লাইফ ও সাইন্স

বহু গুণের গুনি থানকুনি

শহরাঞ্চলে তেমন পরিচিত না হলেও গ্রামের দিকে অহরহ দেখা মেলে থানকুনির। অঞ্চলভেদে এটি টেয়া, মানকি, থানকুনি, আদামনি, ঢোলামানি, থুলকুড়ি, মানামানি, ধূলাবেগুন, আদাগুনগুনি নামে পরিচিত। থানকুনির ইংরেজি নাম Indian Pennywort, ল্যাটিন নাম Centella asiatica এবং বৈজ্ঞানিক নাম Centella asiatica Urban।

বাড়ির আনাচে-কানাচে, রাস্তার পাশে, পুকুরপাড় এবং মাঠে স্যাঁতস্যাঁতে জায়গাগুলোতে থানকুনির দেখা মেলে। গাছটি ক্ষুদ্র লতাজাতীয় গাছ। পাতার ধারে খাঁজ রয়েছে।

বাংলাদেশের সব জায়গাতেই থানকুনির দেখা পাওয়া যায়। বসন্তকালে থানকুনি লতার ফুল আসে এবং গ্রীষ্মকালে ফল পাকে। বীজের মাধ্যমে ও অঙ্গজ জনন উভয়ভাবেই থানকুনির বংশবিস্তার হয়। প্রতিটি গিট বা node থেকে শিকড় বের হয় এবং শিকড়সহ লতা এনে আর্দ্র মাটিতে রোপন করলেই থানকুনি জন্মে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে এটি আর্দ্র মাটিতে জন্মালেও জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। হজমের সমস্যা মানেই থানকুনি – থানকুনির বহুল ব্যবহার ঠিক এখানেই। কতকাল ধরে যে এই গাছ ব্যবহৃত হচ্ছে, তার সঠিক কোনো হিসেব নেই।

অথর্ববেদের ভাষ্য থেকে জানা যায়, দেবরাজ ইন্দ্র নাকি এই গাছের ভক্ত ছিলেন। সনাতনী ভারতবর্ষে এই গাছটির নাম ছিল ‘তাষ্ট্রী’। পরবর্তী আচার্যদের মতে এই গাছের অপর নাম মণ্ডূকপর্ণী। এবং এখান থেকে আধুনিক চলতি নামের উত্‍পত্তি – ‘থুলকুড়ি’ বা ‘থানকুনি’।

আয়ুর্বেদে থানকুনির গুণের কথা বারবার স্বীকার করা হয়েছে। দেহের ক্লান্তি ও বয়সের ছাপ দূর করে লাবণ্য ও কান্তি ফিরিয়ে আনতে থানকুনির রস অব্যর্থ। ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস একটু গরম করে এক কাপ গরম দুধে মিশিয়ে খেতে পারেন। যাদের চুল পড়ে, এভাবে নিয়মিত খেলে তাদের চুল পড়াও বন্ধ হয়ে যাবে।

যারা দৃষ্টিকটুভাবে রোগা, তাদের শরীরে অন্য কোনো সমস্যা না থাকলে তারাও উপকার পাবেন। যাদের অস্বাভাবিক ঘাম হয় তারাও দীর্ঘ মেয়াদে একই উপায়ে থানকুনি পাতার রস খেলে উপকৃত হবেন।

ভেষজ চিকিত্‍সায় অনেক ক্ষেত্রে স্মরণশক্তি বাড়াতে থানকুনি পাতার রস খাওয়ার বিধান দেওয়া হয়। তবে এ সময় তেল-মশলাযুক্ত খাবার খেতে মানা করা হয়। সাধারণত মুখের ঘা সারাতেও থানকুনির গরম রস দিয়ে গার্গল করলে ঘা সেরে যায়। এছাড়াও থানকুনির আরো বহু লোকায়ত ব্যবহার রয়েছে।

ছবিঃ ইন্টারনেট
তথ্যসূত্র: Herminia de Guzman-Ladion, Healing Wonders of Herbs, 1985


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply