেশের ৪ লাখের বেশি শিশু (৫-১৭ বছরের) আজ বাড়িতে কাজের ছেলে/মেয়ে হিসাবে কাজ করে। তার মানে বাংলাদেশে দাসত্ব প্রথা চালু করে রেখেছে অন্তত ৪ লাখ পরিবার। আপনার, বা আপনার আত্মীয়, বন্ধু, স্বজন, এরা সবাই, বা কেউ না কেউ এই আধুনিক দাস মালিকদের তালিকায় পড়ে, তাই না?

একটি শিশুকে দাস করে রাখা মহত্ব নয় — তার মৌলিক অধিকার, শিক্ষা, বেড়ে ওঠা — এসবের বদলে আপনি যদি তাকে ফাই ফরমাশ খাটাতে লাগান, তবে আপনি মহৎ নন, বরং নিন্দিত ঘৃণিত দাস মালিকদের সাথে আপনার আদৌ পার্থক্য নাই কোনো।

এ নিয়ে আগে লেখার সময়ে অনেকে তেড়ে এসেছেন নিজেদের মহত্ব নিয়ে, কত বাচ্চাকে ভাত দিয়ে খাটিয়ে খাটিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন, সেই ফিরিস্তি নিয়ে। কিন্তু তাঁদের মাথায় এটা ঢোকেনা, এই কাজটার সাথে দাসত্বের কোনোই পার্থক্য নাই। বাড়ির কাজের শিশুরা, ভাতের বিনিময়ে সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত যে খাটুনি খাটানো হয় তাদের, সেটা কেবল “কাজের ছোকরা” বা “কাজের মেয়ে” এই ছদ্ম নামে দাসত্বের আধুনিক প্রকাশ মাত্র।

দাসত্বের অবসান হোক, শিশু শ্রমের অবসান হোক, বাচ্চাদের ঘরের কাজে লাগানোর অসভ্য বর্বর প্রথাটি বন্ধ হোক।

সেটা শুরু করেন আপনার ঘর থেকেই।

আজকেই।

লিখেছেন : রাগিব হাসান


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply